TMC: সই-জাল কাণ্ডের জের! ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল

People's Reporter: শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা সই-জাল নিয়ে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর ১৫ মিনিট পরেই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করার কথা জানায় তৃণমূল।
সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ফাইল ছবি
Published on

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দুই বিধায়ককে বরখাস্ত করল তৃণমূল। এই দু’জন হলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকেও চিঠি দিয়ে একথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সই-জাল কাণ্ডের জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল বলে জানা গেছে।  

এদিন দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই দুই বিধায়কের নাম নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা সই-জাল নিয়ে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডি-কে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। এর ১৫ মিনিট পরেই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করার কথা জানান তৃণমূলের সহ-সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

বহিষ্কারের পরই দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সন্দীপন সাহা। তিনি বলেন, “১৯ তারিখ কালীঘাটের অফিসে যে অ্যাটেনডেন্স খাতায় সই করানো হয়েছিল তারই পাতা ছিঁড়ে জমা দিয়ে রেজুলেশনের কাগজ বলে দাবি করা হয়েছিল। এটাতো পুরোপুরি অনৈতিক। সেই কাজের প্রতিবাদ করেছি বলে দল বহিষ্কার করল। যারা অনৈতিক কাজ করে, দল তাদের সমর্থন করে। আর যারা নৈতিক কাজ করে, তাদের বহিষ্কার করে।“

উল্লেখ্য, সই-জাল কাণ্ড নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। একাধিক তৃণমূলের বিধায়কের বাড়িতে হানা দিয়েছে সিআইডি, জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক ব্যনার্জিকেও হাজিরার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কী এই ঘটনা? গত ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, তা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করবেন। এরপর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা জানানো হয় তৃণমূলের তরফে। সেই মর্মে দলের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভায়। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। কারণ, পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্য পদাধিকারীর নির্বাচন পরিষদীয়দলের বৈঠকেই করতে হয়। তৃণমূল তা করেনি। এরপর ১৯ মে কালীঘাটে ফের যে বৈঠক হয়, সেখানে পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করানো হয় বিধায়কদের। এই দিনের সই নিয়েই অভিযোগ ওঠে। কারণ ১৯ তারিখ বিধায়কদের পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবে সই করানো হলেও, বিধানসভায় জমা পড়া চিঠিটিতে তারিখ রয়েছে ৬ মে। সই নকল করার অভিযোগ উঠেছে।

সই-কাণ্ড নিয়ে তদন্তে নেমে চার তৃণমূল বিধায়ক চৌরঙ্গীর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলামের বাড়িতে গিয়েছে সিআইডি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সোমবার তলব করা হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার জন্য হাজিরা দেননি তিনি।

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in