গরম জলের ভাপ শরীরের ভিতরে গিয়ে Covid ভাইরাস ধ্বংস করতে পারবে এরকম কোনো প্রমাণ নেই - ইউনিসেফ

করোনা সংক্রমণ রোধে বা নিরাময়ে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কিছু পরামর্শ। কেউ একে বলছেন বিকল্প চিকিৎসা, কেউবা অন্যকিছু। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে এর বেশিরভাগই পরীক্ষিত নয়। কল্পনাপ্রসূত ও মনগড়া।
গরম জলের ভাপ শরীরের ভিতরে গিয়ে Covid ভাইরাস ধ্বংস করতে পারবে এরকম কোনো প্রমাণ নেই - ইউনিসেফ
ছবি প্রতীকী সংগৃহীত

করোনা নিয়ে একদিকে যেমন একদিকে ভয় আতঙ্ক সাধারণ মানুষকে গ্রাস করেছে তেমনই করোনা সংক্রমণ রোধে বা নিরাময়ে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কিছু পরামর্শ। কেউ একে বলছেন বিকল্প চিকিৎসা, কেউবা অন্যকিছু। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে এর বেশিরভাগই পরীক্ষিত নয়। কল্পনাপ্রসূত ও মনগড়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকেও বারবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ধরণের পরামর্শ থেকে দূরে থাকতে বলছে। তারা আস্থা রাখতে বলছেন চিকিৎসকদের ওপরেই।

করোনা হয়েছে শুনলে, সবাই প্রথমে এটাই পরামর্শ দেয় যে গরম জলের ভেপার নিন। হয়তো বিষয়টা উপকারী কিন্তু কতটা উপকার হতে পারে, সেই সম্পর্কে যথেষ্ট গবেষণালব্ধ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া করোনাভাইরাস প্রতিনিয়ত তার চরিত্রের বদল ঘটাচ্ছে। ভ্যাকসিন এলেও তা নিয়েও নিরন্তর গবেষণা চলছে। এই নিয়ে নিয়ম করে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে ইউনিসেফ ইন্ডিয়া। সেই প্রশ্নোত্তরে গরম জলের ভেপার নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। অতিরিক্ত সর্দি হলে আমরা অনেকেই গরম জলের ভাপ নিই। কখনও তার মধ্যে দেওয়া হয় ইউক্যালিপটাস অয়েল।

ইউনিসেফ সাউথ এশিয়ার মেটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড হেল্থ বিভাগের রিজিওনাল অ্যাডভাইজর পল রাটার গরম জলের ভাপ নেওয়ার বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথমে সতর্ক করছেন জনতাকে। বলছেন, এখনও পর্যন্ত এরকম কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে গরম জলের ভাপ নিলে তা শরীরের ভিতরে গিয়ে কোভিড ভাইরাসকে ধ্বংস করতে পারবে। তবে এই প্রক্রিয়া যে ফুসফুসের পক্ষে ক্ষতিকর, সেটা বেশ জোর দিয়ে বলছেন তিনি।

তাঁর দাবি, গরম জলের ভাপ নিলে তা শরীরের ভিতরে শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ক্রমাগত গরম জলের ভাপ নিলে তা শ্বাসনালীতে ছ্যাঁকা দেয়। একই সঙ্গে শ্বাসনালী এবং খাদ্যনালীর সংযোগস্থল, অর্থাৎ গলবিলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে অসুবিধা হবে। আর মুখ খুললে শরীরে প্রবেশের ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসেরই সুবিধা হবে।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in