হাইকোর্টের নির্দেশের ১০ বছর পরেও গৃহহীন - বরাদ্দ জমি দখলের ছক কষছে BJP বিধায়ক! অভিযোগ ১৫১২ পরিবারের

ক্ষতিগ্রস্ত ৭ হাজার ব্যক্তির প্রায় সকলেই দলিত বা মুসলিম জনগোষ্ঠীর। ন্যায়বিচার না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাঁদের ভোটার আইডি কার্ড রাজ্যপালের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশের ১০ বছর পরেও গৃহহীন - বরাদ্দ জমি দখলের ছক কষছে BJP বিধায়ক! অভিযোগ ১৫১২ পরিবারের
সাংবাদিক সম্মেলনে মারিয়াপ্পা, এন কৃষ্ণ এবং আলিবাবাছবি সৌজন্যে নিউজক্লিক

১৯৯৩ সালের ঘটনা। আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষদের (দলিত এবং মুসলিম) জন্য ১ হাজার ৫১২ টি বাড়ি তৈরি করেছিল ব্রুহাত বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকা (BBPM)। এ জন্য শহরের দক্ষিণ প্রান্তে ইজিপুরায় প্রায় ২২ একর জমি বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, কয়েকবছর না পেরোতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর কারণে কিছু বাড়ি ভেঙে পড়তে শুরু করে। এবং ২০০৩ সালে পুরো আবাসনই ভেঙে পরে। মুহূর্তে একসঙ্গে গৃহহীন হয়ে পড়ে দেড় হাজার পরিবার।

বিষয়টি নিয়ে মামলা গড়ায় কর্ণাটক হাইকোর্টে। বেশ কয়েক বছর মামলা চলার পর ২০১২ সালে হাইকোর্ট রায় দেয়, সংশ্লিষ্ট জায়গাতেই ক্ষতগ্রস্থ পরিবারগুলিকে নতুন বাড়ি তৈরি করে দেবে BBPM। এরপর 'ম্যাভেরিক হোল্ডিংস' (Maverick Holdings) নামে নির্মাণ সংস্থাকে বরাত দেয় বিবিএমপি। জানা যাচ্ছে, ম্যাভেরিক হোল্ডিংস নামে এই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর হলেন উদয় বি গারুডাচার (Uday B Garudachar), যিনি বেঙ্গালুরুর চিকপেট (Chickpet)- এলাকার বিজেপি (BJP) বিধায়ক (MLA)। তাঁর সংস্থা বেঙ্গালুরুতে বেশ কয়েকটি বড় মাপের বিল্ডিং নির্মাণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে শহরের অন্যতম বড় শপিং মল - গারুদা মল (Garuda Mall)।

তবে, ইজিপুরায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলির দাবি, কর্ণাটক হাইকোর্টের নির্দেশ সত্বেও গত ১০ বছরে একটি বাড়িও পুনর্নির্মাণ করেনি ম্যাভেরিক হোল্ডিংস। এ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে দলিত সংগ্রাম সমিতি (DDS)। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য স্থায়ী আবাসনের দাবীতে DDS-এর পাশে দাঁড়িয়েছে- অর্গানাইজেশন ফর ল্যান্ড অ্যান্ড হাউজিং রাইটস ফর দ্যা অপ্প্রেসড (Organisation for Land and Housing Rights for the Oppressed)।

আলিবাবা নামে এক আন্দোলনকারী জানান, 'বাড়ি বরাদ্দের সময় পরিবারগুলি কিছু টাকাও দিয়েছিল। কিন্তু, তারপরেও এখনও তাঁরা কেউ বাড়ি পায়নি।' তিনি আরও জানান, '১৬ মে, ইজিপুরার ওই জায়গায় আমরা প্রতিবাদে নামলে পুলিশ অনেককে আটক করে। পাশাপাশি আমাদের হুমকি দিয়েছে, আমরা যদি আবার প্রতিবাদে নামি, তাহলে আমাদের গেপ্তার করা হবে।'

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা নির্মাণকারী সংস্থার প্রধান গারুডাচারের কাছে গেলে তিনি এই সমস্যার জন্য BBPM বা ব্যাঙ্গালোর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BDA)-কে দায়ী করেন। নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া নিয়ে কোনও দায় তিনি নিতে চাননি। একইসঙ্গে পরিবারগুলি দাবি জানিয়েছে, অবিলম্বে ম্যাভেরিক হোল্ডিংসের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হোক এবং নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হোক।

অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন সমাজকর্মী সিরিমানে নাগরাজ (Sirimane Nagaraj)। ২০০৩ সালে ভেঙে পড়া আবাসনের প্রকল্পে মূল বাড়ির মালিকরা, যাঁরা এখন শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন, তাঁদের এক জায়গায় নিয়ে এসে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছেন তিনি।

এই সমন্বয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে প্রবীণ সমাজকর্মী মারিয়াপ্পা (Mariyappa)-কে। তিনি জানান, '২০১২ সালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে পুনর্বাসন দিতে BBPM-কে নির্দেশ দিয়েছিল কর্ণাটক হাইকোর্ট। এজন্য ১৮ মাসের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছিল আদালত। কিন্তু ১০ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, একটি বাড়িও তৈরি হয়নি। যদি বিধানসভা থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষের সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে দূরবর্তী অঞ্চলের বসবাসকারী মানুষের দুর্দশা কত তা আপনি কল্পনা করতে পারেন।'

একইসঙ্গে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, 'BBPM এবং BDA-এর সঙ্গে যোগসাজশে জমি দখলের ছক কষছেন বিজেপি বিধায়ক গারুড়চর। এন কৃষ্ণ নামের এক বাড়ি মালিক জানান, '১৯৯৩ সালে ২২ একর জমি জুড়ে ৪২ ব্লকে ১ হাজার ৫১২ টি বাড়ি ছিল। তবে নির্মাণকারী সংস্থা ম্যাভারিক হোল্ডিংস মাত্র ৩ একর জমিতে ১০ থেকে ১২ তলা বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। বাকি জমি তাঁরা ব্যবসার কাজে লাগানোর ছক কষছে। কিন্তু, তারপরেও এখনও একটি বাড়িও নির্মাণ হয়নি। ২০০৩ সাল থেকে রাজ্যের প্রত্যেক মুখ্যমন্ত্রী, এস এম কৃষ্ণ (SM Krishna) থেকে বি এস ইয়েদিউরপ্পা, প্রত্যেকেই সাইটটি পরিদর্শন করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন।'

এরপরেই অভিমানের সুরে এন কৃষ্ণ বাবু বলেন, 'যেহেতু কোনও সরকারই আমাদের ন্যায়বিচার দিতে আগ্রহী নয়, তাই ক্ষতিগ্রস্ত ৭ হাজার ব্যক্তি তাঁদের ভোটার আইডি কার্ড রাজ্যপালের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ৭ হাজার ব্যক্তির প্রায় সকলেই দলিত বা মুসলিম জনগোষ্ঠীর। আগামী ২০ জুন, ফ্রিডম পার্ক (Freedom Park)-এ সকলে ন্যায় বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামবে।

- Inputs from NewsClick

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in