কৃষি আইন নিয়ে আলোচনার দাবীতে অনড় বিরোধীরা, দিনের মত মুলতুবি রাজ্যসভার অধিবেশন

কৃষি আইন নিয়ে আলোচনার দাবীতে অনড় বিরোধীরা, দিনের মত মুলতুবি রাজ্যসভার অধিবেশন
রাজ্যসভার অধিবেশনরাজ্যসভা টিভি থেকে সংগৃহীত

কৃষি আইন নিয়ে আলোচনার দাবীতে বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে দিনের মত মুলতুবি করে দেওয়া হল রাজ্যসভার অধিবেশন। মঙ্গলবার কংগ্রেস, বাম, ডিএমকে, আরজেডি, তৃণমূল সহ সমস্ত বিরোধীরা একযোগে অবিলম্বে কৃষি আইন নিয়ে আলোচনার দাবী তোলে। দফায় দফায় রাজ্যসভা মুলতুবি ঘোষিত হবার পর অবশেষে এ দিনের মত অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু। আগামীকাল সকাল ৯টায় ফের বসবে রাজ্যসভার অধিবেশন।

এদিন প্রথমবার অধিবেশন মুলতুবি করা হয় ৪০ মিনিটের জন্য। সকাল সাড়ে দশটায় অধিবেশন ফের শুরু হবার পর বিরোধীরা আলোচনার দাবীতে অটল থাকলে আবারও সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করা হয়। এরপর বেলা সাড়ে এগারোটায় অধিবেশন শুরু হলেও বিরোধীরা কৃষি আইন নিয়ে আলোচনার দাবীতে অনড় থাকেন। আবারও বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান। বেলা সাড়ে বারোটায় অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীরা ফের কৃষি আইন নিয়ে আলোচনার দাবীতে সরব হন। এরপরেই দিনের মত অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করে চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু।

এদিন বিরোধী দলগুলোর পক্ষে ধারা ২৬৭ অনুসারে এদিনের জন্য ‘সাসপেনশন অফ বিজনেস’-এর দাবী জানানো হয়। তাঁদের দাবী ছিলো দিল্লি সীমান্ত অঞ্চলে কৃষকরা প্রায় দু’মাস ধরে যে আন্দোলন চালাচ্ছেন আগে সেই বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।

এই বিষয়ে চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু জানান, এখন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ সূচক আলোচনার সময়। সদস্যরা তাতে অংশগ্রহণ করুন এবং মতামত দিন। তাছাড়া কৃষক আন্দোলনের বিষয়ে সরকার এবং কৃষকদের মধ্যে বহুবার আলোচনা হয়েছে।

এদিন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ বলেন – দিল্লির সীমান্ত অঞ্চলে কৃষকরা গত দু’মাস ধরে অবস্থান করে আন্দোলন চালাচ্ছেন। এই বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা প্রয়োজন।

সিপিআইএম সাংসদ এলারাম করিম বলেন – আন্দোলনস্থল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। জল সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডিএমকে-র পক্ষ থেকে বলা হয় গত দু’মাস ধরে প্রবল ঠান্ডায় কৃষকরা রাস্তায় বসে আছেন। এখনই এই বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

আরজেডি-র মনোজ ঝা বলেন – সংসদে অবশ্যই এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

যদিও কোনো বিরোধী সাংসদের আবেদনেই সাড়া দেননি চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু। তিনি জানান – রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের জন্য ১০ ঘণ্টা বরাদ্দ করা আছে। তারপর কৃষি আইন বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এরপরেই কংগ্রেস, বাম সহ সমস্ত বিরোধীরা রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট করেন।

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in