

রবিবার সকালে নিজের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় নিজের স্ত্রীকে থাকতেন ৫ বারের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকেই রবিবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেশীরা কার্যালয়ের জানালা দিয়ে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেছে পুলিশ।
মৃতদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে, তাতে তিনি লিখে গিয়েছেন, ‘‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’’ রাজনীতিতে আসা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। সুইসাইড নোটে তিনি লিখেছেন, “ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। কখনও শত্রুতার রূপ নেয়নি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। সারাজীবন এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি।“
তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (টিআরডিএ)-তে তাঁকে যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে তার উল্লেখও রয়েছে চিঠিতে। তিনি লেখেন, “টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি। আমাকে অপমান (ম্যালাইন) করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যে থাক।’’ তবে কারও নাম উল্লেখ করে সরাসরি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেননি তিনি।
উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় টিআরডিএ -র চেয়ারম্যান ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। রামপুরহাটের নতুন বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা টিআরডিএ নিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, প্ল্যান-পাশ থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে টাকা নিয়েছে টিডিআরএ। রামপুরহাটে যে পরপর হোটেল তৈরি হয়েছে, টাকা নিয়ে সেই সব হোটেলের সমস্ত অনুমতি দিয়েছে এই টিআরডিএ।
২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ২৫ বছর রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধানসভায় ডেপুটি স্পিকার পদে ছিলেন। ২০২২ সালে বগটুই গণহত্যার সময় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। ২০২৬ সালেও তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী করেছিল কিন্তু বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে ২৪ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন