

আপনি হোয়াটস অ্যাপ-এ (Whats App) যে তথ্য আদান প্রদান করেন তা সম্পূর্ণ নিরাপদ তো? এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন ঠিকমত কাজ করে তো? অজান্তে আপনার একান্ত গোপনীয় মেসেজ কেউ পড়ছে না তো? হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহারকারীরা নিশ্চিন্তে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলেও এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এক বহুজাতিক সংস্থা। যাদের দাবি, মেটার পক্ষ থেকে এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের দাবি করা হলেও তা আদৌ গোপনীয় ও সুরক্ষিত নয়। যে বিতর্ক বর্তমানে আদালতে। মেটার পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে জানানো হয়েছে।
মেটার বিরুদ্ধে মামলা কেন?
সানফ্রান্সিসকোর এক আদালতে গত ২৫ জানুয়ারি এই সংক্রান্ত এক মামলা দায়ের হয়েছে। ৫১ পাতার এই অভিযোগে মামলাকারী সংস্থা এক বহুজাতিক কোম্পানীর বক্তব্য, মেটার (Meta) পক্ষ থেকে হোয়াটস অ্যাপ-এ ‘এন্ড টু এন্ড’ এনক্রিপশনের (End to End Encryption) দাবি জানানো হলেও বাস্তবে হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মেসেজ সুরক্ষিত নয়। যদিও মামলাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি এবং গোপনীয়তা অবলম্বনের ক্ষেত্রে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে। ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই মামলায় মেটার বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের বার্তার গোপনীয়তা এবং সুরক্ষার সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা প্রসঙ্গে মেটার বক্তব্য কী?
মেটার পক্ষ থেকে মামলাকারীদের দাবি অস্বীকার করে মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই মামলা একটি ভিত্তিহীন কল্পকাহিনী এবং মেটা গত দশ বছর ধরে এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করে আসছে। কোম্পানি নিজেই এই “ব্যক্তিগত” চ্যাটের বিষয়বস্তু দেখতে পারে না। তিনি আরও জানান, হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে প্রেরিত বার্তাগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুরক্ষিত থাকে এবং শুধুমাত্র প্রেরক এবং প্রাপকই সেগুলি পড়তে, শুনতে বা ফরোয়ার্ড করতে পারেন।
মামলাকারীদের মূল বক্তব্য কী?
মেটার এই দাবির সঙ্গে সহমত নন মামলাকারীরা। এই প্রসঙ্গে ভারত, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি দল এই দাবির বিরোধিতা করেছে। যে দলের সদস্যদের পরিচয় সামনে আনা হয়নি এবং তাঁদের হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে বলা হয়েছে। তাদের মতে, মেটার এই বিবৃতিগুলি স্পষ্টতই বিভ্রান্তিকর এবং প্রতারণামূলক। তাঁদের আরও দাবি, মেটা সমস্ত হোয়াটস অ্যাপ বার্তা সংরক্ষণ করে, বিশ্লেষণ করে এবং সেই বার্তা পড়তে পারে। যার ফলে কোটি কোটি হোয়াটস অ্যাপ ব্যাবহারকারীর গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হতে পারে।
মেটার এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের দাবি প্রসঙ্গে মামলাকারীদের দাবি, এক দশক ধরে সক্রিয় থাকা এনক্রিপশন ব্যবস্থা “পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি”। তাদের যুক্তি, হোয়াটসঅ্যাপ-এর কোটি কোটি ব্যবহারকারীর প্রতি মেটার আশ্বাস বাস্তবে শুধুই প্রতিশ্রুতি। এনক্রিপশনটি হয় সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি অথবা বাস্তবে এটিকে ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে মেটা সেই বার্তাগুলিকে ধরে রাখতে এবং যাচাই করতে পারে যা তারা দাবি করে যে সেইসব বার্তা খোলা যায় না।
বিশ্বে কত মানুষ বর্তমানে হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহার করেন?
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দুই বিলিয়নের বেশি মানুষ হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহার করেন। বহু মানুষ ব্যবসায়িক কাজে, পেশাদারী ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। আবার বহু মানুষই এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজেদের ব্যক্তিগত, সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান করে থাকেন। যদি মেটার বিরুদ্ধে ওটা এই দাবি সত্যি হয় সেক্ষেত্রে বড়ো জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে সংস্থাকে।
এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন আসলে কী?
এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন (E2EE) একটি সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা। যে ব্যবস্থায় প্রেরক এবং প্রাপক—এই দুই প্রান্তের ব্যবহারকারী ছাড়া অন্য কেউ এই বার্তা, ছবি বা কথোপকথন পড়তে বা শুনতে পান না। মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীও (ISP) এই তথ্যের নাগাল পান না। এই বিশেষ ব্যবস্থায় বার্তাগুলো প্রেরকের ডিভাইসে লক বা এনক্রিপ্ট হয়ে যায় এবং শুধুমাত্র প্রাপকের ডিভাইসে ডিক্রিপ্ট বা আনলক হয়। মাঝের কারোর পক্ষে এই তথ্য ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন বিতর্কে কী বললেন এলন মাস্ক?
হোয়াটস অ্যাপ-এর এনক্রিপশন নিয়ে এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন এলন মাস্কও। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, “হোয়াটস অ্যাপ নিরাপদ নয়,” এবং আরও বলেছেন যে “এমনকি সিগন্যাল নিয়েও প্রশ্ন আছে” তাই ব্যবহারকারীদের “এক্স চ্যাট ব্যবহার করার”আহ্বান জানাই। উল্লেখ্য গত বছরের নভেম্বর মাসেই এলন মাস্কের এক্সএআই (xAI) হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপের একটি গোপনীয়তা-কেন্দ্রিক বিকল্প হিসেবে এক্স প্ল্যাটফর্মে এক্স চ্যাট চালু করেছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন