এবার সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির - অনুদানের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! তদন্তের নির্দেশ ফড়নবিশের

People's Reporter: মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরের অভিযোগ, সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে প্রাপ্ত অনুদান থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এই অভিযোগের পরই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে অনুদানের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!
সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে অনুদানের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!ফাইল ছবি
Published on

এবার মুম্বাইয়ের বিখ্যাত সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলো। সাম্প্রতিককালে রাম মন্দির, বদ্রীনাথ মন্দির সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলিতে অনুদান নিয়ে যেভাবে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠছে, সেদিকে নজর রেখে তড়িঘড়ি এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।

সম্প্রতি এক জনসভা থেকে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরে অভিযোগ করেন, সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে প্রাপ্ত অনুদান থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এই অভিযোগের পরই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এই অভিযোগের পর রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

চার দিন আগে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মন্দিরের সংগৃহীত অর্থের বিস্তারিত তথ্য জমা দেন। তারপরই মন্দিরের অনুদান নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরের মন্দিরের নথিপত্র যাচাই করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই প্রতিনিধিদলে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তথা শিন্ডেসেনার নেতা সদা সর্বঙ্কর ছিলেন। তিনি এই চুরির জন্য আগের সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের দায়ী করেছেন। মন্দিরের বর্তমান ট্রাস্টিরা কোনও ধরনের অনিয়মের সাথে যুক্ত তা অস্বীকার করেছেন তিনি। এই চুরির ঘটনায় নয়জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এক সিনিয়র সরকারি আধিকারিক জানান, "উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (ACS) অসীম গুপ্তকে এই অভিযোগের তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আইন ও বিচার বিভাগ এবং নগর উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি যৌথ কমিটি সম্ভবত এই তদন্ত পরিচালনা করবে।"

উল্লেখ্য, ভগবান গণেশের উদ্দেশ্যে তৈরি হওয়া এই সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির মুম্বাইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ধর্মীয় তীর্থস্থান এবং প্রতি বছর এখানে লক্ষ লক্ষ ভক্ত বিপুল অনুদান প্রদান করে থাকেন। এই বিপুল বার্ষিক আয়ের কারণেই এর আর্থিক অব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অভিযোগগুলো ব্যাপক রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি করেছে মহারাষ্ট্রে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাম মন্দির, মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান মন্দির, মধ্যপ্রদেশের মা বগলামুখী মন্দির, বদ্রিনাথ মন্দির, তিরুপতি মন্দির সহ একাধিক বিখ্যাত ধর্মীয় তীর্থস্থানগুলিতে অনুদান-চুরি সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে।

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in