National Medical Commission: নতুন নির্দেশিকায় চাকরি সংকটের আশংকায় ৩ হাজার নন মেডিকেল শিক্ষক

নন-মেডিকেল শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ন্যাশনাল এমএসসি মেডিকেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (NMMTA) এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
National Medical Commission: নতুন নির্দেশিকায় চাকরি সংকটের আশংকায় ৩ হাজার নন মেডিকেল শিক্ষক
প্রতীকী ছবিছবি সংগৃহীত

ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের (NMC) নতুন নির্দেশিকার ফলে প্রায় ৩,০০০ নন-মেডিকেল শিক্ষক তাঁদের চাকরি হারানোর আশংকায় ভুগছেন। ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় সারা দেশে মেডিকেল কলেজ ব্যাপকভাবে নন-মেডিকেল এমএসসি শিক্ষকদের পদ হ্রাস করেছে।

নন-মেডিকেল শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ন্যাশনাল এমএসসি মেডিকেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (NMMTA) এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কাছে আবেদন জানিয়েছে। কারণ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন পোষ্ট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রায় ৩,০০০ নন-মেডিকেল শিক্ষক চাকরি সংকটের সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশংকা।

মন্ত্রকের কাছে লেখা এক চিঠিতে নির্দেশিকা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে এনএমএমটিএ বলেছে, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলিতে ফ্যাকাল্টির সংকট হবেনা এবং তা শিক্ষকদের জন্য সহায়ক হবে।

২০২০ সালের অক্টোবর মাসে মেডিকেল এডুকেশন রেগুলেটর দ্বারা জারি করা নির্দেশিকাতে, অ-চিকিৎসক ফ্যাকাল্টিদের সংখ্যা কমানো হয়। শারীরবিদ্যায় ৩০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে, জৈব রসায়নে ৫০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে এবং মাইক্রোবায়োলজি এবং ফার্মাকোলজিতে ৩০ শতাংশ থেকে ০ শতাংশ করা হয়।

NMC দাবি করেছে যে এই নির্দেশিকার ফলে ইতিমধ্যেই চাকরিতে থাকা বর্তমান ফ্যাকাল্টিকে প্রভাবিত করবে না। এই নিয়ম নতুন মেডিকেল কলেজ, নতুন নিয়োগ এবং এমবিবিএস আসন বৃদ্ধির জন্য আবেদনকৃত কলেজগুলির ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

এই প্রসঙ্গে NAMMTA সংবাদমাধ্যম IANS-কে জানিয়েছে "নন-ক্লিনিকাল বিষয়গুলিতে চিকিৎসা শিক্ষায় অ-চিকিৎসকদের সারা বিশ্বেই যুক্ত করা হয়ে থাকে। পূর্ববর্তী মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (এমসিআই) জানিয়েছিলো, 'চিকিৎসা শিক্ষার জন্য এই পদ্ধতি অত্যাবশ্যক'। চিকিৎসা শিক্ষায় নন-মেডিকেল M.Sc/Ph.D শিক্ষকদের অংশগ্রহণের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলা হয়েছিলো এই ব্যবস্থা থেকে দূরে সরে যাওয়ার দরকার নেই।"

এমবিবিএস শিক্ষার নন-ক্লিনিক্যাল বিষয়গুলিতে অ-চিকিৎসক শিক্ষক নিয়োগের প্রথা ১৯৬০ সালে শুরু হয়। যখন এমসিআই চিকিৎসকের অভাব দূর করতে মেডিকেল কলেজগুলিতে এই শিক্ষক নিয়োগের অনুমতি দেয়।

এমসিআই-এর শিক্ষকদের যোগ্যতা এবং যোগ্যতা নির্দেশিকা অনুসারে, অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, ফার্মাকোলজি এবং মাইক্রোবায়োলজির নন-ক্লিনিক্যাল বিষয়গুলিতে মেডিকেল (এমবিবিএস/এমডি) যোগ্য শিক্ষক না পাওয়া গেলে ৩০ শতাংশ (বায়োকেমিস্ট্রিতে ৫০ শতাংশ) শিক্ষক 'নন-মেডিকেল' হতে পারেন।

এনএমএমটিএ-র সভাপতি শ্রীধর রাও বলেন, নন-ক্লিনিক্যাল বিষয়গুলিতে এমডি আসনের সংখ্যা বেড়েছে, তাদের মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ প্রতি বছর খালি থাকে, যার অর্থ আগামী দিনে ফ্যাকাল্টির ক্ষেত্রে ঘাটতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা থাকছে।

রাও আরও জানিয়েছেন, "গ্রামীণ, প্রত্যন্ত বা পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত কলেজগুলিতে ঘাটতি আরও প্রকট। যেখানে মেডিকেল শিক্ষকদের অভাব দেখা যায়। নতুন এমবিবিএস পাঠ্যক্রমের চালু করা উদ্বেগের বিষয় নয়। কারণ এটি বাস্তবায়নের জন্য সমস্ত শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আইএএনএস-এর সাথে কথা বলার সময়, রাও জানান, এনএমসি আইন অনুসারে, এনএমএমটিএ এনএমসি-তে প্রথম আপিল দায়ের করেছিলো, যা কোনও বিবেচনা ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে দ্বিতীয় আপিল দায়ের করা হয়েছে, যা আপাতত বিবেচনাধীন রয়েছে।

এনএমএমটিএ সভাপতি জানিয়েছেন, "আমরা এমন একটি নতুন নীতি নির্দেশিকা চাই না যা একটি নতুন কমিটি গঠন নিশ্চিত করতে পারে। আমরা পূর্ববর্তী এমসিআই নিয়মগুলি পুনরুদ্ধার করতে চাই। এমনকি আমরা সংরক্ষণও চাই না। আমরা শুধুমাত্র আমাদের কাছ থেকে যা কেড়ে নেওয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে দেবার জন্য বলছি। তিনি আরও বলেন, "এই ব্যবস্থার ফলে শিক্ষকদের একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করবে এবং ফলস্বরূপ চিকিৎসা শিক্ষা ভারতে আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।"

- With Agency Inputs

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in