Bangladesh: তিন শিক্ষার্থীকে শোকজের প্রতিবাদে উপাচার্যকে পাল্টা শোকজ - আন্দোলনে ছাত্র সংগঠন

এই ঘটনায় পিপলস রিপোর্টারের প্রতিনিধির সাথে কথা হয় শোকজ হওয়া শিক্ষার্থী আশরাফি নিতুর। নিতু জানান, ‘পরীক্ষাকালীন পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে আমরা একটা মানববন্ধন স্মারকলিপি করছিলাম।
Bangladesh: তিন শিক্ষার্থীকে শোকজের প্রতিবাদে উপাচার্যকে পাল্টা শোকজ - আন্দোলনে ছাত্র সংগঠন
তিন শিক্ষার্থী বহিষ্কারের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এর সামনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশছবি - জি কে সাদিক

বাংলাদেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) গত ৭ সেপ্টেম্বর তিন শিক্ষার্থীকে শোকজ করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারকে পাল্টা শোকজ করেছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক’ নামের একটি সংগঠন। শিক্ষার্থী নেটওয়ার্কে পক্ষ থেকে কেন তিন শিক্ষার্থীর শোকজ নোটিশ অবৈধ হবে না এবং কেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাংবিধানিক অধিকার হরণ, গণতান্ত্রিক চর্চায় বাধা দান ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হবে না তা জানতে চেয়ে পাল্টা শোকজ করা হয়। গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রেরিত নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে জবাব দানের জন্য ৭ কার্যদিবস সময় ধার্য্য করা হয়।

শোকজকৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন - চবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশরাফি নিতু, অর্থনীতি বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাজেশ্বর দাস ও ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শিহাব। এর মধ্যে নিতু চবি ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজেশ্বর ও শিহাব গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সক্রিয় কর্মী।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ সেপ্টেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকালে পরীক্ষা চলাকালীন যাতায়াতের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবিতে পদযাত্রা করেন। পরে অবিলম্বে শাটল ট্রেন কিংবা বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেন তারা। এই পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী মিটন চাকমা নামের এক আদিবাসী ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে এমন তিন জনের নামে জোর করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে আন্দোলন করানোর অভিযোগ তুলে মিটন চাকমার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করে লিখিত নেন প্রোক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

পরে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদেরকে জোর করে আন্দোলনের আনার অভিযোগে কেন তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিবে না এই মর্মে গত ৭ সেপ্টেম্বর একটি শোকজ নোটিশ দেয়।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্দোলন, সরকারের বিরোধিতা কিম্বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অযৌক্তিক কাজের সমালোচনা বা বিরোধিতার জন্য ছাত্র বহিষ্কার, শোকজ করা, মানসিক শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা নতুন কিছু না। বলতে গেলে প্রতিনিয়তই এমন ঘটনা ঘটে। কিন্তু শিক্ষার্থী বহিষ্কার বা শোকজের ঘটনায় সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্যকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জবাবদিহিতার জন্য পাল্টা শোকজ করার ঘটনা এই প্রথম ঘটেছে।

বহিষ্কার হওয়া তিন শিক্ষার্থী। বাম থেকে আশরাফি নিতু, রাজেশ্বর দাশগুপ্ত ও শাহ মোহাম্মদ শিহাব।
বহিষ্কার হওয়া তিন শিক্ষার্থী। বাম থেকে আশরাফি নিতু, রাজেশ্বর দাশগুপ্ত ও শাহ মোহাম্মদ শিহাব।ছবি - জি কে সাদিক

‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক’ মূলত বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি প্লাটফর্ম। গত জানুয়ারি মাসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনায় প্রতিবাদে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে উঠা একটি প্লাটফর্ম। পরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক হয়রানির প্রতিবাদে প্রথম কার্যক্রম শুরু করে। এই প্লাটফর্ম থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ছাত্র-শিক্ষক নিপীড়নের যে কোন ঘটনার প্রতবাদে কর্মসূচি পালন করা হয় এবং নির্যাতিতদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় দেশের ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি যৌথভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যকে পাল্টা শোকজ করে। অভিনব এই প্রতিবাদ বাংলাদেশে এই প্রথম।

এই ঘটনায় পিপলস রিপোর্টারের প্রতিনিধির সাথে কথা হয় শোকজ হওয়া শিক্ষার্থী আশরাফি নিতুর। নিতু জানান, ‘পরীক্ষাকালীন পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে আমরা একটা মানববন্ধন স্মারকলিপি করছিলাম। শোকজের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মানববন্ধনে প্ররোচনা দিয়ে আসতে বাধ্য করা। আন্দোলনের ধরণ ছিল একেবারেই অহিংস। সেদিনের কর্মসূচি ছিলো মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ। গত ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় আমাদেরকে শোকজ করে। আমরা ইতোমধ্যে তার জবাব দিয়েছি। প্রশাসন বলেছে পরবর্তীতে তারা অভিযোগসহ আমাদের দেওয়া এই উত্তর খতিয়ে দেখবে। কতদিন নাগাদ এই প্রক্রিয়া চলবে এটা নিশ্চিত করে নাই।’

শোকজের এই ঘটনাকে স্বৈরাচার আচরণ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন আচরণে আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শাটল (ট্রেন) বা বাস না থাকার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সকল শিক্ষার্থীরা। যেখানে সমস্যা নিজ দায়িত্বে সমাধানে এগিয়ে আসা উচিৎ প্রশাসনের, সেখানে তারা উল্টো অঙ্গীকারনামা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজ অধিকারের দাবি জানাতেও দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগকারীকে সেদিন প্রোক্টর অফিসে আটকে রাখা হয়েছিলো এই অঙ্গীকারনামার জের ধরেই৷ প্রশাসনের এমন আচরণ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করে না বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশে পচন ধরায় ধীরে ধীরে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পাল্টা শোকজের বিষয়ে পিপলস রিপোর্টারের সঙ্গে কথা হয় ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক'র অন্যতম সংগঠক ফাহিম আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে। ফাহিম জানান, সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সম্মিলিত প্লাটফর্ম। সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা অগণতান্ত্রিক, স্বেচ্ছাচরী ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ছাত্র সংগঠকরা অনুভব করছিলেন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত নেটওয়ার্ক প্রয়োজন৷ সেই ভাবনা থেকে গত জুলাই মাসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক হয়রানীর ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক যৌথভাবে বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্লাটফর্মের কাজ শুরু করে। যার ধারাবাহিকতায় আমরা সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে মিথ্যা অভিযোগে শোকজের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পাল্টা শোকজ করছি৷ সম্ভবত এটাই বাংলাদেশে প্রথম ঘটনা যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শোকজ করেছে৷ অনেকে জিজ্ঞেস করেছেন আমরা কি এভাবে ভিসিকে শোকজ করতে পারি?

‘আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় সর্বজনের প্রতিষ্ঠান৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোন অন্যায় সংগঠিত হলে তার প্রেক্ষিতে যেকোন নাগরিকের কাছে জবাবদিহি করার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি একটি সর্বোচ্চ শিক্ষাকেন্দ্রে থাকা উচিত৷ তাছাড়া এই শোকজ আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসাবে করেছি৷’ বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।ছবি - জি কে সাদিক

গত মাসে এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুরলের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয় ছাত্রলীগ এবং তাকে নানাভাবে হয়রানি ও তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার কাজ করে সংগঠনটি। তখন কেন শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেনি এমন প্রশ্ন করা হলে ফাহিম বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসের যেকোন নিপীড়ন, নির্যাতন, অন্যায়, অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পক্ষে সাধ্যানুযায়ী প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি৷ ঢাবি শিক্ষক আসিফ নজরুলের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার রুদ্ধ করতে ছাত্রলীগের প্রতিক্রিয়াশীল আচরণকে আমরা নীতিগত অবস্থান থেকে নিন্দা জানাই। প্লাটফর্মের অনেক সংগঠক ব্যক্তিগত অবস্থান থেকেও এর প্রতিবাদও জানিয়েছেন। কিন্তু প্লাটফর্ম হিসাবে নতুন হওয়ায় তখন তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যৎ এধরণের ঘটনায় আমরা অবশ্যই প্রতিবাদের চেষ্টা করব৷ আবার আমরা নিজেদের কর্মপরিধি বাড়ানোর চেষ্টাও করব।’

যদি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শোকজের জবাব না দেয় তাহলে পরবর্তীতে কী করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র এই শোকজের মধ্যে দিয়ে আমাদের প্রতিবাদ শেষ হবে না। যদি চবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের সদুত্তর না পাই, এবং তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনরূপ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে আমরা শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে আরো বৃহৎ পরিসরে আন্দোলন পরিচালনা করব।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকছবি - জি কে সাদিক

কী ছিল শিক্ষার্থী নেটওয়ার্কের শোকজপত্রে

গত ১১ তারিখ শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে যে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে কী ছিল সেই শোকজ পত্রে তা পিপলস রিপোর্টারের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

শোকজপত্রে বলা হয়েছে, ‘আমরা সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্লাটফর্ম ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক’ এর পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত কতিপয় সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা, তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের মধ্য দিয়ে কতিপয় গুরুতর অপরাধ সংগঠিত করা হয়েছে।’

চবি প্রশাসনের এহেন কর্মকাণ্ড নজীরবিহীন এবং চরম স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে আরও বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও পরিবহন নিশ্চিত করে পরীক্ষা গ্রহণ করা বিশ্ববিদ্যারয়ের দায়িত্ব। তা না করে উপরন্তু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বন্ড সই আদায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও স্বাধীন অভিব্যাক্তি প্রকাশের অধিকারকে রুদ্ধ করা হয়েছে। যা সংবিধানের ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে একজন শিক্ষার্থীর সভা সমাবেশ ও স্বাধীন মত প্রকাশের মৌলিক অধিকারকে হরণ করে। ফলে প্রশাসনের এরূপ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত মাত্রায় অগণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং অবৈধ তৎপরতা বলে আমরা মনে করি।’

চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মুচলেকা নিয়ে তিন ছাত্রকে শোকজ করাকে ফৌজদারী অপরাধ আখ্যা দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ‘গত ৭ সেপ্টেম্বর সংবাদ মাধ্যম ‘চট্টগ্রাম প্রতিদির’এ দেয়া এক বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জনাব রবিউল হাসান ভূঁইয়া দাবি করেন, মিটন চাকমা নামক এক শিক্ষার্থী পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে লিখিত দিয়েছে সে পরিবহন ও আবাসিক হল খোলার দাবি করবে না তারপরও সে কেন আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে? আমরা মনে করি একটি অবৈধ মুচলেকার উপর ভিত্তি করে কোন শিক্ষার্থী কোন নৈতিক আন্দালনে যুক্ত হবে কিংবা হবে না সেই প্রশ্ন তোলাই প্রোক্টর মহোদয়ের এক্তিয়ার বর্হিভূত কাজ। বরং এরকম জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে মিটন চাকমার উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং স্পষ্টতই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্ররোচনায় ৩ ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনে বাধ্য হয়েছে।’

সেই তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগকে অন্তঃসারশূন্য উল্লেখ করে আরও বলা হয়েছে, ‘মিটন চাকমার কাছ থেকে মিথ্যা অভিযোগপত্র আদায় করে তার ভিত্তিতে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজেশ্বর দাশগুপ্ত , ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র শাহ মোহাম্মদ শিহাব ও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আশরাফি নিতুকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে - ‘অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে আন্দোলন কর্মসূচিতে আসতে প্ররোচিত করেছে।’ এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১০৭ ধারা অনুসারে কোন অপরাধ সংগঠনে সহায়তা করাকে প্ররোচনা বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন দাবিতে মিছিল, মানববন্ধন কিংবা প্রতিবাদ কর্মসূচি করা কোন অপরাধমূলক কাজ নয়। এখানে শিক্ষার্থীরা নিজের অধিকার আদায়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। ফলে ছাত্রদের ন্যায্য আন্দোলনে অংশ নেয়ার জন্য কোন শিক্ষার্থীকে প্ররোচিত ও বাধ্য করার অভিযোগ একটি অন্তঃসারশূন্য অভিযোগ।’

‘আবার অভিযোগকারী মিটন চাকমা বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার সাংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবহনের দাবির পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেছেন। ফলে তাকে ব্যক্তিগত প্ররোচনার অভিাযোগ ভিত্তিহীন। আবার যেকোন ন্যায্য দাবি প্রচারের অধিকার শিক্ষার্থীদের আছে। একে প্ররোচনা কিংবা বাধ্য করা হিসাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে কার্যত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন শিক্ষার্থীর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে।’

শোকজপত্রে বলা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সকল কার্যক্রমকে কেন রাষ্ট্রের আইন ও সংবিধান পরিপন্থী ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও ইস্যুকৃত শোকজ নোটিশ কেন প্রত্যাহার করা হবে না- এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দেয়ার জন্য বলা হলো।’

উল্লেখ্য, শোকজের একটি অনুলিপিটি চবি আচার্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ, ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহিদুল্লাহ ও চবি প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া বরাবরও প্রেরণ করা হয়েছে।

তিন শিক্ষার্থীর শোকজের বিষয়ে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক’ বাদেও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলো যৌথভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে।

সূত্র মতে সর্বশেষ জানা যায়, এখনও পর্যন্ত ওই তিন শিক্ষার্থীর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.