আমাদের এখানে তোলাবাজী চলছে আর দিল্লিতে বাতেলাবাজী চলছে - মহম্মদ সেলিম

ট্যুইটার ফেসবুক তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থে বিজেপি আর এস এস-এর পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। আমরা বলেছি নিঃশর্তে সমস্ত অ্যাকাউন্ট-এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে। আসলে এটা নতুন ধরণের জরুরি অবস্থা।
আমাদের এখানে তোলাবাজী চলছে আর দিল্লিতে বাতেলাবাজী চলছে - মহম্মদ সেলিম
সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিমনিজস্ব চিত্র

সরকারের কাছে কোভিড পরবর্তী দশা পাল্টানোর জন্যে মানুষ দিশার অপেক্ষা করছিলো। কিন্তু আজ স্পষ্ট হয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার মোদী সরকার দিশা পাল্টাতে আগ্রহী নয়। গত ৭ বছরে দেশের অর্থনীতির যে সর্বনাশ হয়েছে নোট বাতিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঘটনায় তা আজ আরও স্পষ্ট হয়েছে। সোমবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম।

বাজেট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন - এই বাজেটকে মনে হচ্ছে সরকারের ওএলএক্স-এর বিজ্ঞাপন। রেল বেচবেন, ইনস্যুরেন্স বেচবেন, কারখানা বেচবেন, দুটো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বেচবেন। সবকিছুই বিক্রির জন্য।

তিনি আরও জানান - এদিনই আমার ট্যুইটার হ্যান্ডেল সহ ২৫০টা ট্যুইটার হ্যান্ডেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ক্যারাভান ম্যাগাজিন, কিষাণ একতা মোর্চা সহ একাধিক ট্যুইটার হ্যান্ডেল বন্ধ করা হয়েছে। দেশে একুশে আইন চলছে। প্রতিদিন আইটি সেল হিংসা, ঘৃণা সহ নানা ফেক নিউজ ফেক অ্যাকাউন্ট চালিয়ে জাছে। অথচ যারা কৃষক আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। যেভাবে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া কৃষক আন্দোলন না দেখানোর জন্য বিজেপির মদতে সরকারের নির্দেশ পালন করেছে, যেভাবে সিএএ-র সময় পরিকল্পনা করে আইটিসেল, দিল্লি পুলিশ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কাজ করেছে, হাঙ্গামা সংগঠিত হয়েছে, আজ তাঁরাই এর পেছনে দায়ী। কিন্তু কোন আইনে করেছে তা বলছে না। ট্যুইটার ফেসবুক তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থে বিজেপি আর এস এস-এর পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। আমরা বলেছি নিঃশর্তে সমস্ত অ্যাকাউন্ট-এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে। আসলে এটা নতুন ধরণের জরুরি অবস্থা।

এই বাজেটকে মনে হচ্ছে সরকারের ওএলএক্স-এর বিজ্ঞাপন। রেল বেচবেন, ইনস্যুরেন্স বেচবেন, কারখানা বেচবেন, দুটো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বেচবেন। সবকিছুই বিক্রির জন্য। - মহম্মদ সেলিম

এদিন সিপি আই এম নেতা বলেন - আজ গোটা পৃথিবীকে জানানো হল জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছে। মোদী মন কী বাতে মিথ্যে কথা বলেছেন। ট্যুইট করে অল্টারনেটিভ মিডিয়া দেখিয়েছে। অথচ পুলিশ পাইলট করে ওই দীপ সিধুকে নিয়ে এসেছে। ১০ লক্ষ কৃষক ২ লক্ষ ট্র্যাক্টর নিয়ে মিছিল করেছে। সেই কথাটা আমরা তুলে ধরেছি। সেটাকে বদনাম করার জন্য এই পদক্ষেপ। কিন্তু আজ কৃষকরা একযোগে রুখে দাঁড়িয়েছেন।

এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন – এই প্রথম জিডিপিতে কৃষি ১৭ থেকে ২০ শতাংশ হয়েছে। তাই মুনাফা শিকারীদের দিকে মোদী সরকার কৃষিকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। দেশে ১০.৯৯ শতাংশ বেকার ছিলো জুন মাসে। এখন দেশে বেকার ৯.১ শতাংশ। আজও আমাদের রাজ্যে চাকরির দাবীতে বিক্ষোভ হয়েছে। ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার বিক্ষোভরতদের ওপর লাঠিচার্জ হচ্ছে, জল কামান চালানো হয়েছে। কৃষকরা ময়দানে আছে। যুবরা ময়দানে আছে। রাজ্য সরকারও সমস্যা সামলাতে পারছে না, কেন্দ্রীয় সরকারও পারছে না। আমাদের এখানে যেমন তোলাবাজী চলছে আর দিল্লিতে বাতেলাবাজী চলছে।

