

মাথায় বিপুল ঋণের বোঝা। সেই ঋণ মিটিয়ে বাড়তি আয় একপ্রকার দুষ্কর। তাহলে চলবে কী করে? চিন্তা বেড়েছে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। তবে শুধু তাঁর নয়, উদ্বেগ বেড়েছে পুরসভার কর্মীদেরও। মেয়র আর্থিক হাল দ্রুত ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন বটে। কিন্তু ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা কাটাতে প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে বন্ধ হল কলকাতা পুরসভার পেনশন।
বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হঠাৎই এমনটা জানানো হয়েছে। পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পাশাপাশি ঠিকা কর্মীরাও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। গত ৮-৯ মাস ধরে তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া রয়েছে। ভাঁড়ার শূন্য অবস্থায় কবে যে টাকা পাবেন, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের পর অবসর নেওয়া পুরকর্মীরা আপাতত তাঁদের পেনশন পাচ্ছেন না।
কেন পাচ্ছেন না, তার প্রধান কারণ অর্থাৎ আর্থিক সংকটের কথাও স্বীকার করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এই মুহূর্তে ২২ হাজার স্থায়ী কর্মী রয়েছেন কলকাতা পুরসভায়। তাঁদের বেতন দেয় রাজ্য। ২৬ হাজার অস্থায়ী কর্মীর পারিশ্রমিক দেয় পুরসভা। এই সব কর্মীদেরও বেতন আটকে রয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হয়। তাতে বিপুল ভোটে জয়ী হয় তৃণমূল। সর্বসম্মতিতে ফের মেয়র পদে বসেন ফিরহাদ হাকিম। তবে এই ঋণের বোঝা নিয়ে তিনি কখনওই লুকোছাপা করেননি। শপথ নেওয়ার দিনই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, কলকাতা পুরসভা বিপুল দেনার মধ্য দিয়ে চলছে। আর সেই দেনা মাথায় নিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসছেন। এই আর্থিক দৈন্যদশার মধ্যেই তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
দায়িত্ব নিয়েই অবশ্য সমস্যার সমাধানের জন্য একাধিক পদক্ষেপ করেছিলেন ফিরহাদ। রাজ্য সরকার যাতে ৭০০ কোটি টাকা দেয়, তার জন্য আবেদন জানান। পাশাপাশি, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের থেকেও ২০০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। এই দুইয়ে মিলেই বকেয়া পূরণ করে দেওয়া যাবে, এমনটাই পরিকল্পনা করেছিলেন মেয়র।
কিন্তু সুরাহা যে মেলেনি, বৃহস্পতিবারের নোটিশই সেটা বুঝিয়ে দিল। সবমিলিয়ে পুরসভার ভাঁড়ারে যে টান পড়েছে ভালোই, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন