‘শুভেন্দু একটাও কথা রাখেননি’ - বেসুরো সুনীল মণ্ডলের আবার তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা

তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া অনেক দলবদলুর মতোই সুনীল মণ্ডলের গল্পটা। গত বছর ডিসেম্বরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার পা রাখা গেরুয়া শিবিরে।
‘শুভেন্দু একটাও কথা রাখেননি’ - বেসুরো সুনীল মণ্ডলের আবার তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা
সুনীল মন্ডলছবি- লোকসভা টিভি

বিজেপির অন্দরে ফের অস্বস্তির বাতাবরণ তৈরি করলেন বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডল। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়ায় জল্পনা শুরু হয়েছে যে, মুকুল রায়ের পর এবার কি তিনিও তৃণমূলে ফিরছেন?

তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া অনেক দলবদলুর মতোই সুনীল মণ্ডলের গল্পটা। গত বছর ডিসেম্বরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার পা রাখা গেরুয়া শিবিরে। তারপর ভোটের প্রচারে সক্রিয়ভাবে নেমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের বিরোধিতা করা এবং নির্বাচনে ভরাডুবির পর অন্য অনেকের মতোই ফের তৃণমূলে ফেরার জল্পনা তৈরি করা। তাঁর সাংসদ পদ খারিজের দাবি তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

নির্বাচনের আগেই যে বিজেপিতে যোগদানের জন্য তাবড় নেতা-নেত্রীদের মধ্যেই হিড়িক পড়ে গিয়েছিল, তৃণমূলে থেকে কাজ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁরা কেন শিবির বদলাতে চাইছেন? সুনীল মণ্ডল বলেন, ‘যাঁরা তৃণমূল থেকে এসেছে, বিজেপি তাঁদের মানতে পারছে না। বিজেপি মনে করছে এদের বিশ্বাস করা ঠিক হচ্ছে না।’ এপ্রসঙ্গে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়ের ‘ট্রয়ের ঘোড়া’র উপমাও টেনে আনেন তিনি। এসব মন্তব্যের জেরে তাঁদের সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়ছে। তাঁরও মোহভঙ্গ হয়েছে। একপ্রকার স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘ভেবেছিলাম বিজেপি সাংগঠনিক ভাবে বড় দল। কিন্তু সেরকম ভাবে পাচ্ছি না। দলে যোগনকারীদের কোনও কাজের জায়গা দেওয়া হচ্ছে না।’

শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই পদ্ম শিবিরে পা রাখলেও তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক যে খুব মধুর নয়, তা স্পষ্ট করেছেন সুনীল। তাঁর দাবি, ‘শুভেন্দু প্রথম আমারা বাড়ি আসেন। আমায় যে যে কথা দিয়েছিলেন, একটা কথা মানেনি। দাদা-ভাই হয়ে একসঙ্গে কাজ করব বলেছিলেন। কিন্তু কথা রাখেননি।’ তাহলে কি তিনি প্রতারণার শিকার? ‘শুধু আমি নই, অনেকের সঙ্গেই করেছেন। শুভেন্দুকে নিয়ে আমি আর একটাও কথা বলতে চাই না। আমার সঙ্গে এখন সম্পর্ক নেই।' জানিয়ে দিলেন সাংসদ। ঘাসফুলে যাচ্ছেন কিনা, প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য 'বলার সময় হয়নি' বলে এড়িয়ে যান।

প্রসঙ্গত, বিধায়ক পদ না ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন মুকুল রায়। তাই বাংলায় দলত্যাগ আইন কার্যকর করার দাবি তুলেছে বিজেপি। পাল্টা দলত্যাগী দুই সাংসদ শিশির অধিকারী ও সুনীল মণ্ডলের পদ খারিজের আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in