মন্দির কমিটির ফতোয়ায় রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় ব্রাত্য বিদ্রোহী কবির ছবি, পরে ক্ষমা প্রার্থনা কমিটির
মন্দির কমিটির ফতোয়ায় রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় ব্রাত্য বিদ্রোহী কবির ছবি, পরে ক্ষমা প্রার্থনা কমিটির

মন্দির কমিটির ফতোয়ায় রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় ব্রাত্য বিদ্রোহী কবির ছবি, নিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায়

মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয়, নজরুলের গান নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু মন্দিরে তাঁর ছবি বা ছবি দেওয়া ব্যানার-পোস্টার কিছু রাখা যাবে না।

নজরুল ইসলামের ছবি মন্দিরে রাখা যাবে না। হেরিটেজ তকমা পাওয়া মন্দির থেকে খুলে দেওয়া হলো নজরুল ইসলামের ছবি সংবলিত ব্যানার। ঘটনা জানাজানি হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। সমালোচনার মুখে পড়ে ক্ষমা চায় মন্দির কর্তৃপক্ষ।

গত রবিবার সন্ধ্যায় নদিয়ার নবদ্বীপের রানির ঘাট সংলগ্ন রাধারানি মন্দিরে রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল স্থানীয় একটি নৃত্য প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অনুষ্ঠান মঞ্চে নজরুলের ছবি দেওয়া ব্যানার-পোস্টার টাঙানোর সময় বাধা দেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয়, নজরুলের গান নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু মন্দিরে তাঁর ছবি বা ছবি দেওয়া ব্যানার-পোস্টার কিছু রাখা যাবে না।

মন্দির কর্তৃপক্ষের এই দাবি মেনে নিয়েই অনুষ্ঠান করে আয়োজককারী সংস্থা। কিন্তু এরপরই রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় নজরুলের ছবি ব্রাত্য করে রাখার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কবিকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন করার প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন নেটিজেনরা।

ক্ষোভ জানিয়ে সাহিত্যিক বিনোদ ঘোষাল ফেসবুকে লেখেন, "জন্মদিনের প্রাক্কালে আমরা কবিকে চমৎকার একটি উপহার দিলাম আমাদের পক্ষ থেকে। শ্রীচৈতন্যদেবের পবিত্রজন্মভূমি নবদ্বীপধামের ঐতিহ্যমণ্ডিত রাধারানিমন্দিরের (যা কিছুদিন আগে হেরিটেজ তকমা পেয়েছে) নাটমন্দিরে একটি ডান্স একাদেমি তাদের 'রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা' পালনের আয়োজন করেছিল মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে। অনুষ্ঠান শুরুর আগে অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা যখন রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের ছবি সম্বলিত ফ্লেক্স টাঙাচ্ছেন তখন সেই মন্দিরের কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানালেন, কাজী নজরুল ইসলামের কোনও ফটো 'পবিত্র মন্দিরপ্রাঙ্গণে' রাখা যাবে না।"

তিনি বলেন, "কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি, ধিক্কার জানাচ্ছি রাধারানি মন্দিরের কর্তৃপক্ষের এমন জঘন্য বাংলাসংস্কৃতির জন্য অবমাননাকর আচরণকে।"

সাহিত্যিকের পোস্টের কমেন্ট বক্সে কবি শ্রীজাতের কটাক্ষ, "বাহ, চমৎকার! তা রবীন্দ্রনাথ যে অহিন্দু ছিলেন সেটা বোধহয় এঁদের জানা নেই?"

আয়োজককারী সংস্থাকেও আক্রমণ করেছেন বিনোদ ঘোষাল। সংস্থাও সমান অপরাধী বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সংস্থার উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, "এতটা অপমান সহ্য করে মাথা নিচু করে এই অনুষ্ঠান করে আপনারা কী পেলেন?"

আয়োজককারী সংস্থার তরফ থেকে এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানের সমস্ত আয়োজন ততক্ষণে সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কলাকুশলী, অতিথিরাও হাজির হয়ে গিয়েছিলেন। ছোট ছোট পড়ুয়াদের কথা ভেবেই ওই শর্ত শুনেও অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়নি।

সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়েছে রাধারানি মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, অজ্ঞতাবশত নজরুলের ছবি সরিয়ে ফেলতে বলেছিলেন তাঁরা। চিঠিতে বলা হয়, "নজরুল একজন সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক মানুষ তিনি আমাদের সকলের কাছে নমস্য। বিষয়টি জানতে পেরে আমরাও বুঝতে পারি কাজটি ঠিক হয়নি। এই ঘটনায় যাদের মনে আঘাত লেগেছে তাদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।''

মন্দির কমিটির ক্ষমা প্রার্থনা
মন্দির কমিটির ক্ষমা প্রার্থনাছবি সংগৃহীত

GOOGLE NEWS-এ Telegram-এ আমাদের ফলো করুন। YouTube -এ আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in