
রাত থেকেই উত্তপ্ত ডোমকলের রায়পুর। রাতে তৃণমূল-সিপিআইএম সংঘর্ষ হয়। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এরপর সকালে সিপিআইএম কর্মীদের বাড়িতে আটকে রাখার অভিযোগ উঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে। ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আরও অভিযোগ, প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিষ্ক্রিয় ছিল। রাজ্য পুলিশের তরফ থেকেও সাহায্য মেলেনি।
গণ্ডগোলের খবর পেয়ে এলাকায় যান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) শুভম বজাজ। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় ভোট দিতে যান এলাকার বাম সমর্থকেরা।
দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছে ৬২.১৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে — ৬৫.৭৭ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে মালদহে — ৫৮.৪৫ শতাংশ।
মালদহের মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা প্রমিলা বাগদি ভোটকক্ষে প্রবেশের কিছু ক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মৃত্যু হয় তাঁর।
এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের সিমাগেরিয়াতে ভোট দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের নওদায় ফের উত্তেজনা। শিবনগর এলাকা থেকে হুমায়ুন কবীর বেরোনোর চেষ্টা করলে তাঁর কনভয়ে ফের হামলা চালায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা বলে অভিযোগ। তাঁর গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে আটকানোর চেষ্টা করা হয় এবং তাঁর পোলিং এজেন্টের গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ভোট পড়েছে ৪১.১১ শতাংশ। সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে, ৪৪.৬৯ শতাংশ। সবথেকে কম মালদহে, ১৬.৯৬ শতাংশ।
প্রথম দফায় নির্বাচন ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে কমপক্ষে ১২৫টি আসনে জিতবে বিজেপি। এমনই দাবি শুভেন্দু অধিকারীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “শুধু পূর্ব মেদিনীপুরের মধ্যে আমাকে আটকে রাখবেন না। ১৫২টা আসনের মধ্যে ১২৫-এর নীচে বিজেপির নামার কোনও জায়গা নেই। উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল সাফ হয়ে গিয়েছে একদম।”
ভোট দিতে গিয়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের সিমাগেরিয়া এলাকার ঘটনা। নিহতের নাম ইসরাতন বিবি। ভোট দেওয়ার পর হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে মৃত্যু হয় তাঁর।
সকাল ১১টা পর্যন্ত কমিশনের দফতরে জমা পড়েছে ২৬০টি অভিযোগ। সি-ভিজিল অ্যাপের মাধ্যমে আরও ৩৭৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে।
হলদিয়ার তৃণমূল প্রার্থী তাপসী মণ্ডলের অভিযোগ, কিছু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। ভোটারদের ধমকানো হচ্ছে।
সিউড়িতে কুতুরা গ্রামের ২৫১ নম্বর বুথের তৃণমূল এজেন্টের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে বুথে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহের অভিযোগ, ১৬০ নম্বর বুথে এক দৃষ্টিহীন ব্যক্তি তাঁর নাতিকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন। সেই নাতিকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান নিজে বোতাম টিপে দিয়েছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার পাতলি গ্রামে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে কর্মীদের উপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে।
নারায়ণগড়ে ভোট দিলেন সিপিআইএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। ভোটদানের পরে বুথের বাইরে তিনি জানান, এ বার বামেদের ভোট বৃদ্ধি পাবে। মেরুকরণ যেমন চলছে, তেমন মেরুকরণ ভাঙছেও।
মুর্শিদাবাদের নওদার শিবনগর গ্রামে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। হুমায়ুনের গাড়িও ঘিরে রাখা হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তি-হাতাহাতি শুরু হয়।
প্রতিবাদে রাস্তার মাঝেই চেয়ার নিয়ে বসে পড়েন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, "পুলিশ এখানে পুরো তৃণমূলের দালালি করছে। বেআইনি রিভলভার নিয়ে তৃণমূলের মস্তানবাহিনী নেমেছে। পুলিশ কী করছে? শেষ দেখে ছাড়ব। রাতভর মহিলাদের উপর অত্যাচার করেছে।"
ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।
নন্দীগ্রামে পুলিশ বিজেপির হয়ে কাজ করছে। দুই পুলিশকর্মীর নামোল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানালো তৃণমূল।
নন্দীগ্রামের ব্রজমোহন তিওয়ারি হাইস্কুলের বুথে ভোট কেন্দ্রের মধ্যে মহিলা BLO তাঁর ফোন ব্যবহার করছেন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ।বুথ কেন্দ্রে পৌঁছে মহিলা BLO-কে সতর্ক করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।এরপর তিনি আরও বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করেন।
