কৃষক বিরোধী আইন লাগু করেছে কেন্দ্র, প্রত্যাহার করতে হবে কেন্দ্রকেই: সংযুক্ত কিষান মোর্চা

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার দাবি, তিন কৃষি আইন বাতিল করা বর্তমান কৃষি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এই দাবি পূরণের জন্য সংযুক্ত কিষান মোর্চা কখনওই আদালতের দ্বারস্থ হননি।
কৃষক বিরোধী আইন লাগু করেছে কেন্দ্র, প্রত্যাহার করতে হবে কেন্দ্রকেই: সংযুক্ত কিষান মোর্চা
ফাইল চিত্র ছবি - নিউজক্লিক

কৃষক আন্দোলন ভাঙতে এবার চরমপন্থা নিল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় প্রতিমমন্ত্রীর ছেলের গাড়ি চাপা দিয়ে এবং গুলি করে চার জন কৃষককে হত্যা করার ঘটনার অপব্যাখ্যা শুনিয়ে কার্যত কৃষক আন্দোলন ভেস্তে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেন কেন্দ্রের দুই শীর্ষ আইন আধিকারিক। কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল ও সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহেতা এদিন বলেন, লখিমপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে আর কোনও প্রতিবাদে অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। কৃষকদের প্রতিবাদ বন্ধ করে দেওয়া দরকার।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার সঙ্গে কোনও রকম সম্পর্ক নেই, এমন একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে যন্তর মন্তরে কৃষক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি প্রার্থনা করেছে। সেই আবেদনকে কাজে লাগিয়েই কেন্দ্রের আইনজীবীরা বিক্ষোভ আন্দোলন বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তবে আদালতের সওয়াল-জবাবের সময় লখিমপুরের ঘটনার কোনও প্রসঙ্গ তোলেননি আইনজীবীরা।

ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন, কৃষি আইন তো স্থগিত রেখেছে আদালত। বিক্ষোভ আন্দোলনের প্রয়োজন কী? আবেদনকারীর কৌশলীকে বিচারপতির প্রশ্ন, কৃষি আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। তাহলে আন্দোলন-বিক্ষোভ কেন? বিষয়টা দেখবে আদালত। রাজস্থান হাইকোর্ট থেকে সংশ্লিষ্ট মামলার সব নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানি হবে একুশে অক্টোবর।

এদিকে পৃথক একটি মামলায় বিচারপতি এস কে কল ও এম এম সুন্দরেশের আর একটি বেঞ্চ সংযুক্ত কিষান মোর্চার ৪৩ জনের কাছে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লি সীমান্তে রাস্তা আটকে বিক্ষোভের বিরোধিতা করা হয়েছে। আইনজীবীর তুষার মেহতার আবেদনের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার দাবি, তিন কৃষি আইন বাতিল এবং এমএসপিকে স্বীকৃতি দিয়ে কেন্দ্রীয় আইন তৈরি করা বর্তমান কৃষি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এই দাবি পূরণের জন্য সংযুক্ত কিষান মোর্চা কখনওই আদালতের দ্বারস্থ হননি। এসকেএম মনে করে, কৃষি আইন কেন্দ্রের কৃষক বিরোধী নীতির প্রতিফলন। এই আইন কেন্দ্রকে প্রত্যাহার করতে হবে। এই বক্তব্য জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.