NEET Paper Leak: হেডলাইনে CJP, জয়ের ভিত যৌথ সংগ্রাম

People's Reporter: AISA, SFI, AISF এবং তাদের রাজনৈতিক ধারার CPI(ML) Liberation, CPI(M), CPI, DYFI ও AIYF আন্দোলনকে দিয়েছে স্থায়িত্ব, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক ব্যাখ্যা এবং দমন মোকাবিলার শক্তি।
যন্তর মন্তরে সিজেপি ও অন্যান্য সংগঠনের অবস্থান বিক্ষোভ
যন্তর মন্তরে সিজেপি ও অন্যান্য সংগঠনের অবস্থান বিক্ষোভগ্রাফিক্স সুমিত্রা নন্দন
Published on

দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে AISA, SFI, AISF এবং বাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলির আড়ালে থাকা ভূমিকা

কোনও আন্দোলন জয়ী হলে সংবাদমাধ্যম সাধারণত একটা মুখ খোঁজে। একটা নাম, একটা ছবি, একটা সংগঠন, যার মধ্যে গোটা আন্দোলনের গল্পকে গুটিয়ে ফেলা যায়। দিল্লির সাম্প্রতিক ছাত্র-যুব আন্দোলনের ক্ষেত্রে সেই নাম Cockroach Janata Party বা CJP। অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্ব, প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির ভাষাকে উল্টে দেওয়া ব্যঙ্গ, সামাজিক মাধ্যমের দ্রুত ব্যবহার এবং আগে কোনও ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এমন অসংখ্য তরুণকে পথে নামানোর ক্ষমতা, সব মিলিয়ে CJP এই আন্দোলনের দৃশ্যমান মুখ হয়ে উঠেছে।

এই স্বীকৃতি তাদের প্রাপ্য। কিন্তু কোনও আন্দোলনের পরিচিত মুখ আর তার সম্পূর্ণ সাংগঠনিক শরীর এক জিনিস নয়। টানা কয়েক সপ্তাহ অবস্থান চালানো, অনশন সংগঠিত করা, আহতদের চিকিৎসা, খাবার, জল, রাত পাহারা, রাজনৈতিক আলোচনা, আইনি লড়াই, দেশজুড়ে সংহতি এবং পুলিশ মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার পরে তাকে আবার দাঁড় করানো - এই অদৃশ্য শ্রমের ইতিহাসও খুঁজতে হয়।

সেই ইতিহাস বলছে, দিল্লির জয় কোনও একক সংগঠনের নয়। CJP আন্দোলনকে নতুন ভাষা, বিস্তার ও পরিচিতি দিয়েছে। AISA, SFI, AISF এবং তাদের রাজনৈতিক ধারার CPI(ML) Liberation, CPI(M), CPI, DYFI ও AIYF আন্দোলনকে দিয়েছে স্থায়িত্ব, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক ব্যাখ্যা এবং দমন মোকাবিলার শক্তি। তারা CJP-র প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে আসেনি; এসেছে সহযোদ্ধা হয়ে।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার নামে কোটি টাকার কোচিং ব্যবসা, বছরের পর বছর প্রস্তুতির পরে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাওয়া এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির বাইরে থাকা, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বিস্ফোরক হয়ে উঠেছিল।

ক্ষোভ ছিল, তাকে জাতীয় ভাষা দিয়েছে CJP

NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস, NTA-র ব্যর্থতা, মূল্যায়নের অনিয়ম এবং বারবার পরীক্ষা বিপর্যয়ের ফলে দেশের ছাত্রছাত্রী ও পরিবারগুলির মধ্যে ক্ষোভ আগে থেকেই জমছিল। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার নামে কোটি টাকার কোচিং ব্যবসা, বছরের পর বছর প্রস্তুতির পরে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাওয়া এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির বাইরে থাকা, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বিস্ফোরক হয়ে উঠেছিল।

CJP এই ক্ষোভকে নতুন রাজনৈতিক ভাষ্য দেয়। যে ব্যবস্থায় ছাত্রদের মানুষ নয়, যেন পিষে ফেলা যায় এমন “ককরোচ” মনে করা হয়, সেই অপমানকেই তারা পরিচয়ে বদলে দেয়। ফলে এমন বহু তরুণ-তরুণী এই আন্দোলনে যুক্ত হন, যাঁরা প্রচলিত ছাত্র রাজনীতির ভাষায় নিজেদের খুঁজে পেতেন না। CJP আন্দোলন সেই দরজাকে বড়ো করে খুলে দেয়।

কিন্তু দরজা খুলে দেওয়া আর হাজার হাজার মানুষের শক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনে রূপান্তর করা আলাদা কাজ। দ্বিতীয়টির জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, সংগঠন, রাজনৈতিক ধৈর্য এবং প্রতিদিনের শ্রম। সেখানেই বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

CJP জনক্ষোভকে দ্রুত জাতীয় দৃশ্যমানতা দিয়েছে। SFI সেই ক্ষোভকে আগে থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ এবং জবাবদিহিহীনতার বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করছিল।

আন্দোলনের আগে থেকেই মাটি তৈরি করছিল SFI

যন্তর মন্তরের অবস্থান শুরু হওয়ার আগেই SFI প্রশ্নপত্র ফাঁস, NTA-র জবাবদিহিহীনতা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রচার শুরু করেছিল। তাদের “Enough is Enough” অভিযানে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, NTA বিলোপ, পরীক্ষা পরিচালনার বিকেন্দ্রীকরণ, স্বাধীন তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের ন্যায়বিচারের দাবি তোলা হয়।

সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রচারে দু'লক্ষের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়েছিল এবং দেশের বহু জেলা থেকে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত হয়েছিলেন। অভিযোগ নথিভুক্ত করা ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছিল। অর্থাৎ দিল্লির রাস্তায় বিস্ফোরণের আগে থেকেই দাবিগুলিকে সংগঠিত রাজনৈতিক ভাষা দেওয়ার কাজ চলছিল।

CJP জনক্ষোভকে দ্রুত জাতীয় দৃশ্যমানতা দিয়েছে। SFI সেই ক্ষোভকে আগে থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ এবং জবাবদিহিহীনতার বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করছিল। এই দুই প্রবাহের মিলন আন্দোলনকে শুধু একটি পরীক্ষার ক্ষোভে আটকে থাকতে দেয়নি।

ক্রান্তি কর্নার: আন্দোলনের ভেতরে রাজনৈতিক পরিসর

যন্তর মন্তরের দীর্ঘ অবস্থানে SFI-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ কম আলোচিত উদ্যোগ ছিল “ক্রান্তি কর্নার”। যাকে শুধুমাত্র একটি তাঁবু বা সংগঠনের আলাদা বসার জায়গা বলে দেখলে ভুল হবে। দিনের মূল কর্মসূচির বাইরে এটি হয়ে উঠেছিল আলোচনা, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং সংহতির সক্রিয় কেন্দ্র।

সেখানে ছাত্ররা পরীক্ষা ব্যবস্থার সংকট, শিক্ষা বাজেট, বেসরকারিকরণ, বেকারত্ব, NEP, কোচিং শিল্প এবং রাষ্ট্রীয় দমন নিয়ে কথা বলতেন। কবিতা, গান, প্রতিবাদী আবৃত্তি, ছোট সভা, পথনাটক এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ক্রান্তি কর্নার অবস্থানস্থলকে জীবন্ত রাখত।

দীর্ঘ আন্দোলনে মানুষ শুধু স্লোগান দিয়ে টিকে থাকতে পারে না। কেন লড়াই, কার বিরুদ্ধে লড়াই, একটি প্রশ্নপত্র ফাঁস কীভাবে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার শ্রেণিগত অসাম্যের সঙ্গে যুক্ত, এই বোঝাপড়াও তৈরি করতে হয়। ক্রান্তি কর্নার সেই কাজ করেছে নিঃশব্দে।

এই মঞ্চ CJP-র মূল মঞ্চের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। বরং আন্দোলনকে রাজনৈতিক গভীরতা দিয়েছে। CJP যেখানে নতুন জনসমর্থন ও দৃশ্যমানতা তৈরি করেছে, ক্রান্তি কর্নার সেই সমর্থনের ভিতরে আলোচনা, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক চেতনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

AISA-র অনশন: আন্দোলনের নৈতিক কেন্দ্র

AISA-র ভূমিকা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে অনশন কর্মসূচিতে। সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে AISA-সংযুক্ত নেহা বোরা, মণীশ কুমার, আমিন অমিতোজ-সহ একাধিক ছাত্রনেতা অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন টানা ২৩ দিন অনশন চালিয়ে যান।

প্রতীকী কয়েক ঘণ্টার কর্মসূচি না। দীর্ঘ অনশনে তাঁদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। সরকার যখন আলোচনায় বসতে টালবাহানা করছিল, তখন অনশনকারীদের শরীরই রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে প্রতিদিনের অভিযোগপত্র হয়ে উঠছিল।

AISA শুধু পতাকা নিয়ে উপস্থিত হয়নি; নিজেদের শরীরকে আন্দোলনের দাবির সঙ্গে যুক্ত করেছে। CJP আন্দোলনের বিস্তার তৈরি করেছে, AISA-র অনশন তাকে আত্মত্যাগের নৈতিক উচ্চতা দিয়েছে।

