করোনা কালে প্যারোলে মুক্তি - তিহার জেলে ফেরেননি প্রায় ৩ হাজার বন্দী

গত বছর কোভিড মহামারীর সময় জেলের মধ্যে ঠাসাঠাসি এড়াতে জেল কর্তৃপক্ষকে এমার্জেন্সি প‍্যারোলে বহু বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
করোনা কালে প্যারোলে মুক্তি - তিহার জেলে ফেরেননি প্রায় ৩ হাজার বন্দী

প্রায় তিন হাজার সাজাপ্রাপ্ত আসামী 'নিখোঁজ' দিল্লির তিহার জেল থেকে। এঁদের প্রত‍্যেককেই গত বছর এমার্জেন্সি প‍্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তারপর আর জেলে ফেরেননি তাঁরা। দিল্লি পুলিশের সহায়তায় জেল কর্তৃপক্ষ তাদের সন্ধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিচারাধীন বন্দি এবং সাজাপ্রাপ্তদের অধিকাংশই হেপাটাইটিস বি অথবা সি, কিডনির সমস‍্যা, এইচআইভি, ক‍্যান্সার, হাঁপানি, যক্ষার মতো সমস‍্যায় ভুগছে। তাই গত বছর কোভিড মহামারীর সময় জেলের মধ্যে ঠাসাঠাসি এড়াতে জেল কর্তৃপক্ষকে এমার্জেন্সি প‍্যারোলে বহু বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লিতে মূলত তিহার, রোহিনি এবং মান্দোলী জেলের বন্দিদের প‍্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বিচারাধীন ‌বন্দী ও সাজাপ্রাপ্ত আসামী মিলিয়ে তিহার জেল থেকে মোট ৬,৭৪০ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে ৩,৪৬৮ জন বন্দির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি আর।

তিন জেল মিলিয়ে মোট ১,১৮৪ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে প‍্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। জেল‌ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এদের আট সপ্তাহের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, পরে একাধিকবার এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। অবশেষে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চের মধ্যে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ১১২ জন আত্মসমর্পণ করেননি। তাদের সন্ধানের জন্য জেল কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবারের কাছেও গেলে তারা বাড়িতে নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।"

একই ভাবে ৫,৫৫৬ বিচারাধীন বন্দিকে প‍্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এঁরা প্রত‍্যেকেই তিহার জেলে বন্দি ছিলেন। এদের মধ্যে প্রায় ২,২০০ জন নির্দিষ্ট সময় পরে জেলে ফিরেছেন এবং ৩,৩০০ জনেরও বেশি বিচারাধীন বন্দি এখনও ফেরেনি।

আত্মসমর্পণ না করা বন্দিদের সন্ধান পেতে দিল্লি পুলিশের সাহায্য চেয়েছে জেল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই বন্দিদের তালিকা, ঠিকানা দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

গত বছর মার্চ মাসের শেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দেওয়ার পর বন্দিদের মুক্তির মাপকাঠি নির্ধারণের জন্য সব রাজ‍্যই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। দিল্লিতে এই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি হিমা কোহলি। এছাড়াও ছিলেন তিহার জেলের ডিরেক্টর জেনারেল সন্দীপ গোয়েল এবং দিল্লির তৎকালীন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি (স্বরাষ্ট্র)/অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সত্য গোপাল।

"নিখোঁজ" বন্দীদের‌ বিষয়ে ডিজি গোয়েল জানিয়েছেন, "বিচারাধীন বন্দি এবং সাজাপ্রাপ্তদের একটি তালিকা দিল্লি পুলিশকে দিয়েছি আমরা। বেশ কয়েকজন বিচারাধীন বন্দি আদালত থেকে নিয়মিত জামিন নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত হয়েছি আমরা।"

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in