Tripura: হিংসা, সন্ত্রাস বরদাস্ত করা হবে না - সীতারাম ইয়েচুরি

ত্রিপুরায় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এই ঘটনা দেশের সংবিধানের নির্লজ্জ লঙ্ঘন। এটাই BJPর আসল চরিত্র। মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান CPIM নেতা সীতারাম ইয়েচুরি।
Tripura: হিংসা, সন্ত্রাস বরদাস্ত করা হবে না - সীতারাম ইয়েচুরি
দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে সীতারাম ইয়েচুরি, মাণিক সরকারনিজস্ব চিত্র

ত্রিপুরায় এই ধরণের হিংসা এবং সন্ত্রাস বরদাস্ত করা হবেনা। এভাবে ত্রিপুরার মানুষকে দমানো যাবেনা। এটা বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ত্রিপুরায় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এই ঘটনা আমাদের দেশের সংবিধানের নির্লজ্জ লঙ্ঘন। এটাই বিজেপির আসল চরিত্র। মঙ্গলবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

এদিন ইয়েচুরি বলেন, গত ৩ বছর ধরে ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার চালাচ্ছে। বিজেপির চিরকালীন অভ্যেস নির্বাচনের আগে বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং নির্বাচনের পর তার কোনোটাই পালন না করা। এর বিরুদ্ধে সিপিআই(এম), বামফ্রন্ট প্রতিবাদের প্রথম সারিতে। যে প্রতিবাদের ফলে ত্রিপুরা জুড়ে বিজেপি বিরোধী বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। এই কারণেই ত্রিপুরায় সিপিআই(এম)-এর ওপর আক্রমণ নেমে আসছে। ২০১৮ থেকে এখন পর্যন্ত বারবার সিপিআই(এম) নেতা কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন।

ত্রিপুরায় বাম কর্মীদের আক্রমণের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি যে অপরাধীরা চিহ্নিত হয়েছে তাদের শাস্তি দেওয়া হোক এবং আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। যে সব সম্পত্তি বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ এবং বাম কর্মীদের বিরুদ্ধে সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা মাণিক সরকার বলেন, ভারতের সংবিধান ত্রিপুরায় কাজ করছে না। রাজ্যের শহর এবং গ্রামীণ এলাকায় নির্বাচনে ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে বাম প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে সর্বত্র রিগিং করা হয়েছে। একটি সংসদীয় কেন্দ্রে ১৯৫২ কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচনের নির্দেশ দিতে হয়েছিলো।

সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য আরও বলেন, সংসদের ভেতরে বাইরে বিরোধীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ত্রিপুরায় বিরোধীদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বিরোধী বিধায়কদের আমাদের ১৬জন বিধায়ক। কিন্তু আমাদের বিধায়কদের নিজেদের কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হচ্ছেনা। গত ৪২ মাসে আমাকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণের কথা বলেন মাণিক সরকার। তিনি এদিন বলেন, ত্রিপুরায় প্রেসের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। কমপক্ষে ৩৫ জন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। ৫টি সংবাদমাধ্যমের অফিসে আক্রমণ হয়েছে। আইনজীবীদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। সাধারণ মানুষের বাড়িঘরের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, লুটপাট চালানো হয়েছে। এমন একটা ভাব দেখানো হচ্ছে যেন ত্রিপুরা দেশের বাইরে। এগুলো কী হচ্ছে?

আমাদের পক্ষ থেকে বারবার এই আক্রমণ বন্ধ করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কেউ কারোর কথা শুনছে না। ভারতের অন্য কোনো রাজ্যে বিরোধীদের ওপর এরকম আক্রমণ হয়না।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করিনা ত্রিপুরার এই ঘটনার কথা ভারত সরকার জানেনা। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। নির্বাচনের আগে বিজেপি যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো তার কোনোটাই পালন করেনি। সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে বিজেপি প্রতারণা করেছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা আক্রান্ত হচ্ছি। আমরা যেহেতু বিজেপির ব্যর্থতার বিরুদ্ধে, জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে লাগাতার মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি তাই বারেবারে আমাদের ওপর আক্রমণ নেমে আসছে।

চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে এদিন মাণিক সরকার বলেন, ত্রিপুরাকে ফ্যাসিস্ট শক্তির ল্যাবরেটরী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একদলীয়, ডিক্টেটরশিপ, ফ্যাসিস্ট শক্তির ল্যাবরেটরী। এরা ত্রিপুরায় সফল হলে সারাদেশে একই কাজ করবে। তাই এই সমস্যা শুধু ত্রিপুরার ভাবলে ভুল হবে। এই সমস্যা ভারতের গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের সমস্যা। আমরা ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি এই ফ্যাসিস্টিক কাজকর্ম বন্ধ হোক।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in