সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের উৎস ব্যবহারকারীরা, প্ল্যাটফর্ম নয়

সমীক্ষায় প্রধান যে বিষয়টি উঠে এসেছে সেটি হল টুইটার ব্যবহারকারীরা তাঁদের নিউজ ফিডে কী দেখতে পাবেন তা নির্ভর করে পূর্বতন যোগাযোগের রাজনৈতিক ঝোঁকের উপর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের উৎস ব্যবহারকারীরা, প্ল্যাটফর্ম নয়
প্রতীকী ছবি সংগৃহীত

একটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ছড়ায় আমাদের অ্যাকাউন্টের সামাজিক আলাপচারিতা থেকে। আমরা যা পাই তা প্রধানত আমাদের অনলাইন বন্ধুরা, বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাই পাঠায়। আমেরিকার ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলের একটি সমীক্ষায় একথা বলা হয়েছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, টুইটারের মতো অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া ইচ্ছাকৃত কোনো উদার খোলামেলা বিষয় বা ব্যবহারকারীকে তুলে ধরে না। বরং দেখা গেছে টুইটারে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ঘটে রক্ষণশীলতার পক্ষেই।

ব্লুমিংটনের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবজারভেটরি অন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ফিলিপ্পো মেঞ্জার বলেছেন, সমীক্ষায় প্রধান যে বিষয়টি উঠে এসেছে সেটি হল টুইটার ব্যবহারকারীরা তাঁদের নিউজ ফিডে কী দেখতে পাবেন তা নির্ভর করে পূর্বতন যোগাযোগের রাজনৈতিক ঝোঁকের উপর।

প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বদলে পক্ষপাতিত্ব ঘটে ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারে। সমীক্ষাটি নেচার কমিউনিকেশনস পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে অনলাইনে।

অনলাইন খবর এবং তথ্যের পক্ষপাতিত্ব খুঁজতে সমীক্ষকদল ১৫টি 'ড্রিফটার' নামে বটকে কাজে লাগায়, টুইটারে অন্য ধরনের সোশ্যাল বটের থেকে সেগুলির নিরপেক্ষতা আলাদা করে দেখতে। ড্রিফটারগুলি মানুষের অনুকরণ করে। এদের নিয়ন্ত্রণ করে আলগরিদম যা ড্রিফটারকে কাজ করাতে র‍্যান্ডমলি বেছে নেওয়া হয়।

প্রত্যেকটি বটকে প্রথমে জনপ্রিয় কোন সংবাদ সূত্রের একজন বন্ধুর সঙ্গে পরিচিত করানো হয়। সে হতে পারে মার্কিন রাজনৈতিক মহলের কোন বাম বা মধ্যপন্থী বাম বা মধ্যপন্থী বা মধ্যপন্থী ডান বা ডান। এর পরে গবেষকরা সেই ড্রিফটারকে ছেড়ে দেন টুইটারের জনারণ্যে।

ড্রিফটার থেকে প্রতিদিন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাঁচ মাস পরে পরীক্ষা করা হয় ড্রিফটার থেকে প্রেরিত ও ড্রিফটারে আগত বিষয়গুলি। বটগুলির বন্ধু ও ফলোয়ারদের রাজনৈতিক ঝোঁক বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা হয় তারা অনির্ভরযোগ্য খবর এবং তথ্যসূত্র থেকে কতটা তথ্য পেয়েছে।

সমীক্ষকরা দেখিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথম বন্ধুর রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রবল প্রভাব পড়েছে ব্যবহারকারীর সোশ্যাল নেটওয়ার্কের কাঠামো এবং অনির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর।

মেঞ্জার বলেছেন, প্রথমে যে সূত্রটা বেছে নেওয়া হবে সেই অনুযায়ী পরবর্তী অভিজ্ঞতা তৈরি হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে দিয়েগো পাচেকো বলেছেন আশা করা যায় এই সমীক্ষার ফলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়বে। কোনটা দেখব কোনটা দেখব না সেটা তাঁরাই ঠিক করবেন। বুঝতে পারবেন কোনটা প্রভাব খাটাতে করা হচ্ছে, কোনটা প্রতারণা, কোনটা ভুল তথ্য বা কোনটা পক্ষপাতিত্বমূলক।

-With IANS Inputs

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.