মানুষ তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে পথ খুঁজছেন, একমাত্র বিকল্প সংযুক্ত মোর্চা - মহম্মদ সেলিম

যত নির্বাচন এগোচ্ছে, উত্তাপ যত বাড়ছে তৃণমূল তত গলতে শুরু করেছে। আজকে দাঁড়িয়ে একথা স্পষ্ট যে মানুষ তৃণমূলের এই অপশাসনের বিরুদ্ধে পথ খুঁজছেন। সংযুক্ত মোর্চা বিকল্প হিসেবে হাজির হয়েছে।
মানুষ তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে পথ খুঁজছেন, একমাত্র বিকল্প সংযুক্ত মোর্চা - মহম্মদ সেলিম
সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিমনিজস্ব চিত্র

যত নির্বাচন এগোচ্ছে, উত্তাপ যত বাড়ছে তৃণমূল তত গলতে শুরু করেছে। আজকে দাঁড়িয়ে একথা স্পষ্ট যে মানুষ তৃণমূলের এই অপশাসনের বিরুদ্ধে পথ খুঁজছেন। সংযুক্ত মোর্চা বিকল্প হিসেবে হাজির হয়েছে। বিজেপি একটা বিভেদকামী শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তারা এমন কিছু বিষয় নিয়ে আসছে যার সঙ্গে মানুষের সমস্যার কোনো সম্পর্ক নেই। গত ১ বছরে করোনা কালে রাজ্য সরকার যেরকম ব্যর্থ কেন্দ্রীয় সরকার সেরকমই ব্যর্থ। কর্মহীন মানুষের জন্য কোনো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নেই। আমরা বামপন্থীরা বারবার এই বিষয়ে দাবি জানিয়েছি। শনিবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম।

এদিন চন্ডীতলা কেন্দ্রের সংযুক্ত মোর্চার বামফ্রন্ট প্রার্থী মহম্মদ সেলিম বলেন - বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে ততই তৃণমূল বিজেপি ভাগের রাজনীতি করছে, বিভাজনের রাজনীতি করছে। আর আমরা তখন যোগের রাজনীতি করছি। যখন মানুষের সমস্যার কথা আমরা তুলে আনছি, তখন ওরা মন্দির মসজিদ নিয়ে আসছেন। আজকেও মোদী যেমন ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তৃতা করেছেন, মমতা ব্যানার্জিও তেমন উসকানিমূলক বক্তব্য রাখছেন। আমরা বলছি হও ধরমেতে ধীর হও করমেতে বীর। আর ওরা বলছে হও ধরমেতে বীর, করমেতে ধীর। আর এর সঙ্গে নিয়ে আসছেন বিভ্রান্তিমূলক প্রচার।

বিজেপি এবং তৃণমূল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এদিন তিনি বলেন - এঁরা প্রতিদিন মিথ্যাচার করছেন। স্বাস্থ্যে বাজেট কমিয়ে দিয়েছে। আর একদিকে মমতা ব্যানার্জি স্বাস্থ্যসাথীর গল্প বলছেন, অন্যদিকে মোদী আয়ুষ্মান ভারতের কথা বলছেন। এ দুটোই ইন্সিওরেন্স কার্ডের বিষয়। এগুলো মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা নয়। মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌছে দেবার জন্য যেখানে যেখানে মেডিক্যাল কলেজ নেই সেখানে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করার কথা। কিন্তু তাঁরা সেকথা বলছেন না।

কেন্দ্রের বিজেপি সরকার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এদিন সেলিম বলেন - করোনাটা বিজেপির কাছে ফেস্টিভ্যাল। এঁরা এখনও ফেস্টিভালের মৌতাতে রয়েছেন। এই সময়ে আদানী আম্বানীদের মত বৃহৎ পুঁজিপতিদের এই সময় মুনাফা বেড়েছে। আর সাধারণ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার তাঁদের দিকে তাকায়নি। এখন মোদী বলছেন তিনি এখানে ক্ষমতায় এলে টাকা দেবেন।

বিজেপির ডবল ইঞ্জিন প্রচার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এদিন তিনি বলেন - এখন মোদী ডবল ইঞ্জিনের কথা বলছেন। এই তিনিই আগে দুটো লাড্ডুর কথা শোনাননি? এক হাতমে দিদি আর দুসরে হাতমে মোদীকা লাড্ডু রহেগা। সেটা কী ছিলো? ত্রিপুরায় তো ডবল ইঞ্জিন সরকার। বিহারে আছে। উত্তরপ্রদেশে আছে। ঝাড়খন্ডে ছিলো। এখন নেই। আমরা বারবার বলছি মানুষের জীবন জীবিকার প্রশ্নে, প্রান্তিক মানুষ দুর্বল মানুষের জন্য কাজ করতে হবে তখন এই সরকার সবথেকে বিত্তশালী, সবথেকে ক্ষমতাশালীদের জন্য কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন - এবারের ম্যানিফেস্টোতে বলেছেন মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা নেবেন। এ তো বহু পুরোনো কথা। এটা তো দেশের ব্যাপার। রাজ্যের ব্যাপার তো নয়। এতদিন করেননি কেন?

কৃষকদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এদিন সিপিআই(এম) নেতা বলেন - কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করবেন বলেছিলেন। মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন তিনগুণ করবেন। কিন্তু কিছুই হয়নি। আজও কৃষি আইনের বিরুদ্ধে যে লড়াই হচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকার সেই সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ। জল কামান, লাঠিগুলি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা যায় না।

সিঙ্গুরে শিল্প প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন - আজ মোদী সিঙ্গুরে কারখানা করার কথা বলছেন। আর মমতা যখন সিঙ্গুরে কারখানা তাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তখন ওনার পূর্বসূরী রাজনাথ সিং এসে মমতার কানে কানে কথা বলে গেছিলেন। কীভাবে গোটা সিঙ্গুর আন্দোলন স্পনসর্ড হয়েছিলো আমাদের দেশের কিছু বৃহৎ পুঁজি এবং মোদী, গুজরাতের স্বার্থে তা আমরা জানি। এটা ছিলো তৃণমূল বিজেপির জয়েন্ট প্রোজেক্ট।

ডোমজুড়ে প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। উত্তরপাড়ায় প্রবীর ঘোষাল। এঁরা কারা? বিজেপি কোথায়? কোন বিজেপির কথা বলছেন মোদী শাহ? এঁরা তো সব টিএমসি প্রাক্তনী। এতদিন যারা তোলাবাজি করেছে, সর্বনাশ করেছে, সিন্ডিকেট রাজ করেছে তাঁদের নিয়েই তো কারবার। নতুন কোথায়? রাজ্যে নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিজেপির নেতা, আরএসএস-এর নেতা, কিছু দাঙ্গাকারীকে নিয়ে আসা হয়েছে। এদেরকে তৃণমূল আটকাতে পারবেনা। এদের রুখতে পারবে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, আই এস এফ-এর সংযুক্ত মোর্চা। আমরা এই ঐক্যবদ্ধ শক্তি রাজ্যকে রক্ষা করার শপথ নিয়েছি। নির্বাচনী উত্তাপ যত বাড়বে তৃণমূল তত গলবে। কিছু টাকা দিয়ে ভাড়াটে লোক দিয়ে বিজেপি প্রচার চালাচ্ছে। প্রত্যেক সপ্তাহে মোদীকে আসতে হচ্ছে। কারণ অন্য রাজ্যের ভাড়াটে সৈনিকরা এ রাজ্যে এসে তল পাচ্ছেন না।

রাজ্যের সংযুক্ত মোর্চা প্রসঙ্গে সেলিম বলেন - আইএসএফ বামফ্রন্ট কংগ্রেস হচ্ছে সেই শক্তি যারা কখনোই বিজেপির সঙ্গে যায়নি। যাবে না। আর মমতা ব্যানার্জি নিজে বলেছেন কে বিজেপিতে চলে যাবে তিনি নিজেই জানেন না। রায়গঞ্জে তৃণমূলের প্রার্থী বলছেন ভোটের আগে না হলে ভোটের পরে বিজেপিতে যেতে পারেন। এই নিয়ে তো তৃণমূলের কারবার। কাজেই মমতা ব্যানার্জি কী বলছেন তাতে কিছু যায় আসে না। এঁরা সবাই তৃণমূলের আঁতুড় ঘরে জন্ম নিয়ে বিজেপির জঞ্জাল বক্সে গিয়ে জমা হয়েছেন। ওনার নিজের আয়নার সামনে দাঁড়ানো উচিত। ফুরফুরায় রেললাইন করবেন কে বলেছিলেন? স্টেশনের শিলান্যাস করে দিয়েছিলেন। কোনো পরিকল্পনা ছাড়া এভাবে ঘোষণা করা যায় নাকি?

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.