Pegasus Project: চরবৃত্তি বিজেপির অন্দরেও! অবিশ্বাসের বাতাবরণ - ড্যামেজ কন্ট্রোলে প্রধানমন্ত্রী

এখন পরিস্থিতি এমনই যে, মন্ত্রী এবং সরকারের মধ্যেই একটা সন্দেহ, অবিশ্বাসের পাশাপাশি ক্ষোভ এবং সতর্কতা অবলম্বনের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
Pegasus Project: চরবৃত্তি বিজেপির অন্দরেও! অবিশ্বাসের বাতাবরণ - ড্যামেজ কন্ট্রোলে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীফাইল ছবি

নিজের ঘরেও যে পেগাসাসের মাধ্যমে চরবৃত্তি বিস্তার ঘটেছে, সেই রিপোর্ট সামনে আশায় স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। যদিও ফোন ট্যাপ করে চরবৃত্তির অভিযোগ প্রথম থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ যে কতটা গুরুতর, সেই দিকটি ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে।

দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপর নজরদারি চালানো হয়েছে। এমন একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। তাতেই অন্য মন্ত্রীদের অস্বস্তি এবং আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে যাদের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে নামের যে তালিকা পাওয়া গিয়েছিল, সেটাই যে যথেষ্ট নয়, এই ঘটনা সেটাই প্রমাণ করছে। সেই তালিকায় ছিলেন বিরোধী নেতা, সাংবাদিক, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার, সমাজকর্মী-সহ অনেকেই।

এখন পরিস্থিতি এমনই যে, মন্ত্রী এবং সরকারের মধ্যেই একটা সন্দেহ, অবিশ্বাসের পাশাপাশি ক্ষোভ এবং সতর্কতা অবলম্বনের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। প্রকাশ্যে কোনও নেতা-মন্ত্রী মুখ খুলছেন না, প্রতিক্রয়াও দিচ্ছেন না। কিন্তু এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই হবে, যেখানে কেন্দ্র এ ধরনের চরবৃত্তি করেনি বলে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাই শুরু হয়েছে ড্যামেজ কন্ট্রোলের পালা।

মঙ্গলবার পেগাসাস তদন্তে দেখানো হয়েছে, ফোন ট্যাপিংয়ের নিশানায় ছিলেন কর্ণাটকের বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। অভিযোগ, ২০১৯ সালে জনতা দল (সেক্যুলার) এবং কংগ্রেসের জোট সরকারের টালমাটাল অবস্থা চলাকালীন স্বয়ং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামীর ব্যক্তিগত সচিব, কংগ্রেসের নেতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার সচিবের ফোন ট্যাপ করা হয়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়ার দেহরক্ষীর ফোনে নজরদারি চলে। এমনকী, উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বরের ফোনও হ্যাক করা হয়। ঘটনাচক্রে ওই সময় কর্ণাটকে কংগ্রেস জোট সরকারের পতন ঘটে।

বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে মঙ্গলবার ভোকাল টনিক দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর লক্ষ্য সাংসদদের মনোবল বাড়ানো এবং যেভাবেই হোক ধোঁয়াশা দূর করা। মরিয়া মোদি সংসদদের খুশি করতে তুলে ধরছেন বিজেপির ঐতিহ্য, শক্তি এবং ২০১৯ সালে ভোটের ফলাফল। তাঁর দাবি, ‘মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। বিপুল জনাদেশ পেয়ে আমরা সরকারে এসেছি। যে সব দল মাত্র দু’তিনটি রাজ্যে ক্ষমতায় সীমাবদ্ধ, তাদের মিথ্যা প্রচারে কেউ বিশ্বাস করবে না। বিজেপি বহু সংগ্রাম করেছে।'

কংগ্রেসকে নিশানা করে মোদির বক্তব্য, ‘কংগ্রেস এখনও বিশ্বাস করতেই পারছে না যে তারা ক্ষমতায় নেই। নিজেদের এখনও ক্ষমতাসীন মনে করে তারা।’ সাংসদদের প্রতি তাঁর বার্তা, ‘ভালো কাজই আমাদের শক্তি। সরকারের সব ভালো প্রকল্প আরও বেশি করে প্রচার করুন। ভ্যাকসিন ও কোভিড মোকাবিলায় সর্বশক্তি নিয়োগ করুন। বিরোধীদের কথায় কম দেওয়ার দরকার নেই।’

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in