

অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করলেন রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)। আজ বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি নিজেই একথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির যে ১০ জন সাংসদ আছে, তার দুই-তৃতীয়াংশ (৭ জন) বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। এই ঘোষণা আপ প্রধান এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাঘব চাড্ডা আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বলেন, দলটি একসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিল্লিতে ক্ষমতায় এসেছিল, তারা সৎ রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, "যে আপ-কে আমি আমার রক্ত-ঘাম দিয়ে লালন করেছি এবং আমার যৌবনের ১৫টি বছর দিয়েছি, সেটি তার নীতি, মূল্যবোধ এবং মূল নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এখন এই দলটি দেশের স্বার্থে নয়, বরং নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করে... বিগত কয়েক বছর ধরে আমি অনুভব করছিলাম যে আমি ভুল দলে সঠিক মানুষ হিসেবে আছি। তাই, আজ আমি ঘোষণা করছি যে আমি আপ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছি এবং জনগণের কাছাকাছি আসছি।"
তাঁর সাথে এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আপ সাংসদ সন্দীপ পাঠক ও অশোক মিত্তাল। তাঁরাও আপ ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও যাঁরা আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন - স্বাতী মালিওয়াল, প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্ত এবং বিক্রম সাহনি।
চাড্ডা বলেন, "আমরা রাজ্যসভায় আপ এর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য ভারতীয় সংবিধানের বিধান মেনে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
আপ-এর মোট দশ জন সাংসদ ছিলেন সংসদের উচ্চকক্ষে। অধিকাংশই পাঞ্জাব থেকে। সাত জন চলে গেলে আর তিনজন থাকবেন। তাঁরা হলেন - বলবীর সিং সিচেওয়াল, সঞ্জয় সিং এবং এন ডি গুপ্তা।
উল্লেখ্য, বেশ কয়েকদিন ধরেই আম আদমি পার্টির সাথে রাঘব চাড্ডার সংঘাত চলছিল। সম্প্রতি রাঘব চাড্ডাকে রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বিজেপি ঘনিষ্ঠতার খবর পেয়েই আপ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে খবর। এরপর থেকেই জল্পনা চলছিল যে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন চাড্ডা। অবশেষে সেই জল্পনা সত্যি হল।
রাঘব চাড্ডাদের আপ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন কেজরিওয়াল। একটিই লাইন লিখেছেন তিনি— ‘‘বিজেপি আবার পঞ্জাবের মানুষকে ঠকাল।’’
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন