

নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভের পিছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করলেন সে রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর। সম্প্রতি ওই অঞ্চল থেকে কয়েকজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের সাথে পাকিস্তানের যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। সেই প্রসঙ্গ তুলেই মন্ত্রীর দাবি, নয়ডার বিক্ষোভে পাক-যোগের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তরপ্রদেশের নয়ডা। নয়ডার সেক্টর ৬২ এবং ফেজ ২-তে বিক্ষোভের সূত্রপাত হলেও মুহূর্তের মধ্যে তা গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। পথে নামেন প্রায় ৪৫ হাজার শ্রমিক। শহরের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পঞ্চলগুলি সহ মোট ৮০টি জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল বিক্ষোভ। পুরো শহরকে অচল করে দিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। উত্তরপ্রদেশের সাথে দিল্লির যোগাযোগের মূল রাস্তাগুলি স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন তাঁরা।
কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। যানবাহন ভাঙচুর করা, বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। পুলিশের দিকেও ইট পাটকেল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।
শ্রমিক বিক্ষোভের পর সোমবারই রাজ্য সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে। সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা বৃদ্ধির কথাও জানানো হয়। গৌতমবুদ্ধ নগরের জেলাশাসক মেধা রূপম মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সরকার ঘোষিত নয়া বেতন ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
তবে সরকারের এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি, সরকার যে পরিমাণ বেতন বৃদ্ধির কথা বলেছে, তাতে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। তাঁদের আরও দাবি, কারখানার গেটের সামনে সরকার ঘোষিত বেতনের বৃদ্ধির হারের তালিকা টাঙাতে হবে।
এই দাবিতে মঙ্গলবার সকালে নয়ডার সেক্টর ৮০-তে নতুন করে অশান্তির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। সমস্ত ঘটনায় ৬৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রাজ্য সরকারের দাবি, গ্রেফতার হওয়া ৬৬ জনের মধ্যে ৪৫ জনই শ্রমিক নন। এটি পুরোপুরি পরিকল্পিত একটি চক্রান্ত। শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে রাজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির ছক কষা হয়েছিল। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলাকে ভেঙে দেওয়ার একটা চেষ্টা করা হয়েছিল।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন