সাভারকার ও বুলবুল পাখির প্রসঙ্গ নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ নেটিজেনদের, মিমে ছয়লাপ সোশ্যাল মিডিয়া

বুলবুল পাখির পিঠে চেপে আন্দামান সেলুলার জেল থেকে ভারতে বেরিয়ে আসতেন সাভারকার! - বিজেপি শাসিত কর্ণাটকে অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যক্রমে যুক্ত হয়েছে এই ধরণের লেখা।
বিনায়ক দামোদর সাভারকার
বিনায়ক দামোদর সাভারকার ছবি - সংগৃহীত

বুলবুল পাখির পিঠে চেপে আন্দামান সেলুলার জেল থেকে বেরিয়ে ভারতে আসতেন সাভারকার! বিজেপি শাসিত কর্ণাটকে অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যক্রমে এই লেখা দেখে চক্ষু চড়কগাছ আমজনতার। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। মিমের বন্যায় ভেসে গিয়েছে নেট দুনিয়া।

সম্প্রতি, কর্ণাটকের স্কুলগুলির কন্নড় পাঠ্যবইতে কে টি গাট্টির একটি লেখা যুক্ত করা হয়েছে। যার শিরোনামে রয়েছে 'সময়কে যাঁরা জয় করেছেন'। সেই নিবন্ধে সাভারকারকে নিয়ে লেখা রয়েছে। বলা হয়েছে আন্দামান সেলুলার জেলের যে সেলে তাঁকে রাখা হয়েছিল সেখানে একটি চাবি ঢোকানোর মতও ফাঁক ছিল না। কিন্তু সেই সেলে প্রতিদিনই আসত বুলবুল পাখি। সাভারকার সেই পাখিটির পিঠে চেপে জেল থেকে বেরিয়ে মাতৃভূমি (ভারতে) ঘুরে আসতেন।

এই নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন নেটিজেনরা। একাংশের প্রশ্ন, তাহলে আর জেল থেকে বেরোনোর জন্য এতবার ব্রিটিশের কাছে মুচলেকা দিতে গেলেন কেন!

জনৈক এক ব্যক্তির কথায়, "স্বাধীনতা আন্দোলনে আরএসএসের ভূমিকা খুবই হতাশাব্যঞ্জক ও নিন্দনীয়। সুতরাং ঐ ইতিহাস পড়লে ছাত্র ছাত্রীদের রোষের মুখে পড়বে। তার থেকে রুপকথার গল্পের মতো তাদের নেতাকে বুলবুলি বা পায়রার পিঠে চাপিয়ে ভারত ভ্রমণ করানোটাই পিঠ বাঁচানোর শ্রেষ্ঠ পন্থা।"

আরও একজন লিখেছেন, "আরএসএস মানেই বিকৃত ইতিহাস। তা বলে এইরকম গাঁজাখুরী গল্প, ভাবা যায় না।"

আবার অন্য এক ব্যক্তির কথায়, "স্বাধীনতা আন্দোলনে বিজেপির বাপ-ঠাকুরদা অর্থাৎ আরএসএস ও সংঘ পরিবারের ভূমিকা লিখতে হলে এইসবই লিখতে হবে। নাহলে সাদা খাতা জমা দিতে হবে।"

পাঠ্যক্রমে সাভারকারকে নিয়ে এহেন লেখা যুক্ত করা নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও। তাঁদের মতে, ইতিহাস বিকৃতির পাশাপাশি এই ধরণের অবৈজ্ঞানিক, ভ্রান্ত বিষয় পাঠ্যসূচীর অন্তুর্ভুক্ত করে পড়ুয়াদের মূর্খ তৈরী করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাভারকারের বুলবুলির পিঠে চড়ার বিষয়টি নিয়ে যারা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন তাঁদেরই মেধা ও বুদ্ধি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কর্ণাটকের সিলেবাস রিভিশন কমিটির প্রধান রোহিত চক্রতীর্থ।

উল্লেখ্য, কর্ণাটকের পাঠ্যসূচীতে লাগাতার হিন্দুত্ববাদী প্রচারের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। পাঠ্যসূচী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে টিপু সুলতানের লড়াইয়ের ইতিহাস। বাদ দেওয়া হয়েছে ভগৎ সিং, কর্ণাটকের সমাজ সংস্কারক বাসবান্না, নারায়ণগুরু, দ্রাবিড়ীয় আন্দোলনের কিংবদন্তি পেরিয়ারকেও। পরিবর্তে দশম শ্রেণীর কন্নড় পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাসে যুক্ত হয়েছে আরএসএস নেতা হেগড়েওয়ারের ভাষণ।

বিনায়ক দামোদর সাভারকার
চোর, জোচ্চোরদেরই দলের সম্পদ বলা হচ্ছে! - মমতার বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক মন্তব্য করে শোকজ মন্ত্রী

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in