অপরাধ বাড়ছে ত্রিপুরায়, বলছে পরিসংখ্যান

২০১৭ সালে বিধানসভা ভোটের সময় অপরাধের সংখ্যা ছিল ১৫৮৯টির। পরে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের আমলে ২০১৮ সালে ২৪৫৬টি ও ২০১৯ সালে ২১৪৬টি অপরাধ ঘটে।
অপরাধ বাড়ছে ত্রিপুরায়, বলছে পরিসংখ্যান
ত্রিপুরার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সরকারফাইল ছবি সংগৃহীত

গোটা দেশের মতোই অপরাধ ক্রমশ বাড়ছে রাজ্যে। তবুও আগরতলায় নাকি অপরাধের হার নিম্নমুখী। এমনটাই দাবি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথের। কিন্তু ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর রিপোর্ট অন্য কথা বলছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালে রাজ্যে ৯৭২টি মহিলা সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭০-এ। যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর হিসেবে দ্বিতীয়। ২০১৭ সালে বিধানসভা ভোটের সময় অপরাধের সংখ্যা ছিল ১৫৮৯টির। পরে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের আমলে ২০১৮ সালে ২৪৫৬টি ও ২০১৯ সালে ২১৪৬টি অপরাধ ঘটে।

বিজেপি ও আইপিএফটি জোট ক্ষমতায় আসার পর কিডনি পাচারের গল্প চালু হয়। গণপিটুনির মতো ঘটনাও ঘটে। পুলিশের সামনে একজন তবলা শিক্ষককে মেরে ফেলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। শুধু তাই নয়, ছেলেধরা আখ্যা দিয়ে তিন মহিলাকে গণপিটুনি দিয়ে বেঁধে ফেলার ঘটনা ঘটে। এছাড়াও বধূকে পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনাও ঘটে। কিন্তু কোনও ঘটনারই কোনও বিচার হয়নি। পাশাপাশি বেড়েছে খুন, রাহাজানির মতো নৃশংস ঘটনা।

এই হিসেব পুরোটাই যারা কিনা সাহস করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সেই সংখ্যার ভিত্তিতে করা হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ সাহস করে অভিযোগ জানাতে পারেন না অথবা মামলা নেওয়া হয় না। ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার বা রাস্তার ধারে পড়ে থাকা দেহ সবকিছুই পুলিশ আত্মহত্যার ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে চায়।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দল সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে - এখনও পর্যন্ত ১৯ জন দলীয় কর্মীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ প্রত্যেকটি ঘটনাকে পারিবারিক বিবাদের জেরে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে একইসঙ্গে শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর অত্যাচারের কথা প্রায় সংবাদপত্র খুললেই চোখে পড়ে। যদিও এখনও ২০২০ সালের কোনও রিপোর্ট প্রকাশ পায়নি। বিরোধী দলনেতা এমনকি বিরোধী দলের বিধায়করা কেউ নিজেদের এলাকায় ঢোকার মতো সাহস পান না। কিন্তু তা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই মুখ্যমন্ত্রীর।

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in