TMC: চাকরি দেওয়ার নাম করে আদিবাসী তরুণীকে পরিচারিকার কাজ করানোর অভিযোগ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে
প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরফাইল চিত্র - সংগৃহীত

TMC: চাকরি দেওয়ার নাম করে আদিবাসী তরুণীকে পরিচারিকার কাজ করানোর অভিযোগ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে

তরুণীর অভিযোগ, ‘ঘর ঝাঁট-মোছা, কাপড় কাচা, বাসন মাজা, তিন-চারটে কুকুরের মল পরিষ্কার—সব কিছুই করতে হত। কাজে সামান্য ভুল হলেই মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী ‘নিচু জাত’ বলে গালিগালাজ করতেন।’

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠল এবার খোদ রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, জাত তুলে অপমান করা হয়েছে। ডেবরার আদিবাসী তরুণী সবিতা লায়েক কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কী অভিযোগ করলেন স্নাতক ওই তরুণী? তাঁর অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা দফতরে অস্থায়ী চাকরি দেওয়া হবে। এমনই আশ্বাস দিয়ে হুমায়ুন তাঁকে নিজের কসবা রাজডাঙার বাড়িতে রেখে জোর করে পরিচারিকার কাজ করিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঘর ঝাঁট-মোছা, কাপড় কাচা, বাসন মাজা, তিন-চারটে কুকুরের মল পরিষ্কার—সব কিছুই করতে হত। কাজে সামান্য ভুল হলেই মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী ‘নিচু জাত’ বলে গালিগালাজ করতেন।’

তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে দফতরের নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়নি। তবে প্রতি মাসে দফতর থেকে বেতন পেতেন। তা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হত। সবিতার দাবি, কাজ পছন্দ না হওয়ায় একদিন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। ভেবেছিলেন পরে তাঁকে ডাকা হবে। এরপর ২০২১ সালের ১০ অগস্ট কারিগরি দফতর থেকে তাঁকে চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে, তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন।

হুমায়ুন যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেননি। ওই তরুণীকে তিনি যে বাড়িতে রেখেছেন, সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, মেয়েটি তাঁর বাড়ির অফিসে ব্যক্তিগত সহায়ক (পিএ) হিসাবে ছিলেন। পরিচারিকার কোনও কাজ তাঁকে দিয়ে করানো হত না। এক বছর পর তাঁকে নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়। হুমায়ুনের অভিযোগ, মেদিনীপুরে তাঁর কিছু ‘শত্রু’ আছে। তাঁরাই ষড়যন্ত্র করছে।

দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের মেয়ে সবিতার দাদু গুঁইরাম লায়েক ডেবরার ব্রাহ্মণশ্মশান পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। সবিতা জানান, দাদু বিধানসভা ভোটে মন্ত্রীর হয়ে খুব খেটেছিলেন। জেতার পরে আমার চাকরির জন্য অনুরোধ করেন তিনি। ২০২১ সালের ১৫ মে মন্ত্রী জানান, কারিগরি শিক্ষা দফতরে আমার চাকরি হয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, 'মন্ত্রীর ডাকেই ওঁর বাড়িতে গেলে আমাকে বাড়ির ঝি করে রাখা হয়। গরিব, আদিবাসী বলেই কি এই অপমান সইতে হবে?’ হুমায়ুনের অবশ্য দাবি, ‘আইন মেনেই মেয়েটিকে আনা হয়েছিল এবং দফতরে ‘নন টেকনিক্যাল কনট্র্যাকচুয়াল ওয়ার্কার’ হিসেবে আমার বাড়ির অফিসে নিয়োগ করা হয়েছিল। ভিজিটরদের দেখাশোনা, চিঠিপত্র নথিভুক্ত করাই ছিল ওর কাজ। পরিচারিকার কাজ ওকে দিয়ে করানো হত না।'

তরুণীর দাবি, কয়েক মাস তিনি অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু কাজে না ডাকা হয়নি। কিন্তু তা না হওয়ায় সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, রাজ্যপাল ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার দীনেশ কুমারের দ্বারস্থ হন তিনি। তাঁদের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান তিনি।

প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর
TMC: চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.