Assam: বেতনহীন ৫ বছর, এবার রাষ্ট্রায়ত্ত কাগজকলের শ্রমিকদের কোয়ার্টার ছাড়ার নোটিশ

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি অসমের একাধিক সভায় বলেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ছয় মাসের মধ্যে মিল দুটি পুনরুজ্জীবিত করবেন।
Assam: বেতনহীন ৫ বছর, এবার রাষ্ট্রায়ত্ত কাগজকলের শ্রমিকদের কোয়ার্টার ছাড়ার নোটিশ
ছবি- সংগৃহীত

বেতন হয় না পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে। এবার কাগজকল শ্রমিকদের কোয়ার্টার ছাড়ার নোটিশ ধরানো হল। ঘটনাটি অসমের দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত কাগজকলের। আগামী পনেরো দিনের মধ্যে কোয়ার্টার ছাড়তে হবে। এই মর্মে শনিবার কেন্দ্র নোটিশ পাঠিয়েছে। ফলে কাগজকলের প্রায় আটশো শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্য মিলে প্রায় চার হাজার মানুষ পথে বসার আশঙ্কায় ভুগছেন।

নোটিশ হাতে পেয়ে কাগজকলের কর্মী শ্যাম নায়ক বলেন, ‘মোদি-শাহ আমাদের রাস্তায় নেমে ভিক্ষা করতে বাধ্য করছেন।' রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশন লিমিটেডের অধীন দুটি কাগজকল রয়েছে অসমে। একটি নগাঁও জেলার জাগীরোডে। আর একটি হাইলাকান্দি জেলার পাঁচগ্রামে। দুটি কাগজকলই একসময় লাভজনক সংস্থা ছিল। দেশে মুক্ত বাণিজ্য নীতি কার্যকর হওয়ার মিল দুটি রুগ্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু চালু ছিল।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি অসমে একাধিক সভায় বলেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ছয় মাসের মধ্যে মিল দুটি পুনরুজ্জীবিত করবেন। কিন্তু কথা রাখেননি মোদি। উলটে ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে পাঁচগ্রামের মিল ও ২০১৬ সালের মার্চ মাসে জাগীরোডের মিলে তালা ঝুলিয়ে দেয় কেন্দ্র। একই সংস্থার অধীনে কেরলের মিলটি বন্ধ করে দিতে বাধা দেয় রাজ্যের এলডিএফ সরকার। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে মিলটি অধিগ্রহণ করে রাজ্য।

এদিকে মিল বন্ধ করে দেওয়ার কয়েকমাস পর থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ হয়। ২০১৯ সালের মে মাসে মিল দুটি দেউলিয়া ঘোষণা করে নিলাম ডাকে। বিক্রি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কুলদীপ বার্মা নামের এক আধিকারিককে নিযুক্ত হন। তিনি কয়েকদিন পরপর নিলাম ডাকেন। কিন্তু নিলাম হয়নি। মিলের প্রচুর জমি রয়েছে। কয়েকমাস পরপর এই জমির দাম কমিয়ে নিলাম ডাকা হয়। তাতেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এবার বিনামূল্যে মিলের জমি মোদি তাঁর কর্পোরেট বন্ধুদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

এদিকে গত পাঁচবছরে বিনা চিকিৎসায় মিলের ৮৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। তিনজন কর্মচারী ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করেছেন। মিলের দুটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় বন্ধ করে শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে। ফলে শ্রমিকরা তাদের সন্তানদের লেখাপড়া মাঝপথে বন্ধ করতে হয়েছে কিংবা অন্য স্কুলে ভর্তি করেছেন। আর্থিক অনটন চললেও এতদিন মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল। শুক্রবার এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেন কুলদীপ বার্মা। শনিবার থেকে শ্রমিকদের হাতে হাতে উচ্ছেদ নোটিস পাঠানো শুরু করেছে।

মিলের টেকনিশিয়ান শ্যাম নায়ক, অপারেটর মাধবচন্দ্র দেব, ল্যাব টেকনিশিয়ান সুনীল শঙ্কর বরা, চালক বিপুল বর্মন জানান, তাঁদের বকেয়া বেতন দিচ্ছে না। এককালীন আর্থিক সাহায্যও দেয়নি। পিএফ, গ্র্যাচুইটি, পেনশন সব বন্ধ। এই অবস্থায় কোয়ার্টার ছেড়ে কোথায় গিয়ে উঠবেন?

পাঁচগ্রাম কাগজকল ইউনিয়নের নেতা মানবেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘মোদি সরকার শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। মিল পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে প্রথমে শ্রমিকদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে। এবার মাথা গোঁজার ঠাঁইও কেড়ে নিচ্ছে। আমরা কোনও অবস্থায় কোয়ার্টার ছাড়ব না। সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে শীঘ্রই আন্দোলনে নামবেন মিলের শ্রমিকরা।’

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in