রাষ্ট্র বনাম কিশোর বিদ্রোহ: বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের তিন বছর

সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের এই আন্দোলনকে ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ বলে চিহ্নিত করা হয়। অনেকেই এই আন্দোলনকে রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ‘কিশোর বিদ্রোহ’ বলেও আখ্যায়িত করে থাকেন।
রাষ্ট্র বনাম কিশোর বিদ্রোহ: বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের তিন বছর
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, বাংলাদেশফাইল ছবি জি কে সাদিক

বাংলাদেশে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোরদের এই আন্দোলনকে ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ বলে চিহ্নিত করা হয়। অনেক বিশ্লেষকই শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ‘কিশোর বিদ্রোহ’ বলেও আখ্যায়িত করে থাকেন।

সেদিন রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দ্রুতগতির দু’টি বাসের সংঘর্ষে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়া নিহত ও ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে নিহত দুই কলেজ শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরবর্তীতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। মানববন্ধন, শান্তিপূর্ণ অবরোধ ও বিক্ষোভের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ২৯ জুলাই থেকে শুরু হয়ে টানা ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলে।

এরই মধ্যে পুলিশ, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ও যুব সংগঠন আন্দোলনকারীদের উপর সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। আন্দোলনের খবর সংগ্রহকালে অনেক সাংবাদিক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার শিকার হয়। এছাড়াও ফেসবুকে কথিত গুজব ছড়ানোর অভিযোগের বিভিন্ন জনের নামে আইসিটি আইনে মামলা ও গ্রেফতার করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলন নিয়ে ভুল তথ্য দেয়ার অভিযোগ তুলে বিখ্যাত আলোকচিত্রি শহিদুল আলমকে সাদা পোশাকের ডিবি পুলিশ তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং তিনি তিন মাস জেল খাটেন। তখন শহিদুল আলমকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনও করা হয়।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, বাংলাদেশ
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, বাংলাদেশফাইল ছবি জি কে সাদিক

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:

ওই দিন কলেজ ছুটির পর শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল এবং একটি বাস থামলে সেটাতে ওঠার চেষ্টা করে। এমন সময় জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাস যাত্রী তোলা নিয়ে পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের উপর তুলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয় এবং ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। এই ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থীরা বাসের চালকের বিচার দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের আন্দোলনের সাথে নিকটবর্তী অন্যান্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়। ফলে বিক্ষোভ ক্রমে বড় হতে থাকে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানতে সাংবাদিকরা নৌপরিবহনমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সভাপতি শাজাহান খানকে প্রশ্ন করলে তিনি হাসিমুখে বলেন, ‘ভারতের মহারাষ্ট্রে গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা গেছে। এখন সেখানে কী আমরা যেভাবে এগুলোকে নিয়ে কথা বলি, এগুলো কি ওখানে বলে?’ দু’জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবরে নৌমন্ত্রীর এমন হাস্যোজ্বল বক্তব্যে সারাদেশের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা শুরু হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও শাজাহান খানের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ করে তার পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করে।

শিক্ষার্থীরা ৩০ ও ৩১ জুলাই নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে বিমানবন্দর সড়ক, উত্তরা, মিরপুর, ধানমন্ডি ও মতিঝিলের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয় এবং রেলস্টেশন অবরোধ করে। ফলে রাজধানী ঢাকা থেকে সারাদেশের সড়ক ও রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে সারাদেশ অনেকাংশে স্থবির হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় পুলিশ সাঁজোয়া যান ও জলকামান নিয়ে ছাত্রদের ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১ আগস্ট থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, বরিশালসহ সারাদেশের ৪২টি জেলার শিক্ষার্থীরা শাজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। সারাদেশে এই আন্দোলন ৬ আগস্ট পর্যন্ত জোরালোভাবে চলে। যার ফলে গোটা দেশের যান চলাচলসহ সব ধরণের কাজে স্থবিরতা দেয়া দেয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ট্রাফিকও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবস্থান নিয়ে গাড়ি থামিয়ে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করতে শুরু করে। তারা লাইসেন্সহীন চালক ও ফিটনেস বিহীন চলার অনুপযোগী গাড়িগুলো ট্রাফিক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে ও মামলা নিতে বাধ্য করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংসদ সদস্য এমপি-মন্ত্রী, বিচারক, পুলিশের ডিআইজি, সেনাবাহিনীর গাড়ি, উচ্চপদস্থ বিভিন্ন সরকার কর্মকর্তাদের গাড়ি থামিয়ে চালক ও গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করে। লাইসেন্স না থাকায় ও ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়ের আহমেদের গাড়ি, রেলমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রী, কয়েক জন সংসদ সদস্য, বিচারক ও পুলিশ প্রধানের গাড়ি আটকে দেয়। শিক্ষার্থীরা সড়কের বিশৃঙ্খল ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে, পথচারীদের ট্রাফিক নিয়ম মানানো, রাস্তা পরিষ্কার ও ভাঙ্গা রাস্তা সংকারের কাজও করে। সড়কে গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে লেন মেনে চলা এবং এম্বুলেন্স ফারায় সার্ভিস ও হজ্জযাত্রীদের গাড়ির জন্য আলাদা ইমার্জেন্সি লেনও করে দেয়। বাংলাদেশে এমন ইমার্জেন্সি লেন এর আগে কখনও করা হয়নি। এছাড়াও সারাদেশের কোথাও কোথাও ছাত্ররা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পুলিশের কাজে সহযোগিতা করে এবং পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে ফুল ও চকলেট বিনিময়ও করতে দেখা যায়।

স্কুল-কলেজের কিশোর শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন সারাদেশেই কোনো ধরণের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও তৎপরতা ছাড়াই স্বতস্ফুর্তভাবে চলতে থাকে। আগস্টের ১ তারিখ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক, সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। যার ফলে তারাও স্কুল-কলেজের ছাত্রদের এই আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়ে মাঠে নেমে আসে। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনের সংহতি জানিয়ে ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমে আসে। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রাস্তায় নেমে আসে। সাবেক চলচ্চিত্রাভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনসহ অন্যান্য নাগরিক সংগঠনগুলোও ছাত্রদের আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন করে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা সম্মতির পাশাপাশি রাস্তায়ও নেমেও সমর্থন জানান। অনেক অভিভাবক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ি থেকে খাবার রান্না করে এনে নিজ হাতে তুলে খাইয়ে দেন।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, বাংলাদেশ
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, বাংলাদেশফাইল ছবি জি কে সাদিক

আন্দোলনকারীদের উপর সহিংসতা :

আন্দোলনের পরিধি ও বিক্ষোভ যত বাড়ছিল এর সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হেলমেট ধারীদের হামলা। অন্যদিকে পুলিশ ছাত্রদের নামে মামলা করে অনেক ছাত্রকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ আন্দোলনকারী ও আন্দোলনে সহায়তাকারী, খাবার সরবরাহকারী, সহিংসতা, উস্কানি, গাড়ি ভাঙচুর, অপপ্রচার প্রভৃতি অভিযোগে ৫১টি মামলা করে। এই মামলাগুলোয় শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীসহ ৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও মামলাগুলোয় অজ্ঞাতামনামা প্রায় ৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া রাজধানীর শাহবাগ ও তেজগাঁওয় থানায় ৮৮ জন শিক্ষার্থীকে আটকের পর আন্দোলনকারীরা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ২৩ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫১ জন জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। এখনও পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর নামে মামলা চলমান রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের উপর একদিকে যেমন পুলিশ সহিংস আচরণ করেছে অন্যদিকে সরকারের সমর্থক, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের কর্মীরা সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এসব হামলার শিকার হয় স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং আন্দোলনের খবর সংগ্রহে দায়িত্বরত সাংবাদিকরা। কেবল রাজধানী ঢাকাতেই এসব হামলায় ১১৫ জন শিক্ষার্থী ও ১৫ জন সাংবাদিক আহত হয়। দুর্ঘটনার পরদিন তথা ৩০ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে পুলিশ সাঁজোয়া যান ও জলকামান নিয়ে ছাত্রদের ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে; তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি চালায়।

পুলিশের সংহিসতা চলাকালেই ২ আগস্ট থেকে ক্রমাগতভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হেলমেট পরে ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। সরকারি দলের এসব কর্মীরা পুলিশের সাথে থেকে আক্রমণ চালালেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি। এখনও পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি ২ আগস্ট পুলিশের বৈঠকে আন্দোলন ঠেকাতে সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

এভাবে পুলিশের পাশাপাশি সরকার দলের বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরাও আন্দোলনাকারীদের উপর সহিংসতা শুরু করে। ২ আগস্ট রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা হেলমেটপরে লাঠিসোটা নিয়ে সজ্জিত হয়ে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়। ৩ আগস্ট ধানমণ্ডিতে আন্দোলনের ছবি ও ভিডিয়ো ধারণা করায় প্রিয় ডটকমের সাংবাদিক প্রদীপ দাসের উপর হামলা করে এবং প্রিয় ডটকমের অফিসে হামলা চালায়। ৪ আগস্ট জিগাতলায় পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা যৌথভাবে ছাত্রদের উপর হামলা চালায়। এই হামলায় কয়েকশ শিক্ষার্থী আহত হয়। এসময় তারা সাংবাদিকদের উপরেও হামলা চালায় এবং সহিংসতার ভিডিয়ো ও ফটো মুছে ফেলতে বাধ্য করে। নারী সাংবাদিকের শ্লীলতাহানি করে। সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এমন সহিংসতার উত্তাপের শিকার হয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও। ৪ আগস্ট রাতে মোটরসাইকেল-আরোহী একদল সশস্ত্র লোক বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা চালায়। নাগরিক সংগঠন 'সুজন'র সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতেও হামলা হয়। উক্ত দুটি হামলায় কেউ আহত না হলেও ঘটনার রেশ অনেক দূর গড়ায়।

একই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় পুলিশ ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ কর্মীদের যৌথ হামলায় বৃদ্ধ, নারী, পথচারীসহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দৈনিক বণিক বার্তা ও যুগান্তরের ফটোজার্নালিস্টসহ একজন ফ্রিল্যান্স ফটোজার্নালিস্টও হামলার শিকার হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও হামলাকারীদের ঠেকানোর কোনো চেষ্টা তো করেই উল্টো আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগ ৫ আগস্ট রবিবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেয়ায় ৫ আগস্ট রাতে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে সাদাপোশাকে পুলিশ তাকে আটক করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। পরদিন তাকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ‘গণমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালত তাকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। আদালতে দেয়া শহিদুল আলমের ভাষ্য মতে, রিমান্ডে তাকে মারধোর করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিনমাস পর ২০ নভেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এছাড়াও ২৯ জন ব্যক্তি ও নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সম্পর্কিত খবর প্রচারের অভিযোগে মামলা করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। ছাত্র আন্দোলনের খবর ও ভিডিয়ো সম্প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তর টিভি ও নিউজ২৪’কে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ৬ আগস্ট নর্থ সাউথ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ইস্ট ওয়েস্টসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত ও শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে ২২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটির বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পুলিশ ১১ জনকে আটক করে। ৩০ জুলাই থেকেই এভাবে রাজধানীসহ সারাদেশেই পুলিশ ও সরকারি দলের বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলনকারীদের উপর ক্রমে সহিংসতা চালায়। পুলিশের এমন ধরপাকড় ও নির্যাতনের মধ্যেও ৭ আগস্ট রাজধানী ঢাকায় ঢিলেঢালা আন্দোলন চলে। সর্বশেষ ৮ আগস্ট ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গ্রেপ্তারকৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তি চেয়ে ক্লাস বর্জন করে। এরপর আর কোথাও আন্দোলনের খবর পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতার বিষয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৎকালীন সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণের সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। পুলিশপ্রধান জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ সহনশীল ছিল এবং আন্দোলনে উসকানিদাতা ও অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষনেতা অভিযোগ করে যে, কিছু সন্ত্রাসী স্কুল ইউনিফর্ম পরে সহিংস কাজ করছে। ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী দাবি করেন, ‘ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ কাউকে নখের আঁচড়ও মারেনি। ৫ আগস্ট অস্ত্রসজ্জিত স্কুলড্রেস-পরিহিতরাই ছাত্রলীগের ওপর আক্রমণ করে। ছাত্রদের ব্যাগে পাথর ও রিভলবার ছিল এবং সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের অনেক কর্মী আহত হয়েছেন।’

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, বাংলাদেশ
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, বাংলাদেশফাইল ছবি জি কে সাদিক

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া :

বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিভিন্ন দেশে কর্মসূচি পালিত হয়। ৬ আগস্ট ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ডিএসও সংগঠনের কর্মীরা আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, এস্তোনিয়া ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশীরা আন্দোলনের সমর্থনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে।

এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার পক্ষ থেকে এবং বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সরকারের আচরণের নিন্দা জানিয়ে এবং তাদের উপর যে সহিংসতা হয়েছে তার বিচার দাবি করা হয়। জাতিসংঘ আন্দোলনকারী স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানায়। মার্কিন দূতাবাস আন্দোলনারীদের উপর হামলা ও ছাত্রদের বিরুদ্ধের সরকারের ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিবাদে নিন্দা জানায়। বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের প্রতি শিক্ষার্থীদের সমাবেশ করার অধিকার ও বাকস্বাধীনতা খর্বকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানায়। সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালসট্রোম ঢাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সরকারের প্রতি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বান করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য চিলড্রেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৭ আগস্ট শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার তদন্ত ও বিচারের দাবি জানায়। আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর ‘বেআইনিভাবে আক্রমণ’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ সমালোচনার’ কারণে লোকজনকে গ্রেপ্তার করার জন্য সরকারের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয় নিউইয়র্ক-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে সমাজকর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তি দাবি করে এবং আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধ; তাদের ওপর হামলার তদন্ত দাবি করে। রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডার্স গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সাথে সম্পৃক্ত সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আহ্বান জানায়। শহিদুলের তাৎক্ষণিক মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দেয় লেখক ও সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনাল। এছাড়াও শহিদুল আলমের মুক্তি চেয়ে ১৭ জন নোবেল বিজয়ীসহ এমআইটি’র অধ্যাপক মার্কিন লেখক-দার্শনিক নোম চমস্কি, কানাডীয় লেখক নাওমি ক্লেইন, ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায় ও বুদ্ধিজীবী বিজয় প্রসাদ প্রমুখ যৌথ বিবৃতি দেন। সর্বপোরী বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ একটি আন্তর্জাতিক মাত্র লাভ করে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া :

দু’জন কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সরকারের প্রতিক্রিয়ায় ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানা, প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় আন্দোলন বন্ধ করে স্কুলে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে তা ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার নাম করে শিক্ষামন্ত্রণালয় ২ আগস্ট থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। অন্যদিকে ৩ আগস্ট নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে অনুদান হিসেবে ২০ লাখ করে টাকা দেয় হয় এবং শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টমেন্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে ৫টি স্কুল বাস দেয়া হয়।

সারাদেশ ব্যাপী আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে। কারণ সরকার প্রথম থেকেই আন্দোলনের খবর প্রকাশ না করতে মিডিয়াগুলোর উপর কড়া চাপ প্রয়োগ করে। যার ফলে আন্দোলনের খবর মিডিয়ায় খুব বেশি ফলাও করে প্রচার করতে পারেনি। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরার পর তারাও আর সেন্সর করতে পারেনি। তথাপি এই আন্দোলন সংগঠিত হওয়ার মূল মাধ্যম ছিল ফেসবুক। সরকার আন্দোলন থামানো জন্য ৪ আগস্ট ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট অ্যাকসেস বন্ধ করে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদেরকে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে ১.২৮ কিলোবাইট/সেকেন্ড করার আদেশ দেয়া হয়। যাতে করে ইন্টারনেটে বা ফেইসবুকে কোনো ছবি বা ভিডিয়ো আপলোড না করা যায়। তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ফেসবুক রাষ্ট্রকে বিপন্ন করলে রাষ্ট্রকে বাঁচাতে এরূপ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।’ ৫ আগস্ট কর্তৃপক্ষ আবার মোবাইলের ৩জি ও ৪জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সারাদেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাময়িক ‘ব্ল্যাকআউট’ সৃষ্টি হয়।

আন্দোলন নিয়ে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী গণভবনের এক অনুষ্ঠানে ছাত্রদের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ প্রবেশ করেছে দাবি করে অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভায় ‘শিক্ষার্থীরা কোনো আন্দোলনই করতে পারেনি’ বলেও মন্তব্য করে এবং এই আন্দোলন নিয়ে মন্ত্রীদেরকে বিচলিত না হতে পরামর্শ দেন তিনি। ৬ আগস্টের মন্ত্রিসভায় নতুন ট্রাফিক আইনের খসড়া অনুমোদিত হয়। যেখানে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী মোটরযান দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষ হত্যা করলে মৃত্যুদণ্ড এবং বেপরোয়াভাবে চালিয়ে হত্যা করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ডের বিধান করা হয়। সে বছর ১৯ সেপ্টেম্বর আইনটি সংসদে পাশ হয়।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে আইনটি পাশ হলেও কার্যকর করা হয় ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে। আইনটি প্রয়োগের পর পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতির মুখে সরকার চারটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রাখে। পরে সে মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এর ফলে আইনটি পাশ হলেও তেমন কোনো ফল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে আইনটির ৭৪, ৮৪, ৯৮ ও ১০৫ ধারায় মামলা করছে না পুলিশ।

শিক্ষার্থীদের ৯ দফা :

১. গতিতে গাড়ি চালিয়ে দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী চালককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।

২. দুর্ঘটনার পর করা নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

৩. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাতে স্পিডব্রেকার দিতে হবে।

৫. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

৬. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে, থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে।

৭. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবে না।

৯. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।

এই দাবিগুলোর মধ্যে পরে শিক্ষার্থীরা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ৬ নং দফা থেকে সরে আসে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার জরিপ মতে দৈনিক কম করে হলেও ৬৪ জন মানুষ সড়কে দুর্ঘটনা জনিত কারণে প্রাণ হারায়। আহত হন কয়েক শত মানুষ। এছাড়ও প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়। বাস চালক, হেলপার ও সহকারী কর্তৃক যাত্র হয়রানির ঘটনাও অহরহ ঘটছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দু জন শিক্ষার্থী বাস শ্রমিকদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়। শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে রাতের আধারে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ছাত্রাবাসগুলোতে হামলা চালায়। একইভাবে বাস শ্রমিকদের দ্বারা শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের কিশোর শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলন ছিল সড়কে চরম অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন। সেই আন্দোলনের অন্যতম স্লোগান ছিল ‘রাস্তা বন্ধ, রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চলছে।’

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in