“প্রাকৃতিক জলের গুরুত্ব ভুলে মঙ্গলের জলের সন্ধানে বেশি উৎসাহী মানুষ”

বিশ্বে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জন বিশুদ্ধ পানীয় জল পায় না। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ব বড়সড় জলসংকটের মধ্যে পড়তে চলেছে।
“প্রাকৃতিক জলের গুরুত্ব ভুলে মঙ্গলের জলের সন্ধানে বেশি উৎসাহী মানুষ”
ছবি- প্রতীকী

নয়াদিল্লি, ২২ মার্চ: পৃথিবীর প্রাকৃতিক জলের গুরুত্ব না দিয়ে, মানুষ আজ মঙ্গলগ্রহের জলের উৎসের সন্ধানে বেশি উৎসাহী। ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২১ অনুসারে, মানুষ আজ যে পরিমাণে জলের অপচয় করছে, তা যদি অর্থের বিনিময়ে কোনও জিনিস কিনে করতে হত তা হলে ২ বার ভাবতো।

কিন্তু, জল ব্যবহার করতে মানুষকে কোনও অর্থ খরচ করতে হয় না। তাই জল অপচয় বা অপব্যবহারের বিষয়টিও সাধারণের মাথায় আসছে না। মুখে অনেক কিছু বললেও কার্যক্ষেত্রে তা একেবারেই দেখা যাচ্ছে না। আসলে মানুষ প্রকৃত জিনিসের গুরুত্ব দিতে জানে না। বাড়ির সামনে একটি স্বচ্ছ জলের উৎস থাকলে দেশের অনেক মেয়েরা ঠিক সময়ে স্কুলে যেতে পারে। ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ডে উপলক্ষে রাষ্ট্রসঙ্ঘের জল সংক্রান্ত বিষয়ের সচিব গিলবার্ট এফ. হাউংবো জানিয়েছেন, 'আমাদের অনেক সমস্যার কারণই হচ্ছে, আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে পাওয়া জলকে গুরুত্ব দিতে পারি না। অনেকেই মনে করেন, জল তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।'

যত দিন যাচ্ছে বিশ্ব উষ্ণায়ণের কারণে জলস্তর নেমে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরা তাদের জলের চাহিদা পূরণের জন্য কত কষ্ট করে চলেছে, তার উদাহরণ নিম্নরূপ: বিশ্বে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জন বিশুদ্ধ পানীয় জল পায় না। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ব বড়সড় জলসংকটের মধ্যে পড়তে চলেছে। যখন প্রাকৃতিক জলধারা থেকে পাওয়া জলের সরবরাহ কমে আসতে থাকবে, তখনই এই জলসংকট দেখা দেবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রায় ২ মিলিয়ন মানুষ এখন তীব্র জলকষ্টের মধ্যে রয়েছে। এমনকী, ৪ মিলিয়ন এমন মানুষ রয়েছে, যারা বছরে অন্তত এক মাস তীব্র জলকষ্টের সম্মুখীন হয়। প্রত্যেক ৫টি শিশুর মধ্যে একজনের দৈনন্দিন জলের চাহিদা পূরণ হয় না। ৮০টি দেশের বেশি শিশুকে স্বচ্ছ জল পেতে অনন্তপক্ষে ৩০ মিনিট পথ অতিক্রম করতে হয়।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in