ভরাডুবির জের, রদবদলের সম্ভাবনা বিজেপির অন্দরে

প্রথমেই সরানো হচ্ছে রাজ্যের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে।
ভরাডুবির জের, রদবদলের সম্ভাবনা বিজেপির অন্দরে
ফাইল চিত্র

২০০ আসন নিয়ে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে। এমনটাই মনে করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু তা না হওয়ায় এবার দলের সাংগঠনিক স্তরেও রদবদল করা ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে নেতৃত্ব। এমনটি সূত্রের খবর। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমেই সরানো হচ্ছে রাজ্যের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে। নতুন মুখ হিসাবে তবে কোনও বাঙালি হয়তো ওই পদে বসতে চলেছেন। রাজ্যের অস্থায়ী পর্যবেক্ষক হিসাবে কেন্দ্রীয় নেতা তরুণ চুঘ রাজ্যে এসেছেন। তিনিই এখন রাজ্যের সাংগঠনিক বিষয় তদারকি করবেন বলে রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।

সরানো হতে পারে রাজ্যের সহকারী পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন ও বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীকেও। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে অমিতাভ চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অন্তর্তদন্ত বলছে, সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। দিল্লি সূত্রে খবর, দিলীপ ঘোষকে রাজ্য সভাপতি পদেই রাখতে চাইছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে সভাপতি পদে আছেন দিলীপ। বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৬ বছরের বেশি এই পদে থাকতে পারবেন না তিনি।

গেরুয়া শিবিরের আগামী লক্ষ্য ২০২৪- এর লোকসভা নির্বাচন। গত লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে সেই আসন সংখ্যা ধরে রাখাই হল বিজেপির টার্গেট। তার জন্য ইতিমধ্যেই বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের কারণ খুঁজতে দলের অন্তর্তদন্ত শুরু হয়েছে। ভরাডুবির জন্য হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান-সহ অন্তত ১০টি জেলার জেলা সভাপতি পদে বদল ঘটতে চলেছে। এই জোনের পর্যবেক্ষককেও সরানো হতে পারে।

এবার রইল বিজেপির সাধারণ সম্পদক পদ। তাতেও রদবদলের সম্ভাবনা আছে। দলীয় সূত্র বলছে, ৫ জন সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ৩ জনকে সরানো হতে পারে। বিজেপির দুই সাংসদ সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো নিজেদের লোকসভা কেন্দ্রে সময় দেওয়ার পর কতটা বিজেপির সংগঠন দেখতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় থাকায় তাঁদেরও সরানো হতে পারে।সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিংকেও তাঁর পদ থেকে সারানো হতে পারে।

দিলীপ ঘোষ বলেন, 'বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যা নির্দেশ দেবেন সেই নির্দেশ মেনেই সাংগঠনিক পরিবর্তন করা হবে।' একুশের ভরাডুবির রিপোর্ট কেন্দ্রকে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in