হঠাৎ বন্ধ ৩০টি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়, কর্মহীন অনেকে, প্রশ্ন পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়েও

শিশু শ্রমিকরা যাতে পড়াশোনা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তার জন্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রায় ২৬ বছর আগে ৩০টি পৃথক স্কুল তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ এই স্কুলগুলি চালায় তিনটি এনজিও।
হঠাৎ বন্ধ ৩০টি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়, কর্মহীন অনেকে, প্রশ্ন পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়েও
ছবি প্রতীকী

প্রায় ৩০টি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলো রাজ্যে। তার জেরে প্রশ্ন উঠেছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়া প্রায় দু'শ জনের কর্মসংস্থান হবে কোথা থেকে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা।

২৬ বছর আগে গঠিত এই স্কুলগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকলেও পরিচালনা করে তিনটি এনজিও। আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যা বেড়েছে সবদিকেই। সূত্রের খবর, গত ৩১ মার্চ স্কুলগুলি বন্ধ হয়ে যায়। স্কুলের প্রায় হাজার খানেক পড়ুয়াকে সর্বশিক্ষা অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে। আর কাজ হারিয়ে জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে কর্মীরা। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সুরাহা তাঁদের মেলেনি।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শিশু শ্রমিকরা যাতে পড়াশোনা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তার জন্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রায় ২৬ বছর আগে ৩০টি পৃথক স্কুল তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ এই স্কুলগুলি চালায় তিনটি এনজিও - ১০টি ভারতীয় রেড ক্রস, ২টি সেন্ট জন্স ও বাকি ১৮টির দায়িত্বে টেগোর সােসাইটি ছিল। প্রতি স্কুলে শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী রয়েছেন ৪ জন করে, মোট ১২০ জন। ভোকেশনাল ইন্সট্রাক্টর হিসেবে রয়েছেন আরও ১০ জন কর্মী। এই ইন্সট্রাক্টরদের প্রত্যেকের অধীনে তিনটি করে স্কুল রয়েছে। এই স্কুলগুলিতে মোট পড়ুয়া রয়েছে এক হাজার।

স্কুলগুলিতে কাদের পড়ানো হয়? শিশু শ্রমিক স্কুল নাম শুনে মোটামুটি আন্দাজ করা যায় তা। পেটের দায়ে যে শিশুরা কারখানা ও বিভিন্ন দোকানে কাজ করে, তাদের উদ্ধার করে এই স্কুলগুলিতে পাঠানো হয় পঠন-পাঠনের জন্য। পাশাপাশি মাসিক যদিও এই টাকাও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। দুস্থ স্কুল পড়ুয়াদের পঠনপাঠনে আগ্রহ বাড়াতে মাসিক ৪০০ টাকা করে ভাতাও দেয়া হয় তাদের।

জানা গিয়েছে, এই স্কুলগুলিতে ছয় মাস অন্তর শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বেতন দেওয়া হয়। পড়ুয়ারাও ছ'মাস অন্তর ভাতা পায়। গোটা প্রক্রিয়া নজরদারি চালায় রাজ্য। কিন্তু টাকা আসে কেন্দ্র থেকে। গত ৩১ মার্চ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয় স্কুলগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের বক্তব্য, এটাই তাদের একমাত্র কর্মসংস্থান ছিল। জীবনের একটা বড় সময় তাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শিশু শ্রমিকদের জন্যও এই স্কুলগুলি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল স্কুলগুলি। বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের উদ্যোগে এখনও স্কুল চালাছেন। পাশাপাশি মিডডে মিলের ব্যবস্থাও করছেন তাঁরাই।

কর্মহীন হয়ে পড়লেন তাঁরা।

জেলা প্রশাসন থেকে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েছেন শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীরা। লাভ কিছু হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থা না হলে বড় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলাশাসক আয়েশা রানি বলেন, 'পুরো বিষয়টি দেখতে হবে। এনজিওগুলির অডিট হয়েছে কিনা, দেখতে হবে। তাঁদের বেতনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁরা যা অর্ডার পেয়েছেন, সেটাই বলেছেন।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.