যা করেছেন তা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়: সুপ্রিম কোর্টে আশারাম বাপুর জামিনের আবেদন খারিজ

আশারাম বাপু তাঁর জামিনের আবেদনে জানিয়েছিলেন, শরীর এবং আত্মাকে এক রাখার জন্য কমপক্ষে ৬ সপ্তাহের একটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার প্রয়োজন তাঁর। জেলে সেই চিকিৎসা পাচ্ছেন না তিনি।
যা করেছেন তা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়: সুপ্রিম কোর্টে আশারাম বাপুর জামিনের আবেদন খারিজ
আশারাম বাপুফাইল ছবি

আপনি যা অপরাধ করেছেন তা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। স্বঘোষিত গডম‍্যান আশারাম বাপুর অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে একথা বললো সুপ্রিম কোর্ট।

নিজের আশ্রমে ১৬ বছর বয়সি এক নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন আশারাম বাপু। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা নেওয়ার জন্য দুই মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি, যা সুপ্রিম কোর্ট আজ খারিজ করে দেয়। আদালত জানিয়েছে, জেলেই তাঁকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা দেওয়া হবে।

বিচারপতি ইন্দিরা ব‍্যানার্জি বলেন, "এই ধরণের পরিস্থিতিতে দুঃখিত, সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি মোটেও সাধারণ অপরাধ নয়। আপনি জেলেই আপনার সমস্ত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পাবেন। জেলে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া কোনো সমস্যার ব‍্যাপার নয়। আমরা জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেব যাতে আপনাকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।"

এই মামলার শুনানিতে ইন্দিরা ব‍্যানার্জির সাথে বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি ভি রামসুব্রমনিয়ান এবং বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী।

আশারাম বাপু তাঁর জামিনের আবেদনে জানিয়েছিলেন, তাঁর শরীর এবং আত্মাকে একসাথে রাখার জন্য কমপক্ষে ৬ সপ্তাহের একটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার প্রয়োজন তাঁর। জেলে সেই চিকিৎসা পাচ্ছেন না তিনি। তার জন্য উত্তরাখণ্ড যেতে হবে তাঁকে।

পুনরায় অপরাধ করার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, "আমার বয়স এখন ৮৫ বছর। আমি কী এই বয়সে আবার অপরাধ করতে পারি? আমি মুক্ত হতে চাই।"

২০১৮ সালে যোধপুরের একটি আদালত স্বঘোষিত এই গডম‍্যানকে দোষী সাব্যস্ত করে। আইপিসি, জুভেনাইল জাস্টিস অ‍্যাক্ট এবং পকসো আইনের একাধিক ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

একই অভিযোগে আশারাম বাপুর দুই সহকারীর প্রত‍্যেককে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। আরো দুইজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যোধপুর আদালতে মামলার বিচার চলাকালীন অাশারামের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়া নয়জনের ওপর হামলা করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in