জালিয়ানওয়ালাবাগ: উপাধি ত্যাগের শতবর্ষ পরে

রবীন্দ্রনাথ ব্যক্তি থেকে আমাদের কাছে এক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠেন। তবু আমরা রাজনীতির ক্ষুদ্র স্বার্থেই সেই প্রতিষ্ঠান ভাঙি। রবীন্দ্রনাথ উচ্চারণ করে হিংসায় মদত দিই।
জালিয়ানওয়ালাবাগ: উপাধি ত্যাগের শতবর্ষ পরে
জালিওয়ানওয়ালাবাগ ও রবীন্দ্রনাথছবি সংগৃহীত

সমাজতাত্ত্বিকগণ যখন ইতিহাসের বারান্দায় হাঁটেন, তখন সামাজিক ঘটনা আর একক ব্যক্তি-মানবের ক্রিয়ার মধ্যে তাঁরা সহজেই সংযোগ ঘটাতে পারেন। বৃহৎমাত্রিক সামাজিক পরিসরের সঙ্গে ক্ষুদ্রক্ষেত্রিক স্তরে ব্যক্তির আচরণকে তাঁরা পরিমাপ করতে পারেন। এই পরিমাপে তথ্য ও উপাত্তের সংশ্লেষ অবশ্যই ঘটে যার উৎস শুধু ইতিহাসের পাতায় নয়, সময়ের সূচকেও তা বর্তমানে প্রবেশ করে।

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের শতবর্ষ পরে, আজকের ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের মুখে দাঁড়িয়ে সেই ঘটনায় ফিরে যাওয়া যেতে পারে। আজকের আলোকে সন্ধান করা যেতে পারে স্পর্শকাতর মনের রবীন্দ্রনাথকে। পাঞ্জাব পরিসরে খুঁজে ফেরা যেতে পারে বাঙালীর দেশপ্রেমের কাহিনী। কেন ব্রিটিশ-ভারতে ইতিহাসের একটি ‘লজ্জাজনক ক্ষত’ হল এই জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড, সেটা সেই দিনই সবার আগে যিনি বুঝেছিলেন তিনি রবীন্দ্রনাথ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে অবশ্য শতবর্ষ পরে সেটা বুঝেছেন!

পাঞ্জাব পরিসরে খুঁজে ফেরা যেতে পারে বাঙালীর দেশপ্রেমের কাহিনী। কেন ব্রিটিশ-ভারতে ইতিহাসের একটি ‘লজ্জাজনক ক্ষত’ হল এই জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড, সেটা সেই দিনই সবার আগে যিনি বুঝেছিলেন তিনি রবীন্দ্রনাথ।

এই উপমহাদেশে ঔপনিবেশিকতার সেই নির্মম দিনগুলোর একটা হল ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল। ১০২ বছর আগে, আজকের এই দিন। সেই সময় প্রথম মহাযুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে। মিত্রশক্তির সঙ্গে ব্রিটিশরা তখন যুদ্ধজয়ী বীর। ফলে সাম্রাজ্যবাদী কায়দায় তারা আরও জাঁকিয়ে বসার পরিকল্পনা করছে। উল্টোদিকে তখনই এখানে শোষিত জনতার শক্তিতে একত্রিত হয়ে স্বাধীনতার লড়াইও ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। ইংরেজ প্রশাসনের মনে সাম্রাজ্য হারানোর ভয় জাগছে। ফলে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন মরিয়া হয়ে চালাচ্ছে দমন-পীড়ন। পাস হয়েছে রাওলাট আইন। ১০ মার্চ থেকে লাগু হওয়া এই আইনের বলে অখন্ড ভারতের মাটিতে খর্ব হয়েছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। শুরু হয়েছে বিনা-পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের অধিকার। বিনা-বিচারে দীর্ঘকাল কারাবাস তখন বিপ্লবীদের ভবিতব্য। গোপনে ‘বিচার’, আর অনির্দিষ্ট সাজার অন্যায্য সুযোগে ভারতবাসীর তখন নাভিশ্বাস।

এপ্রিলের ঐ সময়টা ছিল উৎসবের। সে ছিল পাঞ্জাবের নবান্ন পালনে নববর্ষ উদযাপনের শুভক্ষণ। সেই বৈশাখী উৎসব পালনে হাজার কুড়ি মানুষ পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে জড়ো হন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই তাঁরা জড়ো হন। প্রায় সাত হেক্টর এলাকাজুড়ে থাকা জালিয়ানওয়ালাবাগ বাগানটিতেই সেদিন তাঁরা একত্রিত হয়েছিলেন। সেই মুখরিত জনতার আলোচনায় উঠে আসে সমকাল। বিদেশী অত্যাচারে দুর্বিষহ হয়ে ওঠা দিনলিপির করুণ কাহিনী জড়ো হওয়া জনসমাজকে নাড়া দেয়।

পাঞ্জাব তখন আজকের মতোই ক্ষোভে ফুটছে। ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার কোনো কিছুকেই সে তখন পরোয়া করে না। মাথা নোয়াতে জানে না সে। বরং তখন এলাকার রাস্তায় কোন ব্রিটিশ ব্যাঙ্ক কর্মী অথবা কোন মিশনারির আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা জলভাতে পরিণত হয়ে উঠেছে। শিখ সমাজ সেটার স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলা আর পাঞ্জাবের বিদ্রোহী আচরণে ইংরেজ শাসক তখন আরও হিংস্র হয়ে উঠছে। লাগু হয়েছে রাওলাত আইনানুগ নির্বিচারে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা। নিষিদ্ধ হয়েছে যে-কোনো ধরনের জনসমাবেশ। এরই বিরুদ্ধে উৎসবমুখর নিরস্ত্র মানুষ তাঁদের প্রতিবাদের ভাষা ও প্রতিরোধের আগুন জ্বালার অঙ্গীকার করে। কিন্তু তখনও তাঁরা জানতেন না যে তাদের জন্য অচিরেই কী নির্মম ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে!

পাঞ্জাব তখন আজকের মতোই ক্ষোভে ফুটছে। ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার কোনো কিছুকেই সে তখন পরোয়া করে না। মাথা নোয়াতে জানে না সে। বরং তখন এলাকার রাস্তায় কোন ব্রিটিশ ব্যাঙ্ক কর্মী অথবা কোন মিশনারির আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা জলভাতে পরিণত হয়ে উঠেছে।

হঠাৎ করেই সেই বাগানে ঢুকে পড়েন নব্বই জন বালুচি আর গোর্খা সেনা-সদস্যের ব্রিটিশ ভারতীয় সৈন্যদল। কর্নেল রেজিনাল্ড ডায়ারের আদেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় বাগান থেকে বের হওয়ার সব পথ। তার নির্দেশেই শুরু হয় গুলিবর্ষণ, এবং টানা ১০ মিনিটেই নিরস্ত্র মানুষের উদ্দেশ্য প্রায় ১৬৫০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রাণ হারান উপস্থিত জনতার একাংশ। পালানোর পথ না পেয়ে পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করেন অনেকে। তাঁদেরও গুলি করে নীচে ফেলা হয়। বুলেট ক্ষতে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই পাশের কুয়োয় ঝাঁপ দেন, যেখানেও হাজির থাকে মৃত্যুদূত। পদপৃষ্ঠে লাশ হন শতাধিক। শাসকের তালিকায় নিহতের সংখ্যা ৩৭৯ লেখা হলেও এবং চার্চিলের মতো সাম্রাজ্যবাদী এই বীভৎস, নারকীয় ঘটনাকে ‘বেনজির’ ঘোষণা করলেও, জালিয়ানওয়ালাবাগ সহস্রাধিক স্বাধীনতাকামী ভারতীয়কে কয়েক মিনিটে মেরে ফেলার সাক্ষী হয়। সাম্রাজ্যবাদের তীক্ষ্ণ দাঁত-নখ প্রত্যক্ষ করেন আপামর ভারতবাসী।

আজকের মতো নেটদুনিয়া সেদিন ছিল না। কিন্তু নেট বন্ধ রাখার মতো সরকারের সেন্সরশিপ সেদিনও বহাল ছিল। ‘রাওলাট অ্যাক্ট’ তা বলবৎ করেছিল। রাষ্ট্রের দমনমূলক হাতিয়ার হিসেবে সামরিক বাহিনীর এই নির্মম অত্যাচার ও বর্বর হত্যালীলার খবর তাই উপমহাদেশজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে তখনই পারল না। পাঞ্জাবজুড়ে জারি হল জরুরি অবস্থা। পাঞ্জাব থেকে বহু কোশ দূরের বঙ্গদেশে তাই এই খবর এল দেরিতে। নানা ছায়া-প্রচ্ছায়ার বাস্তব ও গুজব মিলে-মিশে এক হওয়া সেই খবর, বাংলার মুক্তিকামী যুব সমাজকে নাড়িয়ে দিল।

রবি ঠাকুর চুপ থাকতে পারলেন না। তিনি পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে অ্যান্ডরুজের কাছে পুরোটা জানতে চাইলেন। ব্রিটিশ ধর্মযাজক চার্লস ফ্রেয়ের অ্যান্ডরুজ, গান্ধী এবং রবি ঠাকুর উভয়েরই কাছের মানুষ ছিলেন। পয়লা মে লেখা এক চিঠিতে তিনি রবীন্দ্রনাথকে জানান, ‘অসহায় গ্রামবাসীর ওপর এয়ারপ্লেন বোমা ফেলছে আর কেবল লাঠি হাতে থাকা জনসমাবেশে মেশিনগান গুলি ছোটাচ্ছে।’ কবি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছ থেকে আরও খবর নিতে চাইলেন। শান্তিনিকেতন থেকে চলে এলেন কলকাতায়। কিশোরী রানু অধিকারী যেহেতু পাঞ্জাবে থাকতেন, তাই তিনি তাঁকেও চিঠি লিখলেন। জানতে চাইলেন প্রকৃত ঘটনা।

কবি জানলেন নিষ্ঠুর অত্যাচারের পরিকল্পিত নীল নক্সার কথা। শিউরে উঠলেন প্রকাশ্যে চাবকানোর কথা জেনে। কবির স্পর্শকাতর মন প্রতিবাদে ফেটে পড়লো। তিনি অ্যান্ডরুজকে গান্ধীর কাছে পাঠালেন। চাইলেন প্রথমে দিল্লিতে তাঁরা দুজনে মিলে প্রতিবাদ সভা করবেন, তারপর পাঞ্জাব প্রবেশের চেষ্টা করবেন। তাতে যদি ইংরেজ প্রশাসন তাঁদের গ্রেপ্তার করেও, তাতে প্রতিবাদের ও জনমানসের প্রতিক্রিয়ার স্ফুলিঙ্গ আরও শক্তিশালী হবে।

গান্ধী রাজি হলেন না। অ্যান্ডরুজ ব্যর্থ হলেন। দীনবন্ধু বুঝলেন যে গান্ধী তখনই সরকারকে বিব্রত করতে চাইছেন না। এই বার্তায় কবির মন ধাক্কা খেলো, কিন্তু তিনি হতোদ্যম হলেন না। নিজেই গেলেন চিত্তরঞ্জন দাশের কাছে। প্রতিবাদ সভা ডাকার বিষয়ে চিত্তরঞ্জনও যে কিছুটা অনাগ্রহী, তাও কবি অনুভব করলেন। নেতৃত্বের দিশাহীনতা, দূরদর্শিতায় অক্ষমতা, সংকীর্ণ দেশপ্রেমের জোয়ারে ভাসতে চাওয়ার মানসিকতা, রবীন্দ্রনাথকে আঘাত দিয়েছিল। প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশকে সেই কথা জানিয়ে কবি মে মাসের শেষ দিনে সিদ্ধান্তে এলেন। ভাইসরয় লর্ড চেমসফোর্ডকে জালিয়ানওয়ালাবাগের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে, নিজের অবস্থানকে স্পষ্ট করে, ক্রোধতপ্ত একটি প্রতিবাদপত্র লিখে পাঠালেন। ত্যাগ করলেন ব্রিটিশের দেওয়া ‘স্যার’ উপাধি।

সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্বীকার করে ১৯১৫ সালে রাজা পঞ্চম জর্জ-এর হাত ধরে ব্রিটিশ সরকার কবিকে যে নাইটহুড সম্মানে ভূষিত করেছিলেন, কবি তা ফিরিয়ে দেন। কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশলের বাইরে দাঁড়িয়ে বাঙালীর রবি ঠাকুর প্রতিবাদের এক ঐতিহাসিক অবস্থান নেন। তাঁর এই পদক্ষেপ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ইতিহাস বদলে দেওয়ার এক মূর্ত প্রতীকে পরিণত করে। হত্যাযজ্ঞের পর পরাধীন ভারতবর্ষের রাজনীতিবিদেরা যখন চুপচাপ থাকার পথ বেছে নিয়েছিলেন, সেখানে নাইটহুড বর্জনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের একক প্রতিবাদ এই বর্বরতার দিকে বিশ্ববাসীর চোখ ফেরাতে সফল হয়েছিল।

কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশলের বাইরে দাঁড়িয়ে বাঙালীর রবি ঠাকুর প্রতিবাদের এক ঐতিহাসিক অবস্থান নেন। তাঁর এই পদক্ষেপ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ইতিহাস বদলে দেওয়ার এক মূর্ত প্রতীকে পরিণত করে।

নাইটহুড পরিত্যাগের এই খবর সারা বাংলায় তো বটেই, দেশজুড়েই আলোড়ন তুলল। কিন্তু সেই আলোড়ন আপামর সাধারণ ভারতবাসীর মনে। কংগ্রেস নেতৃত্ব বিষয়টাকে অদ্ভুত বলেই যে ধরে নিয়েছিল তা হয়তো আজকের গবেষক নিশ্চিত। না হলে ৩ জুন নায়ক পত্রিকার সম্পাদকীয়তে কেন লেখা হল যে, রবীন্দ্রনাথের এই উপাধি বর্জ্জনে দেশবাসীর কোন সুবিধা হয়নি এবং এই কাজ সমর্থনযোগ্য নয়। কেন নেতৃত্ব কবির নামে নিন্দা-মন্দ শুরু করেন তাও আজ গবেষণার বিষয়। কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রচ্ছন্ন মদত না থাকলে এমন লেখা সম্ভব কিনা তাও গবেষকগণ খুঁজে দেখতে পারেন।

‘গোলামের সঙ্গে প্রভুর সম্পর্ক’ কিরকম নির্মম হতে পারে সেই শাসন ও শোষণমূলক বঞ্চনার নিরিখে জালিয়ানওয়ালাবাগকে বর্ণনা করেছেন নজরুল। সেই তারুণ্যে দোলা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথের এই প্রতিবাদী ভূমিকা গান্ধীকে পরে পাঞ্জাব যেতে বাধ্য করেছিল কিনা, গোল্ড মেডেল কাইজার-ই-হিন্দ ত্যাগেও কোন ধরনের বাধ্যবাধকতা ছিল কিনা, সেই সব আলোচনাও গবেষণার অঙ্গ হতে পারে। সেই গবেষণা খুঁজতে পারে যে স্বদেশি যুগের পর থেকে রবীন্দ্রনাথ কেন প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে সরে থাকতেন।

‘গোলামের সঙ্গে প্রভুর সম্পর্ক’ কিরকম নির্মম হতে পারে সেই শাসন ও শোষণমূলক বঞ্চনার নিরিখে জালিয়ানওয়ালাবাগকে বর্ণনা করেছেন নজরুল। সেই তারুণ্যে দোলা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ।

উপাধি ত্যাগের শতবর্ষে দাঁড়িয়ে ফিরে দেখা যেতে পারে সেই সব ঘটনাকে। নতুন করে মানবপ্রেমের জোয়ারে ভাসিয়ে আজকের সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে সমালোচনায় দীর্ণ করা যেতে পারে। বিস্মৃতিপ্রবণ বাঙালিকে জানানো যেতে পারে যে জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যাকে যদি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক চালিকাশক্তি বলা হয়, তবে সেই প্রবাহে সলতে পাকানোর কাজটা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর দীপ্ত প্রতিবাদ ও সাহসী পদক্ষেপ পরবর্তী বহু ঘটনার উৎস হয়ে ওঠে।

রবীন্দ্রনাথ ব্যক্তি থেকে আমাদের কাছে এক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠেন।

তবুও আমরা রাজনীতির ক্ষুদ্র স্বার্থেই সেই প্রতিষ্ঠানকে ভাঙি। রবীন্দ্রনাথকে উচ্চারণ করেই হিংসায় মদত দিই। সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে ফ্যাসিবাদের প্রাণভোমরা করে তুলতে চাই। রাজনীতির ময়দানকে মানুষের পাশে থাকার শীতলতায় দেখি না, তাকে কুচি করে ভোটের ঝোলা ভরাতে চাই।

তবুও আমরা রাজনীতির ক্ষুদ্র স্বার্থেই সেই প্রতিষ্ঠানকে ভাঙি। রবীন্দ্রনাথকে উচ্চারণ করেই হিংসায় মদত দিই। সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে ফ্যাসিবাদের প্রাণভোমরা করে তুলতে চাই। রাজনীতির ময়দানকে মানুষের পাশে থাকার শীতলতায় দেখি না, তাকে কুচি করে ভোটের ঝোলা ভরাতে চাই। স্বাধীন ভারতে তাই আজও রঙ-নিরপেক্ষ বুলেটেও মানুষ মরে। গণতন্ত্রের নামে আমরা সহনাগরিকের রক্তে হাত রাঙাই। লুটেপুটে খাওয়াকে ভাবাবেগ দেখানো আহ্লাদে হিংসাকে গড়াতে চাই। সেই পদক্ষেপ আত্মঘাতী। এটা রাজনীতির সৃজনশীলতাকে ভুলুন্ঠিত করে। ক্ষয় নিশ্চিত করে।

বাংলার মাটি, এই ভারতের মাটি, এর লোকায়ত সাংস্কৃতিক ধারা সেই ক্ষয়ের প্রতিরোধে চিরদিনই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রবীন্দ্রনাথ থেকে দেবীপ্রসাদ সেই কথা আমাদের আগেই জানিয়েছেন। আজ শতবর্ষ পরেও তাই জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জনমানসের চেতনায় আঘাত হানে। সেই গণতান্ত্রিক বিপ্লবী শক্তি অবক্ষয়ের প্রতিরোধী বাঁধ গড়ে তোলে।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in