বাম জমানার সাঁওতালডি, বক্রেশ্বর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাফল্যে খুশি মুখ্যমন্ত্রী, করলেন ট্যুইট

গত এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত উৎপাদনের নিরিখে সেরা হয়েছে সাঁওতালডি। দেশজুড়ে সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ)।
বাম জমানার সাঁওতালডি, বক্রেশ্বর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাফল্যে খুশি মুখ্যমন্ত্রী, করলেন ট্যুইট
গ্রাফিক্স - নিজস্ব

সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রথম স্থান পেয়েছে পুরুলিয়া জেলার সাঁওতালডি বিদ্যুতকেন্দ্র। প্রথম দশে আছে বক্রেশ্বর। এমনটাই জানিয়েছে সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি। তা নিয়ে সাফল্যের উচ্ছ্বাসে টুইট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত এই দুটি কেন্দ্র বামেদের আমলে তৈরি হয়েছিল।

বামেদের দাবি- গত ১০ বছরের তৃণমূলের আমলে বিদ্যুতের দাম শুধুই বেড়েছে, নতুন কেন্দ্রও তৈরি হয়নি। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবর দাবি করে এসেছেন, তাঁর আমলের মতো উন্নতি রাজ্যে স্বাধীনতার পর হয়নি। সেই তাঁকেই এই দুই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্যের কথা টুইট করে জানাতে হচ্ছে।

দেশজুড়ে সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ)। তার ভিত্তিতেই সম্প্রতি এই তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। গত এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত উৎপাদনের নিরিখে সেরা হয়েছে সাঁওতালডি। ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা আছে এই কেন্দ্রে। এই কয়েক মাসে এই কেন্দ্রে শতাংশের বিচারে প্লান্ট লোড ফ্যাক্টর ৯২.৭৯ শতাংশ। সাঁওতালডিহি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২৫০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট থেকে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের আমলে তৈরি হওয়া সাঁওতালডি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারটি ইউনিটের বর্তমানে কোনও অস্তিত্বই নেই। বর্তমানে চালু থাকা এই দুটি ইউনিটই বামফ্রন্টের আমলে তৈরি হয়েছিল। ২০০৭ সালে আড়াইশো মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৫ নম্বর ইউনিটের কাজ শুরু হয়। ২০০৯ সালে এই ইউনিট চালু হয়। ২০১১ সালে ৬ নম্বর ইউনিট চালু হয়।

অপরদিকে, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নজিরবিহীন বিরোধিতার মধ্যেও গড়ে উঠেছিল বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছাত্র যুব আন্দোলনের ফসল এই বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি। ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বক্রেশ্বরে বর্তমানে ৬টি ইউনিট আছে। বর্তমানে ১০৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে বক্রেশ্বরে।

বামেদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন পুরুলিয়াতে রেলের উদ্যোগে এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি হবে বলে শিলা পুঁতেছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুই হয়নি। মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে। যদিও সেই জমি অধিগ্রহণ বামফ্রন্ট সরকারের আমলে হয়েছিল এবং বামফ্রন্ট সরকারের আমলে গড়া ৩টি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বহাল আছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ বছর সময় লাগে। রাজ্যে ক্রমশই বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। সেক্ষেত্রে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। বামেদের প্রশ্ন - ২০১১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তৃণমূল সরকার কটা বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়েছে অথবা উদ্যোগী হয়েছে?

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.