

● এ বছর আগেই ২১ জুলাই শহিদ মিনারে সমাবেশের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস।
● ওই সমাবেশে রাহুল গান্ধী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে কলকাতায় আনতে চাইছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।
● তৃণমূলের ২১ জুলাই কোথায় হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এ’বছর তৃণমূলের ২১ জুলাই কীভাবে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভোট পরবর্তী ডামাডোলে এখনও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। যদিও ২১ জুলাই নিয়ে ইতিমধ্যেই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। এর আগে প্রতিবছর আলাদা ভাবে ২১ জুলাই পালন করলেও রাজ্যে পালাবদলের বছরে আরও আঁটঘাট বেঁধেই ওইদিন শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে কংগ্রেস।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার আগেই জানিয়েছিলেন ২১ জুলাই কলকাতার শহিদ মিনারে তারা সমাবেশ করবেন। সেই লক্ষেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে রাজ্য কংগ্রেস। জানা যাচ্ছে ওইদিনের সমাবেশে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকে কলকাতায় আনবার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সম্মতি পাওয়া গেলে এই বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে।
এই প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ লড়াইয়ে যে কেউ কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। তবে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চকে কোনোভাবেই যোগদান মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হবেনা। এই মন্তব্যের মাধ্যমে কার্যত তৃণমূলকেই খোঁচা দিয়েছেন শুভঙ্কর সরকার। কারণ বিগত কয়েক বছরে তৃণমূলের ২১ জুলাই কর্মসূচীর মঞ্চ পরিণত হয়েছিল যোগদান মঞ্চে। যা নিয়ে একাধিকবার সমালোচনা করেছে কংগ্রেস।
প্রদেশ কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল কংগ্রেসের কর্মসূচি ‘হাইজ্যাক’ করেছে তৃণমূল। কারণ যে সময় ২১ জুলাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল তখন রাজ্যে তৃণমূলের কোনও অস্তিত্বই ছিল না। রাজ্যে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূলের জন্মের পর থেকে প্রতিবছর ২১ জুলাই কলকাতার ধর্মতলা অঞ্চলে ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন রাস্তায় এই সমাবেশ করা হত। যদিও এবছর এই সমাবেশ করার জন্য ওই রাস্তা পাওয়া যাবে কিনা বা এখনও সেখানে সমাবেশ করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গত ২ জুন ধর্না কর্মসূচীর জন্য রানি রাসমনি রোড চেয়েও পায়নি তৃণমূল। পরিবর্তে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করে ওয়াই চ্যানেলে ধর্নার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যে কর্মসূচি এড়িয়ে গেছিলেন সিংহভাগ তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদ। সুতরাং ২১ জুলাই তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও সমাবেশের ডাক দেওয়া হলেও তা কোথায় হবে তা স্পষ্ট নয়।
যদিও রাজনৈতিক মহলের অনুমান, যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ ডাকা ধর্নায় খুব বেশি সংখ্যক মানুষ আসেননি তাই ২১ জুলাইকে সামনে রেখে আরও একবার নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করতে পারে তৃণমূল। সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডাক দিলে এখনও কত মানুষ জড়ো হবেন তারও একটা পরীক্ষা হতে পারে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন