বাংলাদেশ: ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলন সরকারকে যেভাবে সুরক্ষা দিয়েছে

বাংলাদেশ: ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলন সরকারকে যেভাবে সুরক্ষা দিয়েছে
গ্রাফিক্স - সুমিত্রা নন্দন

গত কয়েক মাস থেকে বাংলাদেশে ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলন রাজধানীর ধোলাইখাল পাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভার্স্কয নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুরু হয়। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ প্রথম বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

এই আন্দোলনের সাথে অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো এবং হেফাজতে ইসলামও মাঠে নামে। বাংলাদেশে ভাস্কর্য বিরোধী এই আন্দোলন হঠাৎ করে শুরু হয়নি। বরং অনেক আগে থেকেই ভাস্কর্য, সেকুলার শিক্ষানীতি, তথাকথিত ধর্মাবমাননা ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলো মাঠে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ভাস্কর্য ইস্যুতে তারা যে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলেছে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারকে এই ইস্যুতে ইসলামপন্থী দলগুলোর সাথে আলোচনায় বসতে হলো তা আগে কখনও দেখা যায়নি। তাই এবারের আন্দোলনটি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে দেখা দরকার।

ভাস্কর্য বিরোধী এই আন্দোলন থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। প্রথম, গত কয়েক বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যেভাবে ইসলামপন্থী মৌলবাদী দলগুলোর সাথে আলোচনার টেবিলে বসে আঁতাত করে রাজনীতি করেছে তা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। বর্তমানে তারা যেভাবে মৌলবাদী শক্তির দাবির প্রতি নমনীয়তা দেখিয়েছে, তাদের দাবি মেনে নিয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নানাবিধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের যে পরিমাণ গুরুত্ব দিয়েছে অতীতে এতটা করেনি। সরকার কর্তৃক ইসলামপন্থী দলগুলোকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া, তাদের বিভিন্ন দাবি মেনে নেওয়া, তাদের সাথে আঁতাত করে চলা এসব কাজগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বাংলাদেশে ধর্মপন্থী দলগুলোর শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি পাওয়ার মানে এই নয় যে আগে তারা শক্তিহীন ছিল। বরং আগেও তারা শক্তিশালী ছিল কিন্তু প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর চাপে তারা বর্তমানে যতটা মাথাচাড়া দিয়েছে আগে ততটা পারেনি। ইসলামপন্থী দলগুলো রাজনীতিতে মাথাচাড়া দিতে পেয়েছে তার বড় কারণ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিবেশ ধ্বংসপ্রায়। যার ফলে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারাটি জাতীয় রাজনীতিতে অগণতান্ত্রিক, সন্ত্রাসবৃত্তির লুটপাটের ধারা সাথে পাল্লা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু এই অগণতান্ত্রিক, লুটেরা, সন্ত্রাসের রাজনীতির সহায়ক হয়েছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো। তারা কেবল ধর্মীয় কিছু ফায়দা ও ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিল করতে গিয়ে গোটা জাতির ভাগ্যে আমানিষার অন্ধকার নামিয়ে এনেছে। আওয়ামী লীগও তার গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও অবৈধ ক্ষমতা দখল টিকিয়ে রাখতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আঁতাত করেছে। আর ধর্মভিত্তিক দলগুলোও নিজেদের সুবিধা নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলেছে। কারণ তাদের অগণতান্ত্রিক অবৈধ ক্ষমতা দখল প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেয়নি। ধর্মভিত্তিক দলগুলো সেটা মেনে নিয়েছে। তাই সময়ে সময়ে তারা নানাবিধ দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে সরগরম হয়েছে পরে আলোচনার টেবিলে বসে সেগুলো সমাধান করেছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে কোথাও এদেশের খেটে খাওয়া কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কথা নেই। নেই শিক্ষার অধিকারের কথা, নারী শিক্ষা কিম্বা নারী অধিকারের কথাও নেই। দুর্নীতি, লুটপাট, সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা, বিদেশে টাকা পাঁচার, নারী নির্যাতন, খুন-ধর্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে তাদের কোনো বৃহৎ আন্দোলন কিম্বা সরকারকে চাপে ফেলে এসব দাবি আদায় করে নেয়ার মতো কর্মসূচি আজ পর্যন্ত চোখে পরেনি। পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন, চা শ্রমিকদের আন্দোলন, চিনিকল শ্রমিকদের আন্দোলন কিম্বা গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে তাদের বৃহৎ কোনো কর্মসূচি নেই। তাদের দাবিই হচ্ছে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে উস্কে দিয়ে ধর্মরক্ষার নামে মাঠে নেমে সরকারকে চাপে ফেলে দলীয় স্বার্থ হাসিল করা। এই কাজটি তারা করে আসছে ২০১৪ সালের ভোটার বিহীন নির্বাচনের পর থেকে।

দ্বিতীয়ত, সরকার ইচ্ছে করেই প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাটি নষ্ট করছে। কারণ তারা যেভাবে ক্ষমতায় আছে, দেশ চালাচ্ছে তা অবৈধ ক্ষমতা দখল এবং দেশ পরিচালনা করছে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, টাকা পাঁচার ও লুটপাটের রাজনীতির মাধ্যমে। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় যেভাবে রাজনীতি করছে তা গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। একমাত্র ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী এই ধরনের অপরাজনীতির সাথে আপোষ করে। যেটা ঐতিহাসিকভাবেই প্রমাণিত। বাংলাদেশের ইতিহাসেই সেটা রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পাকিস্তানী একনায়ক স্বৈরশাসকদের কবল থেকে এদেশের মানুষকে মুক্ত করার লড়াইয়ে সমস্ত প্রগতিশীল শক্তি এক হয়ে আন্দোলন করলেও ধর্মী দলগুলো তখন ইসলাম-মুসলিম রক্ষার নামে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর সাথে মিলে এদেশে গণহত্যার, ধর্ষণ, লুটপাট থেকে শুরু করে সব ধরণে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সেনা শাসক জিয়াউর রহমান স্বীয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আবারও দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করে। জিয়াউর রহমান ধর্মভিত্তিক দলগুলো সাথে নিয়ে তার রাজনীতির পাল্লা ভারি করে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোও তাদের স্বার্থের জন্য গণতন্ত্রের প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে এবং ধর্মের নামে অগণতান্ত্রিক ক্ষমতা দখল প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলেনি। একইভাবে তারা আরেক সেনা শাসক স্বৈরাচারী এরশাদেরে শাসন কার্যেও নানাভাবে সহায়তা করে। তার প্রতিদান হিসেবে তিনি ১৯৮৮ সালে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশেও যখন তারা রাজনীতির সুযোগ পায় তখন থেকেই এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, শোষণ-বঞ্চনা, নিপীড়ন, গণতন্ত্র, সন্ত্রাস দুর্নীতি, লুটপাটের মতো বিষয় নিয়ে সরব হয়নি। তারা বরাবরই ধর্মের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করতে রাজনীতি করেছে। গত শতকে ৯০ এর দশকে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় তখনও তারা সেটার মোকাবেলায় ধর্মকে সামনে আনে। প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমদ শরীফকে নাস্তিক মুরতাদ ফতোয়া দিয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন মূল কারণ ছিল তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে সরব ছিলেন। তাদের সব আন্দোলনের মূলে রয়েছে মানুষের ধর্মানুভূতি নিয়ে খেলা করা। সমাজ প্রগতি, গণতন্ত্র, শোষণ-বঞ্চনা, নিপীড়ন, দুর্নীতি, খুন-ধর্ষণের বিরুদ্ধে তাদের সরব হতে দেখা যায় না। এটা মূলত তাদের চরিত্রগত কারণেই হয় না।

তৃতীয়ত, বর্তমানে তারা হঠাৎ করে ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলন এমন এক সময় শুরু করে যখন সারাদেশে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলেছে। এবং সারাদেশে বেশ সাড়া পরেছে। এদিকে সরকারি ২৫টি পাটকল বন্ধের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা আন্দোলন করছে, সরকারের দুর্নীতি ও অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে। ১০টি চিনিকল বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে চিনিকল শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। গার্মেন্টস শ্রমিকসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা আটকে থাকা বেতন-ভাতা নিয়ে আন্দোলন করছে। ঠিক সে সময়ই তারা এসব বিষয়ে আন্দোলন না করে ভাস্কর্য ইস্যুতে আন্দোলনে নামে। চলামন বিভিন্ন আন্দোলনে তাদের সরবতা দেখা যায়নি। এমনকি কখনই তারা এসব বিষয়ে বৃহৎ কোনো আন্দোলন করে না। তাদের ভাস্কর্য বিরোধী অহেতুক আন্দোলনের ফলে সারাদেশে হেফাজতসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামে; মিডিয়া তাদের দিকে বেশি ফোকাস করে। ফলে পাটকল, চিনিকল, গার্মেন্টসহ অন্যান্য শ্রমিক আন্দোলনের খবর স্তিমিত হয়ে যায়, ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের খবরও চাপা পড়ে যায়, সরকারের অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গড়ে উঠা আন্দোলনও চাপা পরে যায়। ইসলামপন্থী দলগুলোর আন্দোলনে সরকারও চাপে পরে। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় সারাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগ, শ্রমিক লীগসহ অন্যান্য সব সংগঠনগুলো মাঠে নামে। সারাদেশে তাদের আন্দোলনের তোড়ে অন্যান্য আন্দোলন ভেসে যায়। ক্ষমতাসীন দল ও ইসলামপন্থীদের এরূপ মুখোমুখী অবস্থার অবসান ঘটাতে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। বলতে গেলে তারা একটা সমঝোতায়ও পৌঁছে গেছে। এর ফলে লাভবান হয়েছে ইসলামপন্থী দলগুলো এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। কারণ তাদের বিরুদ্ধে এক যোগে যতগুলো আন্দোলন শুরু হয়েছিল তাতে সরকারের বিরুদ্ধে বৃহৎ আন্দোলন শুরু হওয়াটা সময়ের ব্যাপার ছিল। এখন সে আন্দোলন অনেকটাই চাপা পরে গেছে। ইসলামপন্থী দলগুলো তাদের শক্তির প্রদশর্ন করতে পেরেছে এবং সরকারকে চাপে ফেলে তাদের সাথে সমঝোতা করতে বাধ্য করেছে। কারণ তাদের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলন অনেক দিন থেকেই চলছিল। ইতোপূর্বে তারা সুবিধা করতে পারেনি।

আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলো ভাস্কর্য ইস্যুতে এখন যে আন্দোলন শুরু করেছে সেটাও বিভ্রান্তিকর। এবং তারা যে মৌলবাদী শক্তির ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনকে কাউন্টার দিয়ে আন্দোলন করছে বিষয়টি এমন নয়। কারণ তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলন নিয়ে কথা বলেনি যতোদিন না বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে কথা উঠেছে। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপতি ন্যায় বিচারের প্রতীক লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্য অপসরণ আন্দোলন নিয়ে তারা কিছু বলেনি। সে বছর ১১ এপ্রিল গণভবনে ইসলামপন্থী দলগুলোর সাথে এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সেই ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার কথা বলেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন তিনিও সে স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন পছন্দ করেন না। তখন ভাস্কর্য অপসরণের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল সংগঠনগুলো আন্দোলনে নামলে সেখানে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়, তাদের উপর হামলা-মামলাসহ নানা নিপীড় নেমে আসে। এর বিরুদ্ধে যখন প্রগতিশীল সংগঠনগুলো সরকারের নিন্দা করে মাঠে নামে তখন ছাত্রলীগ তাদের উপর খড়গহস্ত হয়েছিল। ইসলামপন্থী দলগুলোর ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোর আন্দোলন এবং তাদের মূল বক্তব্যও খুবই এক পেশে। কারণ তারা কেবল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা এবং নির্মাণের বিরোধিতা নিয়ে কথা বলেছে। ইতোপূর্বে ২০০৮ সালে ঢাকা বিমানবন্দরের সামনে থেকে মরমী সাধক লালন শাহের ভাস্কর্য সরানো হয়েছিল সেটা নিয়ে তারা কথা বলেনি, লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্য অপসরণ নিয়ে তারা কথা বলেনি; এমনকি গত ১৭ তারিখে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে সেটা নিয়েও তারা কোনো কথা বলছে না। তাই তাদের আন্দোলনের রূপ যে কেবল দলীয় স্বার্থ সেটা স্পষ্ট।

বাংলাদেশে ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিমত্তা দেখাতে পেরেছে। এর কারণও আছে। গত ১২ বছরে বাংলাদেশের প্রত্যেক ক্ষেত্রে যেভাবে বৃহৎ ধর্মানুসারীদের মতকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে সেটা অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বিস্ময়কর। কারণ আওয়ামী লীগ নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ দল বলে দাবি করে। তাদের গঠনতন্ত্রেও সে কথা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তাদের জোটের সাথেই রয়েছে ৯০ শতাংশ ইসলামী দল। আর আওয়ামী লীগ রয়েছে ক্ষমতায়। তাই মৌলবাদী দলগুলো অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় এখন বেশি শক্তি দেখাতে পারছে। আর এর সার্বিক ক্ষতির শিকার দেশে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন। কারণ মৌলবাদী শক্তি কখনই ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ চায়নি। চাইনি বলেই তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের অবস্থানের কারণেই তারা নিষিদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু আজ তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির দাবিদার আওয়ামী লীগের সাথে থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলন করছে। আর আওয়ামী লীগও মৌলবাদী শক্তির সাথে আতাত করেই তার অগণতান্ত্রিক, লুটপাট, দুর্নীতি, খুন-ধর্ষণের রাজনীতি বিন্দাস চালিয়ে যাচ্ছে। এই হলো মৌলবাদী দলগুলো আর আওয়ামী লীগের ফায়দা। ভাস্কর্য বিরোধী যে আন্দোলন তার ফায়দাও আওয়ামী লীগ ও মৌলবাদী দলগুলো আলোচনার টেবিলে বসে ভাগাভাগি করে নিয়েছে।

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in