

‘যেখানে হেরেছি সরকারি প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দিয়েছি। যদি হিম্মত থাকে, বাপের বেটা হও… সেই টাকা নিয়ে যাও।‘ ঠিক এই ভাষাতেই হুঙ্কার দিলেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক সওকত মোল্লা। পরাজিত হলে সরকারি প্রকল্পের টাকা বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
রবিবার ভাঙড়ে দলীয় সভা থেকে তৃণমূল বিধায়ক হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘’এই ভাঙড় থেকে তিনটি অঞ্চলে আমরা হেরে গিয়েছিলাম। আমাদের সরকার সেই তিনটি অঞ্চলের ঘর (আবাস যোজনা) পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। দাদার খাবে, আর মামার গাইবে! হবে না।... বলছে ওটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবার টাকা নাকি? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার টাকা দেবে আর তাঁর মা-মাসি নিয়ে এই চালতাবেড়িয়া-শানপুকুরের কিছু সমাজ-বিরোধী টানাটানি করবে? আমরা বলছি, টাকা আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। যদি হিম্মত থাকে, বাপের বেটা হও.. সেই টাকা নিয়ে নাও। দেখি কত বাপের ব্যাটা আছ তোমরা।‘’ জানা গেছে, চালতাবেড়িয়া, শানপুকুর ও পোলেরহাট ১ অঞ্চলে সরকারি প্রকল্পে ঘরের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সওকত আরও বলেন, ‘’আমি পরিষ্কার বলছি, আমাদের এই অঞ্চলে সিএমআর থেকে নাম এসেছে। আমি প্রত্যেক নেতার কাছে অনুরোধ করব, আইএসএফ-এর একজনও যাতে টাকা না পায় তার ব্যবস্থা আমাদের তৃণমূল কংগ্রেসকে করতে হবে।"
সওকত মোল্লার এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এক সংবাদমাধ্যমে এর প্রতিক্রিয়ায় সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, ‘’এর থেকে একটা জিনিস বোঝা যাচ্ছে, দৌর্দণ্ডপ্রতাপ-অপরাজেয় তৃণমূলের সওকত মোল্লারা হেরে যাওয়ার ভয় পাচ্ছেন। ওরা বুঝতে পারছেন, বেশ কতগুলো জায়গায় ওঁরা হারতে চলেছেন। তাই, সেই হারটা ঠেকানোর জন্য এই ধরনের কথা বলছেন।‘’
আইএসএফ-এর জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ''সওকত মোল্লা সাধারণ মানুষের প্রতি আস্থা-ভরসা হারিয়ে ফেলেছেন। তাই বেছে বেছে আইএসএফ কর্মীদের সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করার কথা বলছেন।''
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, ‘’রাজনীতিতে এই ধরনের ঔদ্ধত্য যারা দেখান, সাধারণভাবে মানুষ তাঁদের নির্বাচনে জেতা বন্ধ করে দেন। মানুষ ওঁদের এমনভাবে হারাবেন যে ওঁদের আর বিধানসভায় পৌঁছানোর জায়গা থাকবে না।‘’
নির্বাচনের আগে দলীয় বিধায়কের এই ধরণের কথায় অস্বস্তিতে শাসকদল তৃণমূল। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়েছে তারা। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "এই মন্তব্য দলের নয়। এটা সওকত মোল্লার ব্যক্তিগত মন্তব্য। দলের তরফে বার্তা দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মী সভায় আবেগ থেকে উনি এমন মন্তব্য করতে পারেন। এটা তৃণমূলের কালচার নয়। বিজেপির কালচার"।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন