ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে আজ হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিতে পারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

প্রাথমিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। আজই কমিশন হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশ করতে পারে।
ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে আজ হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিতে পারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
ফাইল চিত্র

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। আজই কমিশন হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশ করতে পারে। কারণ, এদিন হাইকোর্টে পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে ফের সেই জনস্বার্থ মামলার শুনানি রয়েছে।

কমিশন সূত্রের খবর, রাজ্যে হিংসা-অশান্তির মোট ক’টি অভিযোগ এসেছে এবং রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে কমিশনের প্রতিনিধিদের উপলব্ধি কী, রিপোর্টে সেটাই তুলে ধরা হতে পারে। তবে রিপোর্টে কমিশনের রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কিছু জানায় কিনা, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার যাদবপুরের কেপিসি এলাকায় দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে এবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনই। কমিশনের সদস্যরা এমন অভিযোগ করলেও কেন্দ্র বাহিনী স্থানীয় এবং মহিলাদের উপর লাঠিচার্জ করছে বলে পাল্টা অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। ঘটনায় সাতজন আহত হন।

জানা গিয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্ত করতে সেখানে যায়। সঙ্গে ছিল ঘরছাড়াদের একটা দল। কমিশন রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ওই এলাকায় ৪০টির বেশি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। তার খোঁজ নিতে গিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা নীলসঙ্ঘ এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন।

কমিশনের এক সদস্য বলেন, 'হাইকোর্টের কাছে কিছু অভিযোগ ছিল, আমাদের কাছে কিছু অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আমরা এখানে এসেছিলাম। আমরা দেখলাম ৪০টির বেশি ঘরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তাঁরা এখনও ঘরছাড়া। সেই দুষ্কৃতীরা আমাদের উপর, পুলিশের উপরেও হামলা চালায়, মারার চেষ্টা করে, তাড়ানোর চেষ্টা করে। আমাদের এমন অবস্থা হলে, সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে?‘

প্রসঙ্গত, ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন কলকাতার এক বিজেপি নেত্রী। সেই মামলায় প্রাথমিক ভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এক সদস্য, রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের এক সদস্য এবং রাজ্যের লিগাল সার্ভিস অথরিটির সদস্য-সচিবকে নিয়ে একটি কমিটি গড়ে হাইকোর্ট।

সেই কমিটি তাদের রিপোর্টে জানায়, তারা ৩২৪৩টি অভিযোগ পেয়েছিল। কিন্তু সেগুলি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো সত্ত্বেও উত্তর মেলেনি। সেই রিপোর্টে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৮ জুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in