বদলির আবেদন করেও সুরাহা হয়নি, ফেসবুকে পোস্ট করে আত্মঘাতী সরকারি চিকিৎসক

তাঁর আট বছরের সন্তান অটিজমের শিকার। নিদারুণ সমস্যায় পড়ে বারবার তিনি বদলি চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনও সমাধান মেলেনি।
বদলির আবেদন করেও সুরাহা হয়নি, ফেসবুকে পোস্ট করে আত্মঘাতী সরকারি চিকিৎসক
আত্মঘাতী হওয়ার আগে ফেসবুকে পোস্ট

বদলি চেয়ে বারবার দরবার করেছেন প্রশাসনের কাছে, সরকারের কাছে। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। শেষপর্যন্ত কোনও পথ না পেয়ে স্বাস্থ্য দফতরের নির্মম পরিণতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন চিকিৎসক অবন্তিকা ভট্টাচার্য। গত ১৫ দিন ধরে টানা জমে -মানুষের লড়াই করে শেষপর্যন্ত মৃত্যু হল তাঁর। কিন্তু সমস্যার সমাধান হল না। এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল স্বজনপোষণ কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।

সোমবার চিকিৎসকদের সব চেষ্টা শেষ হয়ে যায়। মহিলা চিকিৎসকের এই মৃত্যু রাজ্যে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। গত আট বছর তিনি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিলেন। কলকাতায় ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রান্তিক এলাকায় বদলি করা হয়। তাঁর স্বামী নিজেও একজন ডাক্তার। তাঁর আট বছরের সন্তান অটিজমের শিকার। নিদারুণ সমস্যায় পড়ে বারবার তিনি বদলি চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনও সমাধান মেলেনি। এভাবে দিনের পর দিন প্রতিহিংসামূলক আচরণ করায় ক্ষুব্ধ সরকারি চিকিৎসকদেরও বড় অংশ।

গত ১৬ আগস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে একটি পোস্ট করেন কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারি চিকিৎসক অবন্তিকা ভট্টাচার্য। তিনি লেখেন, হোয়ার পিস লাইজ ফর মি.. জব রেজিগনেশন? আফটার এইট ইয়ার্স অফ পেরিফেরাল সার্ভিস..এগেইন ড্র্যাগ টু অ্যানাদার পেরিফেরাল সার্ভিস.. ইন দ্য সেম জব ক্যাপাসিটি...কান্ট টেক এনিমোর। এক ঘণ্টার মধ্যে নিজেকে নিজে শেষ করে দিলেন। এই পোস্টের এক ঘণ্টার মধ্যে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ঝলসে যায় শরীরের বেশিরভাগ অংশই।

এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ডক্টর সংগঠনের সম্পাদক ডক্টর মানস গুমটা জানান, ডাক্তার অবন্তিকা ভট্টাচার্যের মৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল চিকিৎসকদের বদলি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতা, এবং স্বজনপোষণ। হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্বাস্থ্য প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না। আট বছর একটা প্রান্তে কাজ করার পর তাঁকে বদলি করা হয়েছিল আরও একটি প্রান্তিক জায়গায়। শোনা হয়নি তা চূড়ান্ত পারিবারিক সমস্যার কথা। আগের সরকারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, তখন অনেক নিয়ম ছিল। জোন ভাগ করা থাকত। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাজ করে নিজের জেলায় ডাক্তাররা ফিরতে পারতেন। কিন্তু এখন স্বজনপোষণই নিয়ম।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in