ফ্রান্সে জরিমানার মুখে পড়লো ইনফোসিস। ফ্রান্সের স্থানীয় শ্রম আইনের সঙ্গে ইনফোসিসের কাজের সময় সংক্রান্ত সিস্টেট সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ডিআরআইইটিএস (DRIEETS) ইল-দ্য-ফ্রস (Ile-de-France) সংস্থা ইনফোসিসকে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ইউরো জরিমানা করেছেন। জানা গেছে, ফরাসি শ্রম কর্তৃপক্ষ ইনফোসিসের কর্মীদের কাজের সময় নথিভুক্ত করার সিস্টেম সে দেশের আইনি প্রয়োজনীয়তা পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরেই ইনফোসিসকে জরিমানা করা হয়।
ফ্রান্সের নিয়ম অনুসারে, যে কোনও সংস্থা কর্মচারীদের কাজের সময় ট্র্যাক করতে এবং রেকর্ড করতে আইন অনুসারে বাধ্য। সে দেশের নিয়ম অনুসারে, কর্মচারীরা যে কোনও সময় এই রেকর্ড দেখতে চাইতে পারে এবং নিয়োগকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে কাজের সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ দিতে হবে।
এই জরিমানার পর ইনফোসিস জানিয়েছে, এই জরিমানার কারণে তাদের আর্থিক অবস্থা, কাজকর্ম বা অন্য কোনও কিছুর ওপর প্রভাব পড়বে না। কোম্পানি জরিমানা সংক্রান্ত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ইনফোসিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গত ২৪ জুলাই তারা এই নোটিশ পেয়েছে।
বিদেশের মাটিতে ইনফোসিসের এই জরিমানার পরেই আরও একবার কাজের সময় নিয়ে ইনফোসিস কর্তা নারায়ণমূর্তির বক্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে নারায়ণমূর্তি জানিয়েছিলেন ভারতকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য ভারতীয়দের আরও বেশি সময় কাজ করতে হবে। তিনি ২০২৩ সালে এক পডকাস্টে ভারতীয় কর্মীদের সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
ফ্রান্সে বেসরকারি ক্ষেত্রে একজন পূর্ণ সময়ের কর্মচারীকে সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। কোনও কোনও বিশেষ পদ বা দায়িত্বের ক্ষেত্রে তা সর্বাধিক ৪৮ ঘণ্টা হতে পারে। ফরাসি সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে এটা সাপ্তাহিক কাজের চূড়ান্ত সীমা নয়। এটি ন্যূনতম সীমা এবং এর ভিত্তিতেই কর্মীদের ওভারটাইম গণনা করা হয়। বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক কাজের দিনের চুক্তিতে থাকা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ৩৫ ঘণ্টার অতিরিক্ত কাজের জন্য প্রথম ৮ ঘণ্টার ক্ষেত্রে ১২৫ শতাংশ এবং এরপর থেকে ১৫০ শতাংশ হারে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।
ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে ফ্রান্সে সবথেকে শক্তিশালী শ্রম সুরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমান। যে নিয়ম অনুযায়ী ৩৫ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ, ওভারটাইম এবং বাধ্যতামূলক বিশ্রামকাল সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলা নিশ্চিত করতে নিয়োগকর্তাদের যথাযথ রেকর্ড রাখতে হয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন