বাবার স্বপ্নপূরণ করতেই IAS সেজেছিল দেবাঞ্জন !

বাবার স্বপ্নপূরণের গল্প করতে গিয়ে পরিবারকে জানিয়েছিল যে, সে আইএএস পরীক্ষা পাস করে বড় অফিসার হয়েছে। সেই খবর পাড়া-প্রতিবেশী,আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু মহলেও ছড়িয়ে পড়ে।
দেবাঞ্জণ দেব
দেবাঞ্জণ দেবছবি- সোশ্যাল মিডিয়া
Published on

বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে বড় আইএএস বা ডাবলুবিসিএস অফিসার হবে। ছেলেও বাবার সেই স্বপ্নের ডুব দিয়ে একবার ইউপিএসসি পরীক্ষাও দিয়েছিল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্যও না পেয়েও পরিবারকে সত্যিটা জানায়নি। উল্টে বাবার স্বপ্নপূরণের গল্প করতে গিয়ে পরিবারকে জানিয়েছিল যে, সে আইএএস পরীক্ষা পাস করে বড় অফিসার হয়েছে। সেই খবর পাড়া-প্রতিবেশী,আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু মহলেও ছড়িয়ে পড়ে। আর তা উপভোগ করতে মিথ্যা আইএস অফিসার সেজে নিজেকে সর্বত্র প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছে কসবার ভুয়ো ভ্যাকসিন ক্যাম্পের প্রধান অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেব।

আনন্দপুর থানা এলাকার মাদুরদহের বাসিন্দা ওই ধৃত দেবাঞ্জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আইএএসের প্রিলিমস পরীক্ষায় পাশ না করলেও পরিবারকে জানিয়েছিল যে, উত্তীর্ণ হয়েছে। নিজেকে আইএএস অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে অসংখ্য সরকারি অনুষ্ঠান,রক্তদান শিবির,সামাজিক অনুষ্ঠান,স্থানীয় কাউন্সিলরের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগদান করেছে দেবাঞ্জন। এভাবেই ভুয়ো পরিচয়কে হাতিয়ার করে পুলিশ, প্রশাসন, কলকাতা পুরসভা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে থাকে সে। বিনামূল্যে মাস্ক, স্যানিটাইজার বিতরণ করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভাবমূর্তি তৈরি করতে। নিজেকে পুরসভার যুগ্ম কমিশনার হিসেবে পরিচয় দেয়। শুরু হয় ভ্যাকসিন দেওয়া পর্ব।

এখন প্রশ্ন,এত টাকা দেবাঞ্জন জোগাড় করল কীভাবে? এখনও পর্যন্ত তদন্তকারীদের হাতে তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এসেছে। তারমধ্যে কলকাতা পুরসভার নামে বেসরকারি ব্যাংকে একটি একাউন্ট আছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কসবায় এক ব্যবসায়ীকে কমিউনিটি হল তৈরি করে দেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তার জন্য ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৩৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিল দেবাঞ্জন। অন্যদিকে, বেহালার এক ব্যক্তিকে পুরসভার বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১০ লক্ষ টাকা নেয়।

শুক্রবার লালবাজার জানিয়েছে,কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ডিসি ডিডি (৪)-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in