ধর্ষণের প্রমাণ পেতে 'টু-ফিঙ্গার টেস্ট'-র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি সুপ্রিম কোর্টের

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধরণের পরীক্ষা চূড়ান্ত অমানবিক এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
ধর্ষণের প্রমাণ পেতে 'টু-ফিঙ্গার টেস্ট'-র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি সুপ্রিম কোর্টের
গ্রাফিক্স - সুমিত্রা নন্দন

কোনও মহিলা ধর্ষিতা হয়েছেন কিনা, তাঁর প্রমাণ পেতে দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসা 'টু-ফিঙ্গার টেস্ট' প্রক্রিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধরণের পরীক্ষা চূড়ান্ত অমানবিক এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি হিমা কোহলির ডিভিশন বেঞ্চে একটি ধর্ষণের মামলার শুনানি ছিল। শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, মহিলাদের উপর দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই প্রক্রিয়াটি আক্রমণাত্মক, চূড়ান্ত অবৈজ্ঞানিক এবং পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। একজন মহিলা যখন বলে, শুধুমাত্র যৌন সক্রিয় হওয়ার কারণে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে, তখন তাঁকে বিশ্বাস করা হয় না। সেক্ষেত্রে এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ অমানবিক মনোভাবকে মান্যতা দেয়।

একজন ধর্ষিতার উপর আর কখনও যাতে এই ধরণের পরীক্ষা না করা হয়, তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদেশের অনুলিপি সমস্ত রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের কাছে পাঠানো উচিত বলে জানিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির অধীনে থাকা সমস্ত সরকারী এবং বেসরকারী মেডিকেল কলেজের পাঠ্যক্রম থেকে 'টু-ফিঙ্গার টেস্ট'-র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং এর অধ্যয়নের উপকরণগুলি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও ধর্ষিতার উপর এই ধরণের পরীক্ষা করা হলে তাঁকে অসদাচরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হবে। একজন ধর্ষিতাকে যখন এই ধরণের পরীক্ষা করানো হয় তখন সেটা তাঁর জন্য মর্যাদাহানিকর এবং এর মাধ্যমে পুনরায় তাঁকে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।

তাই, কেন্দ্র এবং সমস্ত রাজ্য সরকারকে এই সংক্রান্ত গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালকে এই নির্দেশিকার ব্যাপারে সচেতন করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রসঙ্গত, আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে ধর্ষণের পরীক্ষার জন্য 'টু-ফিঙ্গার টেস্ট'-র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। ২০১২ সালে দিল্লিতে নির্ভয়া-কাণ্ড হওয়ার পরই ২০১৩ সালে শীর্ষ আদালত এই পরীক্ষাকে নারীদের জন্য 'গোপনীয়তা লঙ্ঘন' এবং 'মর্যাদাহানিকর' আখ্যা দেয়। কিন্তু তারপরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ষিতাদের উপর বহাল রয়েছে এই প্রক্রিয়া।

ধর্ষণের প্রমাণ পেতে 'টু-ফিঙ্গার টেস্ট'-র উপর নিষেধাজ্ঞা জারি সুপ্রিম কোর্টের
গুজরাট সফরে থেকেও কেন দুর্ঘটনাস্থলে না গিয়ে স্ট্যাচু অফ ইউনিটিতে গেলেন মোদী? উঠছে প্রশ্ন

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in