তিনি আরও বলেন – মোদী সরকার যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো সেগুলো কোথায় গেল? যখন বিজেপি বিরোধী ছিল তখন এল আই সিতে এফ ডি আই-এর বিরোধিতা করেছিলো। এবার সেটা ৭৪% করে দেওয়া হল। এটা প্রাইভেটাইজেশন নয়, আদানিজাইজেশন হচ্ছে। আজ সরকারের যা করণীয় তা কর্পোরেট করছে। আর কর্পোরেটের যা করণীয় সেটা সরকার করছে।

মোদী সরকার যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো সেগুলো কোথায় গেল? যখন বিজেপি বিরোধী ছিল তখন এল আই সিতে এফ ডি আই-এর বিরোধিতা করেছিলো। এবার সেটা ৭৪% করে দেওয়া হল। এটা প্রাইভেটাইজেশন নয়, আদানিজাইজেশন হচ্ছে। আজ সরকারের যা করণীয় তা কর্পোরেট করছে। আর কর্পোরেটের যা করণীয় সেটা সরকার করছে। - মহম্মদ সেলিম

এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন - যখন বাম সমর্থিত ইউপিএ সরকার ছিলো তখন স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১.৮ শতাংশ খরচ হত। আমরা ২ শতাংশ চেয়েছিলাম। এখন মোদী সরকার আসার পরে সেটা ১ শতাংশের নীচে। .৯ শতাংশ। পৃথিবীর সেই সব দেশ কোভিডকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে যেখানে জিডিপির ৪ শতাংশের বেশি স্বাস্থ্য খাতে খরচ করে।

তিনি আরও বলেন - ঘরপোড়া গোরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়। আসলে এঁরা সবকিছুতেই ভাগ করতে চাইছে। বিজেপি সংঘ পরিবার চেষ্টা করছে হিন্দু মুসলিম ভাগ করতে, পাঞ্জাবী হরিয়ানভি ভাগ করতে। কিন্তু বিজেপি সংঘ পরিবারের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষ কৃষকদের দেশদ্রোহী মনে করছেন না।

এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন - বিজেপি নির্বাচনী ইশতেহার করলে কেউ সেটা দেখতো না। সেইজন্য বাজেটকে, সরকারি মেশিনারিকে ব্যবহার করে এই ধরণের বাজেট করেছে। রাজ্যে বরাদ্দ কম কারণ এ রাজ্যে বিজেপির সম্ভাবনা নেই। বিহারে বলেছিল ভোট দিলে বিনা পয়সায় টিকা দেবে। ২০১৪ সালে আমি বলেছিলাম মোদীজী একজন ভালো সেলসম্যান। আর এখন প্রমাণ হয়েছে তিনি সবই বেচে দিচ্ছেন। ব্যাঙ্ক বিক্রি করছেন, এল আই সি বিক্রি করছেন, প্রতিরক্ষা কোম্পানী বিক্রি করছেন।

তিনি আরও বলেন - এরাই বলেছিলেন সব ক্যাশলেস ইকোনমি হয়ে গেছে। সবকিছু ডিজিট্যাল হবে। অথচ কোন রাজ্যে কত পরিযায়ী শ্রমিক আছে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকার জানে না। দেশ ডিজিটাল হওয়ার মানে এই সমস্ত তথ্য সরকারের নখদর্পণে থাকা। যারা গোবর দিয়ে স্নান করতে আর পাঁপড় খেতে বলছে তারা কোন মুখে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কথা বলে? ডিজিট্যাল সেনসাস বুঝতে গেলে ক্রোনোলজি বুঝতে হবে।

বিজেপির রথযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন - এম এল এ এম পি কেনার সময় চার্টার্ড প্লেন। নির্বাচনী প্রচারে রথ যাত্রা। আসলে আমাদের ধর্ম বিশ্বাস ঐতিহ্যকে বিজেপি ব্যবহার করতে চায়। আদবানীজী যখন সোমনাথ থেকে রথযাত্রা করেছিলো তখন সেই সেই রাস্তায় দাঙ্গা হয়েছিলো। রাজ্যের মানুষের কাছে আবেদন, বিজেপি নির্বাচনের রিহার্সাল করছে। সেই ফাঁদে পা দেবেন না। পশ্চিমবঙ্গে এই নাটক চলবে না।

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in