‘বামফ্রন্টের সময়েও ত্রাণ নিয়ে গিয়েছি, কখনও এমন হয়নি’ - ত্রাণ লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সিদ্দিকুল্লা

অভিযোগ, ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আসামাত্র শাজাহানের অনুগামীরা গাড়ি লুট করে। মন্ত্রী গাড়ি থেকে নামলে তাঁর দিকে তেড়ে যান শেখ শাজাহান ও তৃণমূল কর্মীরা।
‘বামফ্রন্টের সময়েও ত্রাণ নিয়ে গিয়েছি, কখনও এমন হয়নি’ - ত্রাণ লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সিদ্দিকুল্লা
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীফাইল ছবি সংগৃহীত

ত্রাণ দিতে গিয়ে নিজের দলের দুষ্কৃতীদের হাতেই আক্রান্ত হলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। আবারও প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। ঘটনাটি ঘটে সন্দেশখালিতে। ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার সময় বাসন্তী হাইরোডে গাড়ি থামিয়ে লুটপাট চালায় তৃণমূলেরই ব্লক সভাপতি শেখ শাজাহানের দলবল। মন্ত্রী নিজে গাড়ি থেকে নেমে এলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। গোটা ঘটনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সী ও পুলিশ কর্তাদের জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, 'বামফ্রন্ট সরকারের সময়েও অনেক জায়গায় ত্রাণ নিয়ে গিয়েছি। কখনও এমন ঘটনা দেখিনি। এইসব কুলাঙ্গার ও গুন্ডা তৃণমূলের সর্বনাশ করেছে। যারা মন্ত্রীকে মারতে পারে, তারা সাধারণ মানুষের ওপর কী অত্যাচার করছে বোঝাই যাচ্ছে।' ঘটনার প্রতিবাদে জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার দুপুরে সন্দেশখালি-১ ব্লকের আগারহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সড়বেড়িয়া গ্রামে প্রধান শেখ সাজাহানকে না জানিয়েই ত্রাণ সামগ্রী দিতে যান মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি। অভিযোগ, ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আসামাত্র শাজাহানের অনুগামীরা গাড়ি লুট করে। ত্রাণ নিতে আসা গ্রামবাসী, মহিলাদেরও মারধর করা হয়। মন্ত্রী গাড়ি থেকে নামলে তাঁর দিকে তেড়ে যান শেখ শাজাহান ও তৃণমূল কর্মীরা। তাঁর নিরাপত্তা রক্ষীদের মারধর করা হয়, সিদ্দিকুল্লাকে গালিগালাজ করে ধাক্কাও দেওয়া হয়। ওই সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ কর্মীরা তাঁকে কোনও মতে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ত্রাণের ওপর নিজের লোকেদের নিয়ন্ত্রণ রাখতেই হামলা করেছেন সরবেড়িয়া আগারহাটি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এবং তৃণমূলের সন্দেশখালি ১ ব্লকের সভাপতি এলাকার ত্রাস শেখ শাজাহান, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সুপার জোবি থমাস জানান, সন্দেশখালিতে মন্ত্রী ত্রাণ দিতে আসবেন শুনে অনেকে ভিড় করেছিলেন। কিন্তু সেই পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী না থাকায় সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। শেখ শাজাহানের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি জানান, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, 'হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সন্দেশখালির ৪০০ মানুষের জন্য আমি ত্রাণ সামগ্রী এনেছিলাম। শাজাহান ত্রাণসামগ্রী লুট করেছে। উপস্থিত গরিব মানুষদের মারধর করেছে। আমাকে ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি খুনের হুমকি দিয়েছে। পুলিশকেও মারধর করেছে। সন্দেশখালিতে শাজাহান জঙ্গলের রাজত্ব চালু করেছে।'

অন্যদিকে, মন্ত্রী সম্প্রীতি ভাঙতে চেয়েছেন, এই অভিযোগ তুলে শেখ শাজাহান বলেছেন, 'গত দু’মাস ধরে সন্দেশখালিতে কোটি কোটি টাকার ত্রাণসামগ্রী বিলি হয়েছে। কোথাও কোনও সমস্যা হয়নি। আজ ক্ষতিগ্রস্ত নয়, এমন এক বিশেষ এলাকার মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী এনেছিলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। দলের কেউই জানতে না। তাই সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।'

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in