UP: ২০ বছর ধরে মাসে ৪৫০ টাকা মজুরি - অবিলম্বে বর্ধিত হারে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ এলাহাবাদ হাইকোর্ট-এর

কোনো শ্রমিককে মাসে ৪৫০ টাকা করে মজুরি দেওয়ার অর্থ সংবিধানের ধারা ২৩ লঙ্ঘন। এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি এই বিষয়ে তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে এই ঘটনাকে নিশ্চিতভাবে বাধ্যতামূলক শ্রমের ঘটনা হিসেবে বলা যায়।
UP: ২০ বছর ধরে মাসে ৪৫০ টাকা মজুরি - অবিলম্বে বর্ধিত হারে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ এলাহাবাদ হাইকোর্ট-এর
এলাহাবাদ হাইকোর্টফাইল ছবি সংগৃহীত

কোনো শ্রমিককে মাসে ৪৫০ টাকা করে মজুরি দেওয়ার অর্থ সংবিধানের ধারা ২৩ লঙ্ঘন। এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি এই বিষয়ে তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে এই ঘটনাকে নিশ্চিতভাবে বাধ্যতামূলক শ্রমের ঘটনা হিসেবে বলা যায়।

শনিবার এই প্রসঙ্গে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক আবেদনকারীর পিটিশনের ভিত্তিতে ডিরেক্টর, রিজিওনাল ইন্সটিটিউট অফ অপথ্যালমোলজি, এম ডি আই হসপিটাল, প্রয়াগরাজ-কে নির্দেশ দিয়েছে, ওই সংস্থাকে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুসারে ন্যূনতম মজুরি দিতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে, আবেদনকারীর প্রাথমিক নিয়োগের তারিখ ১৫ জুন ২০০১ থেকে বর্তমান তারিখ পর্যন্ত তাঁর ন্যায্য মজুরি তাঁকে আগামী চার মাসের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে।

ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩-এর বিধি অনুসারে শোষণ, মানব পাচার এবং জবরদস্তি শ্রম গ্রহণের বিরুদ্ধে অধিকার প্রদান করে। এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্টে মজুরির বিষয়ে এক রিট পিটিশন দাখিল করেন তুফালি আহমেদ আনসারি নামক এক ব্যক্তি। এই পিটিশনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি পঙ্কজ ভাটিয়া ডিরেক্টর, রিজিওনাল ইন্সটিটিউট অফ অপথ্যালমোলজি, এম ডি আই হসপিটাল, প্রয়াগরাজ-কে অবিলম্বে আবেদনকারীর মজুরি সংক্রান্ত সমস্যা মিটিয়ে দেবার নির্দেশ দেন। আদালত জানিয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০০১-এর আগে থেকে আবেদনকারী ওই সংস্থায় কর্মরত। সুতরাং ২০১৬ সালের পাশ হওয়া রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুসারে তাঁর স্থায়ীকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তুফালি আহমেদ আনসারির পিটিশন অনুসারে তিনি ২০০১-এর ১৫ জুন থেকে ডিরেক্টর, রিজিওনাল ইন্সটিটিউট অফ অপথ্যালমোলজি, এম ডি আই হসপিটাল, প্রয়াগরাজ-এ চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। ওই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁকে মাসিক ৪৫০ টাকা হিসেবে প্রাথমিক মজুরি দেওয়া হয়।

ওই আবেদনে আরও জানানো হয়, রাজ্য সরকারের ২০১৬ সালের নিয়ম অনুসারে তিনি স্থায়ীকরণের আওতায় পড়ার পরেও এখনও তাঁর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি উক্ত সংস্থা।

আবেদনকারীর আইনজীবী এবং রাজ্য সরকারের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর আদালত এই পিটিশন মঞ্জুর করে এবং জানায়, উত্তরপ্রদেশ সরকারের নির্দেশ অনুসারে, কোনো ব্যক্তির মাসিক ৪৫০ টাকা মজুরি রাজ্য সরকার স্বীকৃত ন্যূনতম মাসিক মজুরি নয়।

এই প্রসঙ্গে আদালত জানায় - “এই আদালত বুঝতে অপারগ যে সরকার কীভাবে সরকারি আদেশের (জিও) জোরে চতুর্থ শ্রেণীর পদের এক কর্মচারীর ২০ বছর ধরে শোষণ চালিয়ে যেতে পারে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে সরকারি কৌঁসুলি যা জানিয়েছেন। যদি সরকারি আইনজীবীর কথা মেনে নিতে হয়, তাহলে এই আদালতও রাজ্য দ্বারা শোষিত চতুর্থ শ্রেণীর ব্যক্তিদের উপেক্ষা করার দায়ে দোষী হবে।"

- with Agency Input

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in