মধ্যরাতে উত্তাল বিশ্বভারতী, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মার, ধর্ষণের হুমকি নিরাপত্তারক্ষীদের!

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ২০ দিন ধরে পড়ুয়াদের লাগাতার আন্দোলনের জেরে ফের উত্তাল হল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ফাইল ছবি সংগৃহীত

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে পড়ুয়াদের লাগাতার আন্দোলনের জেরে ফের উত্তাল হল বিশ্বভারতী। মঙ্গলবার মধ্যরাতে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরী হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে একাধিক বিষ্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষীরা মদ্যপ অবস্থায় পড়ুয়াদের মারধর করেছেন। শুধু তাই নয়, ছাত্রীদের ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে। দফায় দফায় মারামারি, ধাক্কাধাক্কির ফলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। বাসভবন থেকে বেরোনোর সময় পড়ুয়াদের বিক্ষোভের সম্মুখীন হন উপাচার্য। যার ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তাল হতে শুরু করে।

কার্যত বিপাকে পড়ে বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে বাঁচতে নিরাপত্তারক্ষাদের ডেকেছিলেন উপাচার্য। তাঁকে বিক্ষোভস্থল থেকে বের করতে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নিরাপত্তারক্ষীরা। নিরাপত্তারক্ষীদের অভিযোগ, সেই সময় উপাচার্যকে লক্ষ্য করে চেয়ার ছোঁড়েন কয়েকজন আন্দোলনকারী। তবে, কারোর আঘাত লাগেনি।

এই ঘটনার পর, নিরাপত্তারক্ষীদের ঘেরাটোপে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল হলে যান উপাচার্য। কিন্তু সেখানেও দানা বাধে বিক্ষোভ। বারংবার ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন পড়ুয়া এবং নিরাপত্তারক্ষীরা।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বাসভবনের সামনে মঞ্চ করে অবস্থান চলছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা এসে সেই মঞ্চ ভেঙে দেয়। পুরো ঘটনাটাই ঘটেছে বিশ্বভারতীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অশোক মাহাতোর উপস্থিতিতে। এমনটাই দাবি করেছেন পড়ুয়ারা।

পাল্টা অশোক বাবু জানান, মঙ্গলবার রাতে বিশ্বভারতীর অধ্যাপক এবং অধ্যাপিকাদের বাড়িতে গিয়ে ইট ছুড়েছেন পড়ুয়ারা। সেই কারণে নিরাপত্তাকর্মীরা এসে মাঝরাতে অবস্থান মঞ্চ ভেঙে ফেলেছেন। অধ্যাপকদের বাড়ি থেকে বেশ কিছু পাথর উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি অশোকের।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ছাত্রীর দাবি, এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। কেউ ইট ছোড়েনি। বরং নিরাপত্তাকর্মীরা বেড়া টপকে এসে তাঁদের মারধর করতে শুরু করেন এবং অবস্থান মঞ্চ ভেঙে দেন। পাশাপাশি বিক্ষোভকারী ছাত্রীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এমনকি ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়।

পড়ুয়াদের মতে, বিশ্বভারতীর উপাচার্যের মনোভাব যথেষ্ট স্বৈরাচারী। সেই কারণেই তাঁর পদত্যাগের দাবি নিয়ে প্রায় ২০ দিন যাবৎ বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বাসভবনের সামনে আন্দোলন করছেন পড়ুয়ারা। তবে, ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পড়ুয়াদের দাবিদাওয়া নিয়ে কোনও লিখিত আবেদন তাঁরা পাননি। তাই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
জিভ কেটে নিয়েছে! CBI-র বিরুদ্ধে FIR করলেন বগটুইকাণ্ডের মূল অভিযুক্তর স্ত্রী, ফেরালেন দেহ
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
TMC: খণ্ডঘোষে বিলাসবহুল অট্টালিকা তৃণমূল উপপ্রধানের, তাও আবাস যোজনায় নাম পরিবারের, উঠছে প্রশ্ন
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
বগটুইকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত লালন শেখের 'রহস্যমৃত্যু'তে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হাইকোর্টে

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in