AISF: অবস্থানের দৈনন্দিন জীবন

AISF কর্মীরাও অবস্থান, আলোচনা, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, পাঠচক্র ও সংহতির কাজে সক্রিয় ছিলেন। দীর্ঘ অবস্থান আন্দোলন কয়েকটি বক্তৃতায় চলে না। প্রতিদিন নতুন মানুষ আসেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হয়, দাবিগুলি ব্যাখ্যা করতে হয়, খাবার, বিশ্রাম ও পাঠের জায়গা তৈরি করতে হয়।

AISF এবং অন্য বাম ছাত্র সংগঠনগুলি প্রতিবাদস্থলের এই দৈনন্দিন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবন বজায় রাখতে ভূমিকা নেয়। AISF-সংযুক্ত AIYF এবং SFI-সংযুক্ত DYFI দিল্লির বাইরেও সংহতি কর্মসূচি সংগঠিত করে। ফলে আন্দোলন ছাত্র, গবেষক, চাকরিপ্রার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও সাধারণ নাগরিকদের বৃহত্তর অংশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

আইনি লড়াইয়ে SFI ও CPI(M)

SFI নেত্রী এবং প্রাক্তন JNUSU সভাপতি ঐশী ঘোষ আন্দোলনকারীদের উপর নজরদারি, ছবি সংগ্রহ এবং facial recognition প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে যান। এই হস্তক্ষেপ আন্দোলনকে শুধু NEET বা NTA-র প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখেনি।

প্রশ্ন ওঠে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যোগ দেওয়া নাগরিকদের মুখ রাষ্ট্র কেন শনাক্ত করবে? সেই তথ্য কোথায় থাকবে? ভবিষ্যতে তা কি কলেজ, কর্মক্ষেত্র বা পুলিশের অন্য কোনও ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত হবে? প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কি নাগরিকের বিরুদ্ধে স্থায়ী ডিজিটাল নথিতে পরিণত হবে?

এই আইনি লড়াই আন্দোলনকে গোপনীয়তা, মর্যাদা, মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে।

অন্যদিকে, আন্দোলন তীব্র হওয়ার আগেই CPI(M) ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, NTA বিলোপ এবং পরীক্ষা পরিচালনার বিকেন্দ্রীকরণের দাবি তোলে। CJP-র কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহী ছাত্রদের পুলিশি হয়রানির অভিযোগ সামনে আসার পর বৃন্দা কারাট দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লেখেন। সিপিআইএম-এর এই ভূমিকা স্পষ্ট করে দেয় যে, আন্দোলন জনপ্রিয়তা লাভ করার পরে সুবিধা বুঝে তারা পাশে দাঁড়ায়নি; বরং প্রস্তুতিপর্ব থেকেই ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শিক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহির প্রশ্ন সমানভাবে তুলেছিল।

রাষ্ট্র ভেবেছিল কাঠামো ভাঙলে আন্দোলন ভেঙে যাবে। ছাত্ররা দেখিয়েছে, মঞ্চ শুধু বাঁশ, কাপড় ও মাইকে তৈরি হয় না; তৈরি হয় রাজনৈতিক সংকল্পে। পরদিন পুনর্নির্মিত জায়গা থেকেই আবার আন্দোলন শুরু হয়।

২০ জুলাই: সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে CPI(M)

২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান ছিল আন্দোলনের মোড় ঘোরানো দিন। কর্মসূচির ডাক ছিল CJP-র। AISA, SFI, AISF-সহ বাম ছাত্র সংগঠনগুলি সেই ডাককে সমর্থন করে নিজেদের সংগঠিত শক্তি নিয়ে অংশ নেয়।

সেদিন সকালে CPI(M)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি যন্তর মন্তরে ছাত্রদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বৃন্দা কারাট এবং দলের অন্য নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আন্দোলনের মাঠে এসে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে, লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং অবস্থানের মঞ্চ ও পরিকাঠামো ভেঙে দেয়। বহু ছাত্র আহত হন। রাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল শুধু মিছিল আটকানো নয়, আন্দোলনের মনোবল ভেঙে দেওয়া।

কিন্তু সন্ধ্যার পরে বৃষ্টি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছাত্ররা যখন তাঁবু, ত্রিপল, ব্যানার ও মঞ্চ আবার দাঁড় করাচ্ছিলেন, এম এ বেবি তখনও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। সকালে বক্তব্য রেখে চলে যাওয়া এবং রাতে ভাঙা মঞ্চ পুনর্নির্মাণের সময় পাশে থাকা, দুটির মধ্যে রাজনৈতিক পার্থক্য আছে।

