UP Polls 22: নজরে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন! আজ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে কিরণময় নন্দ

মঙ্গলবার বিকেল চারটে নাগাদ কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো র বাসভবনে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী সভাতেও উপস্থিত থাকতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিরণময় নন্দ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কিরণময় নন্দ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ফাইল ছবি সংগৃহীত

উত্তরপ্রদেশ মহারণের দামামা বেজে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ও ফলাফলের তারিখ ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার আগেই মঙ্গলবার বিকেলে মহারণের দিক নির্দেশ করতে সমাজবাদী পার্টির নেতা কিরণময় নন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু যে গোয়া ও ত্রিপুরা রাজ্যের ওপরে তৃণমূলের পাখির চোখ তা নয়। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতেও নিজেদের ভিত মজবুত করতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল চারটে নাগাদ কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো র বাসভবনে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী সভাতেও উপস্থিত থাকতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশপাশি এ রাজ্যেও সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে নতুন করে কোন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করা যায় কিনা সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত রাজ্যে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় থাকাকালীন দীর্ঘদিন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী ছিলেন কিরণময় নন্দ। সেই সময় তাঁর সমাজবাদী পার্টি বামফ্রন্টের সহযোগী দল হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতো। যদিও ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পরেই বামফ্রন্টের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন কিরণময় নন্দ ও তাঁর সমাজবাদী পার্টি।

উল্লেখ্য, গঙ্গাপাড়ের গোবলয় রাজনীতিতে উত্তরপ্রদেশের ভোট কার্যত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, যার প্রভাব থাকে জাতীয় রাজনীতির আঙিনাতেও। ৪০৩ আসনের উত্তরপ্রদেশের ভোটের হাত ধরেই ২০২২ এর পর ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পিচ প্রস্তুতিতে সবকটি রাজনৈতিক দল মনোনিবেশ করবে বলে মনে করছেন বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

উল্লেখ্য, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন সাত দফায় চলার পর শেষ হবে ৭ মার্চ। এরপর ফল ঘোষণা ১০ মার্চ। তবে ১০ মার্চ শেষ হাসি কে হাসবে, তা নির্ভর করে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক কয়েকটি ফ্যাক্টরে। আর এই ভোট ফ্যাক্টর নিয়েই বিশ্লেষকদের পর্যালোচনা উঠে আসছে।

উত্তরপ্রদেশের বুকে যে রাজনৈতিক ঘরানা সচরাচর দেখা গিয়েছে , তা হল জাতির ভিত্তিতে ভোটব্যাঙ্ক ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার। তবে ঘরানায় সামান্য বদল দেখা যায় ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে। যেবার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে যান নরেন্দ্র মোদী।

উল্লেখ্য, বহু রাজনৈতিক অঙ্কে প্রভাব ফেলে উত্তরপ্রদেশের বুকে বারাণসী থেকে ভোটে সেবার দাঁড়িয়েছিলেন গুজরাতের ভূমিপুত্র। এমনই মত বহু বিশ্লেষকের। মোদী ছিলেন ভিন রাজ্যের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তবুও উত্তরপ্রদেশের মাটি থেকে তাঁর জয় ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা, রাজ্যের রাজনৈতিক ঘরানায় এক বড় বদল বলে মনে করেন বহু বিশেষজ্ঞ।

মনে করা হয়, ২০১৪ সালে প্রথমবার জাতিভিত্তিক রাজনৈতিক অঙ্কের বাইরে বেরিয়ে এসে, উত্তরপ্রদেশ নেতা ভিত্তিক রাজনৈতিক সমর্থনের রাস্তায় হাঁটে। পাল্টাতে থাকে উত্তরপ্রদেশের 'ভোটিং বিহেভিয়ার'। উল্লেখ্য, এরপর উত্তরপ্রদেশে ২০১৭ বিধানসভা ভোট, ২০১৯ লোকসভা ভোট হয়। বিজেপি কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে যায় গঙ্গাপাড়ের এই রাজ্যে। ২০১৯ সালে বিজেপি ৫০ শতাংশ আসনে দখল রেখেছিল।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in