KMC: বিপজ্জনক বাড়ির তালিকা পুর ওয়েবসাইটে! পরিকল্পনা চলছে কলকাতা পুরসভায়

সব কিছু ঠিক থাকলে খুব দ্রুত শহরের বিপজ্জনক বাড়ির পূর্ণাঙ্গ তালিকা ওয়েবসাইটে দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই প্রথম শহরে কত বিপজ্জনক বাড়ি রয়েছে তা জানতে পারবেন শহরবাসী।
KMC: বিপজ্জনক বাড়ির তালিকা পুর ওয়েবসাইটে! পরিকল্পনা চলছে কলকাতা পুরসভায়
ছবি প্রতীকীফাইল ছবি সংগৃহীত

কলকাতার বিপজ্জনক বাড়ির তালিকা এবার থেকে পুরসভার ওয়বেসাইতে মিলবে! সূত্রের খবর, এমনটাই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। সব কিছু ঠিক থাকলে খুব দ্রুত শহরের বিপজ্জনক বাড়ির পূর্ণাঙ্গ তালিকা ওয়েবসাইটে দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই প্রথম শহরে কত বিপজ্জনক বাড়ি রয়েছে তা জানতে পারবেন শহরবাসী।

ভারতের অন্যতম প্রাচীন শহর কলকাতা। পার করেছে ৩০০ বছর। শহরের বিশেষ আকর্ষণ পুরনো বাড়ি। যা আজও কলকাতা শহরে প্রাচীন ঐতিহ্য। কিন্তু সেই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে মানুষের জীবনে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাড়ি ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু মানুষ। প্রাণও গিয়েছে। তারপর থেকেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে কলকাতার মত গ্রেড-এ সিটিতে এভাবে একের পর এক বাড়ি কিভাবে ভাঙছে? কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে একটি তালিকাও তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক বাড়ির। কিন্তু প্রচারের অভাবে সেই বাড়িগুলোতে এখন বসবাস বহু মানুষের। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেছেন বাসিন্দারা। তাই এবার সতর্কতা বাড়াতে পুরসভার বিপজ্জনক বাড়িগুলোর তালিকা পুরসভার ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

এতদিন কলকাতা শহরের বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে ধন্দ ছিলো। কিন্তু এই তালিকা প্রকাশ হলে খুব সহজেই জানা যবে কোন ওয়ার্ডে বা বোরোয় কতগুলি বিপজ্জনক বাড়ি রয়েছে বা তার ঠিকানা যেমন বিস্তারিত জানা যাবে, তেমনই কোনও পুরনো বাড়ি ভেঙে পড়লে সেটি বিপজ্জনক বাড়ির তালিকাভুক্ত ছিল কি না, তা জানতে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পুরকর্তাদের তথ্য হাতড়াতে হবে না। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দারা সেই বোর্ড খুলে ফেলে দেন। তাই ডিজিটাল আকারে টা লিপিবদ্ধ থাকলে বিপদের সময় হয়রানি কম হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপজ্জনক বাড়ির তালিকা প্রকাশ করেই হয়তো কলকাতা পুরসভা নিজেদের দায় সারতে চায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে শহর কলকাতায় অনেকবারই বাইরে থেকে দেখতে সুঠাম হলেও ভেতরে কঙ্কালসার অবস্থা। এক্ষেত্রে অভিযোগ জানানোর জন্য পুরসভার কোন নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ফোরাম নেই। এপর্যন্ত কলকাতা শহরে বাড়ি ভাঙার যে ঘটনা ঘটেছে তার বেশির ভাগটাই উত্তর ও মধ্য কলকাতায় ঘটেছে। আহিরীটোলা পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিট হেমেন্দ্র সেন স্ট্রিট বড়বাজার বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়েছে বাড়ি। এদের মধ্যে অনেক বাড়ি বিপদজনক তালিকায় ছিল না। কম বেশি তাদের বয়স প্রায় সত্তর ঊর্ধ্ব। তাই শুধু বিপজ্জনক বাড়ির তালিকা প্রকাশ করেই অতর্কিতে বাড়ি ভেঙে পড়া রোখা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োগ করতে হবে পুরসভার কঠোর আইন।

এক সময় শোনা গিয়েছিল বিধানসভায় পুরনো বাড়ি নিয়ে আইন আনা হবে। যদিও পুরনো বাড়ি নিয়ে আমি নানার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিলেন খোদ স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, অবিলম্বে পুরনো বাড়ি নিয়ে আইন প্রণয়ন করার প্রয়োজন আছে। এক্ষেত্রে বিধানসভার পক্ষ থেকে সর্বতোভাবে সাহায্য করা হবে কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম কে। কিন্তু তারপরেই মুখ্য প্রশাসক ঘোষণা করেন হাইকোর্টের অর্ডার অনুযায়ী পুরনো বা বিপদজনক বাড়ি বিষয়ে কাজ করবে কলকাতা পুরসভা। এজন্য কলকাতা হাই কোর্টে দ্বারস্থ হবেন মুখ্য প্রশাসক। কারণ পুরনো বা বিপজ্জনক বাড়ি সংস্কারের ক্ষেতের বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মতান্তর। তাই পুরসভা চাইলেও সেই কাজ সম্ভব হয়ে উঠছে না কোনভাবে।

উল্লেখ্য, গত পাঁচ বছর আগেও পুরসভার তালিকায় বিপজ্জনক বাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার। বছর ঘুরে গেলেও এখন সেই সংখ্যাটা একইরকম থেকে গেছে। শুধু মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। যদিও পুর কর্তাদের একাংশের কথায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতি বৃষ্টির জন্য যে সব বাড়িগুলি বিপজ্জনক ছিলো না সেগুলিও এখন বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। তাই পুর তালিকা আগামী দিনে বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দাদের প্রাণ কতটা বাঁচাতে পারবে টা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।

যদিও পুরসভার মতে সেই সংশয় দূর করতেই এই পরিকল্পনা। এর ফলে একাধিক উদ্দেশ্য সফল হবে বলে মনে করছেন পুরকর্তারা। বিপজ্জনক বাড়িগুলির ঠিকানা উল্লিখিত থাকার ফলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড, বরোর বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকবেন। সেক্ষেত্রে বাড়ির অবস্থা বুঝে তা খালি করার প্রয়োজন হলে বা বিপজ্জনক অংশ ভাঙার প্রয়োজন হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুলিশ-প্রশাসনের কাজ সহজ হয়ে যাবে।

তবে পুরসভার ওয়েবসাইট শুধু বাড়ির তালিকা থাকবে না বাসিন্দাদের তালিকাও যোগ করা হবে টা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয় নি।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in