সেই রাতের দৃশ্য আন্দোলনের চরিত্র স্পষ্ট করে। রাষ্ট্র ভেবেছিল কাঠামো ভাঙলে আন্দোলন ভেঙে যাবে। ছাত্ররা দেখিয়েছে, মঞ্চ শুধু বাঁশ, কাপড় ও মাইকে তৈরি হয় না; তৈরি হয় রাজনৈতিক সংকল্পে। পরদিন পুনর্নির্মিত জায়গা থেকেই আবার আন্দোলন শুরু হয়।

নতুন আন্দোলন পুরনো সংগঠনকে প্রত্যাখ্যান না করে, আর পুরনো সংগঠন নতুন শক্তিকে দখল করার চেষ্টা না করে পাশাপাশি দাঁড়ালে রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্ত দেওয়ালেও ফাটল ধরানো যায়।

রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা: দখল নয়, সমর্থন

CPI(M), CPI এবং CPI(ML) Liberation নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ ব্যবহার করে আন্দোলনের দাবিকে সংসদ, রাজ্য ও জেলা স্তরে পৌঁছে দেয়। বাম সাংসদ ও নেতারা আন্দোলনস্থলে যান, পুলিশি দমনের নিন্দা করেন, দেশজুড়ে কর্মসূচির ডাক দেন। DYFI ও AIYF ছাত্র আন্দোলনের পাশে যুবসমাজকে সংগঠিত করে।

প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলির উপস্থিতি নিয়ে নতুন আন্দোলনের উদ্বেগ স্বাভাবিক; ইতিহাসে রাজনৈতিক দল গণআন্দোলনের কৃতিত্ব দখল করেছে। কিন্তু দিল্লির ক্ষেত্রে বাম দলগুলি CJP-র নেতৃত্বকে অস্বীকার করেনি। সংসদ অভিযানের ডাক CJP-র - এই সত্য মেনেই তারা নিজেদের সংগঠনকে আন্দোলনের পাশে দাঁড় করিয়েছে।

CJP-ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেনি। ফলে এই সম্পর্ক দখল ও প্রতিরোধের বদলে সহযোগিতার হয়েছে। নতুন আন্দোলন পুরনো সংগঠনের কাছ থেকে স্থায়িত্ব ও পরিকাঠামো পেয়েছে; পুরনো সংগঠন নতুন আন্দোলনের কাছ থেকে ভাষা, বিস্তার এবং নতুন জনভিত্তির সঙ্গে যোগাযোগের শিক্ষা পেয়েছে।

জয় এসেছে, লড়াই শেষ হয়নি

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আন্দোলনের বড় রাজনৈতিক জয়। একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকারকে ছাত্র-যুবদের চাপের সামনে পিছু হটতে হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা নিজেরাই বলেছেন, এখানেই শেষ নয়। NTA বিলোপ, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, পুলিশি আক্রমণের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ন্যায়বিচারের দাবি এখনও রয়ে গেছে।

এই বিজয়ের কৃতিত্ব নিয়ে CJP এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলিকে মুখোমুখি দাঁড় করানো তথ্যগতভাবে ভুল এবং রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর। CJP না থাকলে আন্দোলন এত দ্রুত নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ত কি না, সেই প্রশ্ন থাকবে। আবার AISA-র অনশন, SFI-এর আগাম প্রচার, ক্রান্তি কর্নারের রাজনৈতিক জীবন, AISF-এর মাঠের কাজ, ঐশী ঘোষের আইনি লড়াই এবং বাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলির দেশব্যাপী সমর্থন ছাড়া আন্দোলন এত দীর্ঘ সময় টিকত কি না, সেই প্রশ্নও এড়ানো যাবে না।

CJP দিয়েছে নতুন ভাষা, সাহস ও বিস্তার। সংগঠিত বাম আন্দোলন দিয়েছে অভিজ্ঞতা, কাঠামো, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং দমন সহ্য করে আবার দাঁড়ানোর ক্ষমতা।

দিল্লির আন্দোলনের শিক্ষা এখানেই। নতুন আন্দোলন পুরনো সংগঠনকে প্রত্যাখ্যান না করে, আর পুরনো সংগঠন নতুন শক্তিকে দখল করার চেষ্টা না করে পাশাপাশি দাঁড়ালে রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্ত দেওয়ালেও ফাটল ধরানো যায়।

হেডলাইনে CJP থাকবে। থাকাই উচিত। কিন্তু ইতিহাস সৎ হলে লিখবে, সেই হেডলাইনের ভিত গড়েছিল বহু সংগঠন, বহু পতাকা, বহু রাতের অদৃশ্য শ্রম এবং একই দাবিতে একসঙ্গে দাঁড়ানো একটি প্রজন্ম।

এই জয় কারও একার নয়। এই জয় ঐক্যবদ্ধ মানুষের জয়।

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in