মুর্শিদাবাদের রানিনগরের নটকুলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল বলে অভিযোগ কংগ্রেস প্রার্থী জুলফিকর আলির। ওই বুথ থেকে কংগ্রেসের এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। প্রার্থী বলেন “বাঁশঝাড়ের তলায় বোমা-পিস্তল নিয়ে বসে আছে। মানুষকে বাড়ি থেকে বেরোতে দিচ্ছে না। আমাদের এজেন্টকে এখান থেকে বের করে দিয়েছে।”
বীরভূমের সিউড়ির ১৩৫ নম্বর ও ১৫৯ নম্বর বুথে খারাপ হয়ে যায় EVM মেশিন। পুরুলিয়ার তিনটি বুথে দু'ঘণ্টার বেশি EVM খারাপ ছিল। দু'ঘণ্টা বাড়তি সময় না দিলে, ধর্নার হুঁশিয়ারি তৃণমূলের।
সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ভোট পড়েছে ১৮.৭৬ শতাংশ। সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে, ২০.৫১ শতাংশ। সবথেকে কম মালদহে, ৩৮.২২ শতাংশ।
বাঁকুড়ার সারদামনি মহিলা মহাবিদ্যালয়ে ১৮৭ নম্বর বুথে ইভিএম খারাপ। ৪০ মিনিট ধরে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা।
ভোটের আগে রাতে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের ডোমকল । ডোমকলের রায়পুর গ্রামে তৃণমূল-সিপিআইএম সংঘর্ষ । আহত হয়েছেন ৪ জন।
আলিপুরদুয়ারের মাগরাহাটে বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বীরপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এজেন্ট।
ভোট শুরু হতেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ইভিএম ত্রুটির অভিযোগ আসছে। ইভিএম-এর ‘ত্রুটি’ থাকার কারণে মুর্শিদাবাদের কান্দি বিধানসভার ১৩০ নং বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হতে দেরি হয়েছে। শমসেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের ২১২ নম্বর বুথেও ইভিএম-এ ত্রুটির অভিযোগ উঠে আসছে। শিলিগুড়ি বিধানসভারও কিছু বুথে ইভিএম ত্রুটির অভিযোগ আসছে।
প্রথম দফার ভোটে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়, ৩১৬ কোম্পানি।
২০২১ সালের ভোটে এই ১৫২টি আসনের মধ্যে ৯২টি আসনে তৃণমূল জিতেছিল। ৫৯টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। এ ছাড়া, কালিম্পঙের একটি আসনে জিতেছিল তৃণমূল সমর্থিত ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা।
প্রথম দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৪৭৮ প্রার্থী। এর মধ্যে মহিলা প্রার্থী ১৬৭ জন। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণ, করণদিঘি এবং ইটাহারে। এই কেন্দ্রগুলিতে ১৫ জন করে প্রার্থী লড়ছেন। সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায়। সেখানে লড়ছেন মাত্র পাঁচ জন প্রার্থী।
মোট ৪৪ হাজার ৩৭৬টি বুথে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে। প্রত্যেক বুথেই ভোটগ্রহণের সময় ওয়েব কাস্টিং চলবে। আয়তনে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র শিলিগুড়ি, সবচেয়ে বড় কালিম্পং। তবে ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর। সেখানে ২.৯৬ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র মুর্শিদাবাদেরই শমসেরগঞ্জ। সেখানে ভোটারের সংখ্যা ১.৬১ লক্ষ।
শুভেন্দু অধিকারী (নন্দীগ্রাম, বিজেপি); পবিত্র কর (নন্দীগ্রাম, তৃণমূল); অধীর চৌধুরী (বহরমপুর, কংগ্রেস); দিলীপ ঘোষ (খড়্গপুর সদর, বিজেপি); হুমায়ুন কবীর (রেজিনগর, আমজনতা উন্নয়ন পার্টি); মানসরঞ্জন ভুঁইয়া (সবং, তৃণমূল); মলয় ঘটক (আসানসোল উত্তর, তৃণমূল) বিরবাহা হাঁসদা (বিনপুর, তৃণমূল); উদয়ন গুহ (দিনহাটা, তৃণমূল); পরেশ অধিকারী (মেখলিগঞ্জ, তৃণমূল); নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙা, বিজেপি); শঙ্কর ঘোষ (শিলিগুড়ি, বিজেপি) স্বপ্না বর্মণ (রাজগঞ্জ, তৃণমূল) মৌসম বেনজির নুর (মালতিপুর, কংগ্রেস); অশোক দিন্ডা (ময়না, বিজেপি); দেবলীনা হেমব্রম (রানিবাঁধ, সিপিআইএম); অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ, বিজেপি); জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (সিউড়ি, বিজেপি); দিব্যেন্দু অধিকারী (এগরা, বিজেপি)।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর প্রথম দফার ১৫২টি আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১। তার মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৯৬ এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৭ হাজার ২১০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪৬৫ জন। ১০০ বছর ও তার বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ৪,০২৫। প্রথম বার ভোট দেবেন ৪.০৫ লক্ষ ভোটার।
আজ (২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার) রাজ্যে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ। ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। সমগ্র উত্তরবঙ্গ এবং গোটা জঙ্গলমহলের পাশাপাশি ভোট হবে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন