ঝাঁসিঃ ৪ সন্ন্যাসিনীকে ট্রেন থেকে জোর করে নামানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ABVP সদস্য, ক্ষুব্ধ বিজয়ন

গত শুক্রবার ধর্মান্তরীকরণ সন্দেহে কেরলের চার সন্ন্যাসীনিকে জোর করে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয় চার এবিভিপি কর্মী
ঝাঁসিঃ ৪ সন্ন্যাসিনীকে ট্রেন থেকে জোর করে নামানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ABVP সদস্য, ক্ষুব্ধ বিজয়ন
ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর ঝাঁসি স্টেশনে সন্ন্যাসিনীরা

উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে চার সন্ন্যাসিনীকে ট্রেন থেকে বলপূর্বক নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত এবিভিপি সদস্যদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত শুক্রবার ধর্মান্তরীকরণ সন্দেহে কেরলের চার সন্ন্যাসীনিকে জোর করে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয় চার এবিভিপি কর্মী। কোনোরকম ধর্মান্তরীকরণে তাঁরা জড়িত নন, রেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে করা তদন্তে তা প্রমাণিত হওয়ার পরই তাঁদের যেতে দেওয়া হয়েছিল।

আজ অমিত শাহ এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন, "ঝাঁসিতে সন্ন্যাসিনীদের হয়রানির ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন অমিত শাহকে চিঠি লিখেছিলেন এর আগে। চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, "এই ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি এবং তার ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রাচীন ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করে। কেন্দ্র সরকারের উচিত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা। আমি সেই সমস্ত ব‍্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য আপনার হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করছি, যারা সংবিধান স্বীকৃত স্বতন্ত্র অধিকারের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করেছে।"

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ কেরল ক্যাথলিক বিশপস কাউন্সিলের মুখপাত্র ফাদার জ‍্যাকব জানিয়েছেন, "সংবিধান আমাদের যে কোনও জায়গায় যাওয়ার, যে কোনও কিছু পরার স্বাধীনতা দেয়। যা ঘটেছে তা খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে আঘাত করেছে। এটি মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। সন্ন্যাসিনীদের পোশাক পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী একটি ধর্মীয় পোশাক পরেন এবং সর্বত্র ঘোরাঘুরি করার স্বাধীনতা পান। আমরাও তাই করি।"

গত ১৯ মার্চ ওই চার সন্ন্যাসিনী হরিদ্বার-পুরী উৎকল এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করছিলেন। ট্রেনের ভেতরে‌ রেকর্ড করা ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও, যা ভাইরাল হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে ওই মহিলাদের বেশ কিছু ব‍্যক্তি ঘিরে রেখেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশের পোশাক পরে রয়েছেন। ভিডিওতে একজন ব‍্যক্তিকে সন্ন্যাসিনীদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যাচ্ছে, "নেতাগিরি দেখাবেন না। চলুন ম‍্যাডাম। জলদি নিজেদের জিনিসপত্র নিন, নীচে নামুন।" অপর একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ওই মহিলারা ঝাঁসি স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

ঝাঁসির রেল পুলিশ সুপার নইম খান মনসুরি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "এবিভিপি-র কিছু সদস্য ছিলেন যারা ঋষিকেশের একটি প্রশিক্ষণ শিবির থেকে উৎকল এক্সপ্রেসে ঝাঁসি যাচ্ছিলেন। চারজন খ্রিস্টান মহিলা একই ট্রেনে দিল্লির হযরত নিজামুদ্দিন থেকে ওড়িশার রাউরকেলা যাচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন সন্ন্যাসীনি ছিলেন এবং বাকি দু'জন প্রশিক্ষণরত। এবিভিপি-র সদস্যরা সন্দেহ করেছিলেন অন্য দুই মহিলাকে ধর্মান্তরীকরণের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন সন্ন্যাসিনীরা। এই সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁরা RPF-কে খবর দেয়, যাঁরা রেল পুলিশকে জানায় বিষয়টা। এবিভিপি সদস্যরা ধর্মান্তরীকরণ সম্পর্কে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন। আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। জানা যায় অন্য দু'জন মহিলা ওড়িশার রাউরকেলার বাসিন্দা এবং প্রশিক্ষণরত ছিলেন। তাঁদের সার্টিফিকেট থেকে জানা যায় তাঁরা জন্মগত খ্রিস্টান। কোনো ধর্মান্তরের বিষয় ছিল না এখানে।‌ আমরা ওই চারজনকেই ওড়িশায় তাদের গন্তব্যে পাঠিয়েছি।"

যদিও এই ঘটনায় জড়িত এবিভিপি সদস্যদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in