যাঁরা মিথ‍্যার আশ্রয় নিচ্ছেন, অন‍্যায় আচরণ করছেন তাঁরাই নেতাজিকে স্মরণের ভান করছেন - মহম্মদ সেলিম

যাঁরা মিথ‍্যার আশ্রয় নিচ্ছেন, অন‍্যায় আচরণ করছেন তাঁরাই নেতাজিকে স্মরণের ভান করছেন - মহম্মদ সেলিম
সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিমনিজস্ব চিত্র

নেতাজিকে স্মরণ মানে আনুষ্ঠানিকতা নয়, তাঁর ভাবনা-আদর্শকে মানা। তৃণমূল-বিজেপি যা করছে সেটা নেতাজিকে স্মরণ নয়। নেতাজি আসলে উপলক্ষ্য, তাঁকে সামনে রেখে আত্মপ্রচার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-নরেন্দ্র মোদী। নেতাজির লেখনি, বক্তৃতা, জীবন সবকিছু দেশের সমস্ত মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন। যেমন তামিলনাড়ুর প্রত‍্যেক শহর-গ্রামে নেতাজির মূর্তি, তাঁর নামে রাস্তা রয়েছে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এই বছর নেতাজিকে বাংলা-কলকাতা কেন্দ্রিক করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম।

আলিমুদ্দিন স্ট্রীটে দলের রাজ্য দপ্তরের ওই সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম বলেন - নেতাজি বলতেন, সবথেকে নিকৃষ্টতম অপরাধ হলো অন‍্যায়ের সাথে আপোষ করা। নেতাজি আপোষহীন ছিলেন। আজকে যাঁরা মিথ‍্যার আশ্রয় নিচ্ছেন, অন‍্যায় আচরণ করছেন তাঁরাই নেতাজিকে স্মরণ করার ভান করছেন। ভারত সরকার বা রাজ‍্য সরকারের উচিত ছিল নেতাজির উক্তি, বক্তৃতামালা প্রকাশ করা। তাহলে আজকের প্রজন্ম তৎকালীন পরিস্থিতি, তাঁর আদর্শ-ভাবনাচিন্তা জানতে পারতেন।

কালকা মেলের নামবদল প্রসঙ্গে এদিন সিপিআই(এম) নেতা বলেন - কালকা মেলের নাম পাল্টে নেতাজি এক্সপ্রেস করা হলো। নেতাজির কি লেবেল এটা? গতবছর কলকাতা বন্দরের নাম পাল্টে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নামে রাখা হয়। এবং সেই বন্দরে নেতাজির নামে একটি ডক রাখা হয়। কার ওপরে কাকে রাখছে এঁরা?

তিনি আরও বলেন - ভিক্টোরিয়াতে নেতাজির যে গ‍্যালারি খোলা হয়েছে তা কিছুটা হলেও ভালো উদ্যোগ। লোকজন জানতে পারবেবে ওনার সম্পর্কে। কিন্তু আমরা চাইছি আমাদের সমাজে, রাজনীতিতে, অর্থনীতিতে, পরিকল্পনায় নেতাজির সম্প্রীতির, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ব‍্যবস্থা, স্বাবলম্বী হওয়া, আপোষহীন সংগ্রাম, ধর্মের সাথে রাজনীতিকে গুলিয়ে না ফেলার যে ভাবনা ছিল সেগুলো কার্যকর করা। তা না করে নেতাজিকে মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। মিউজিয়ামে সেগুলোই রাখা হয় যেগুলো আর প্রচলিত থাকে না। Netaji is a living legend.

এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন - UPA সরকারের আমলে আমরা সরকারকে বাধ্য করেছিলাম কলকাতার অর্থনীতি উন্নতি করার জন্য পূর্বের দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য করতে। নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর সেই বাণিজ্য আরো বাড়াতে 'Act East' বলে একটি স্লোগান চালু করেছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ জানলো না এই স্লোগানের আওতায় কী কী কাজ করা হয়েছে। মিডিয়াও এগুলো নিয়ে কোনো প্রশ্ন করে না। আমরা ভেবেছিলাম নেতাজির স্বপ্নের ভারত গড়ে তুলতে আজ হয়তো নতুন কিছু প্রকল্পের ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন ভিক্টোরিয়ার সভায় ওঠা ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি প্রসঙ্গে মহম্মদ সেলিম বলেন - মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আমাদের মতান্তর আছে ঠিকই। কিন্তু উনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। নেতাজিকে নিয়ে হওয়া অনুষ্ঠানে উনি যখন বক্তব্য রাখতে উঠছিলেন তখন দর্শকাসন থেকে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দেওয়া হলো। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। নেতাজির জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জয় শ্রী রাম স্লোগান? কারা রয়েছে দর্শকাসনে? এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়। নেতাজি ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলতেন। তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজে সব ধর্মের মানুষ ছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে সরকারি টাকায় জনসংযোগ বাড়াতে নিজেদের লোক এনেছে বিজেপি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কিছু না বলে চলে আসাটাও আমি সমর্থন করি না। তবে এটা ভালো লাগলো এই প্রথম উনি বললেন, সরকারি কর্মসূচিকে দলীয় কর্মসূচিতে যেন রূপান্তরিত করা না হয়, যা এতোদিন উনি নিজেই করে এসেছেন। আশা করি, বাকি যে ক'দিন ক্ষমতায় থাকবেন এই কথাটা মাথায় রাখবেন উনি।

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in