কোনো দলিত বা OBC শ্রেণীর কেউ কখনো RSS প্রধান হয়না কেন? তীব্র কটাক্ষ সিদ্দারামাইয়ার

তিনি বলেন, ‘ছাত্রপরিষদের সদস্যরা পুলিশের সামনে চাড্ডি পুড়িয়েছে। তাতে কী হয়েছে? আমরা আরএসএস-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সর্বত্র চাড্ডি পোড়াবো’
কোনো দলিত বা OBC শ্রেণীর কেউ কখনো RSS প্রধান হয়না কেন? তীব্র কটাক্ষ সিদ্দারামাইয়ার
গ্রাফিক্স - সুমিত্রা নন্দন

বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে 'চাড্ডি' বিতর্কের মাঝে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-কে নিশানা করেছেন কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, 'আরএসএস প্রধানের পদে কেন কোনদিন দলিত বা অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষ বসানো হয়নি?'

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে গত সপ্তাহে। ‘শিক্ষায় গৈরিকিকরণের’ প্রতিবাদে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী বিসি নাগেশের বাড়ির বাইরে খাকি শর্টপ্যান্ট পুড়িয়েছে জাতীয় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন, জাতীয় ছাত্র পরিষদের (NSUI) সদস্যেরা। যে খাকি শর্টপ্যান্ট ২০১৬ সালের আগে প্রায় ৯০ বছর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের উর্দির অংশ ছিল।

ছাত্র পরিষদের খাকি শর্টপ্যান্ট পোড়ানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, দলের ছাত্র সংগঠনের ওই কর্মসূচিকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া। গত রবিবার, ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘ছাত্রপরিষদের সদস্যরা পুলিশের সামনে চাড্ডি পুড়িয়েছে। তাতে কী হয়েছে? আমরা আরএসএস-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সর্বত্র চাড্ডি পোড়াবো’।

এরপর মঙ্গলবার আবার আরএসএস-এর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া। হুবলিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, 'আমি প্রথম থেকে বলে আসছি, আরএসএস একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন নয়। কোনো দলিত, ওবিসি বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো সদস্য কি কখনো সংঘ চালক হয়েছেন? চাড্ডিরা আর কি করতে পারে? তারা শুধু চাড্ডির কাজ করে। চাড্ডিরা চাড্ডির কাজ করে।'

গত রবিবার, সিদ্দারামাইয়া রাজ্যের সর্বত্র চাড্ডি পোড়ানোর ডাক দেওয়ার পর তাঁর বাড়িতে এবং কংগ্রেসের বিভিন্ন কার্যালয়ে অন্তর্বাস পাঠাতে শুরু করেছে আরএসএ এবং বিজেপি কর্মীরা। তার পরিপেক্ষিতেই মঙ্গলবার আরএসএস-এর প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সিদ্দারামাইয়া।

জানা যাচ্ছে, কর্নাটকের মান্ড জেলার আরএসএস কর্মীরা ইতিমধ্যেই অন্তর্বাস সংগ্রহ করা শুরু করে দিয়েছেন। জাতীয় কংগ্রেসের বিভিন্ন কার্যালয়ে সেই সংগৃহীত অন্তর্বাস পাঠানো হচ্ছে। তাদের দাবি, চাড্ডি পুড়িয়ে যদি আরএসএস-এর বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রতিবাদ জানাতে পারে, তাহলে তারাও সেই চাড্ডির জোগান দিয়ে সিদ্দারামাইয়ার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাবে।

এদিকে, আরএসএস এবং চাড্ডি নিয়ে সিদ্দারামাইয়ার মন্তব্যের পরিপেক্ষিতে মুখ খুলেছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোমাই। মঙ্গলবার তিনি জানান,'কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়ার কাছে অন্য কোনও বিষয় নেই, তাই তিনি এই ধরনের কথা বলছেন। কর্ণাটকের মানুষ এই সব বিষয় ভালোভাবে দেখছেন। তাঁর উচিত, রাজ্যের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা।'

এদিকে, কর্ণাটকের শিক্ষামন্ত্রী বিসি নাগেশ দাবি করেছেন, 'আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, সেই লক্ষ্যেই পাঠ্যপুস্তক ইস্যুকে রাজনীতিকরণ করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস।'

আবার এই ইস্যুতে কংগ্রেস তথা সিদ্দারামাইয়াকে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। তিনি বলেছেন, ‘সিদ্দারামাইয়া এবং কংগ্রেসের চাড্ডি ঢিলে হয়ে গিয়েছে। তাদের চাড্ডি ছিঁড়ে গিয়েছে। তাই তারা এখন চাড্ডি পোড়ানো শুরু করেছে। উত্তর প্রদেশে তাদের চাড্ডি হারিয়ে গিয়েছে। চামুন্ডেশ্বরীতে সিদ্দারামাইয়া তাঁর চাড্ডি লুঙ্গি সব খুইয়েছেন। এর জন্য়ই তিনি সংঘের চাড্ডি পোড়ানোর চেষ্টা করছেন’।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন চামুন্ডেশ্বরী আসনের বিধায়ক ছিলেন সিদ্দারামাইয়া। তবে, ২০১৮ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে জেডি(এস)-এর জিটি দেবগৌড়ার বিরুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন।

চাড্ডি বিতর্কে আবার সিদ্দারামাইয়াকে একহাত নিয়েছেন বিজেপি নেতা চালাবাড়ি নারায়ণস্বামী। তিনি বলেছেন, ‘সিদ্দারামাইয়া যদি চাড্ডি পোড়াতে চান, তবে তিনি নিজের বাড়ির ভিতরে পোড়ান। আমি এসসি মোর্চার সমস্ত জেলা সভাপতিদের বলেছি, তাদের চাড্ডি পাঠিয়ে সিদ্দারামাইয়াকে সাহায্য করতে। তবে, তার আগে আমি সিদ্দারামাইয়াকে বলব দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে। কারণ চাড্ডি পোড়ালে বায়ু দূষণ হবে। আমি কখনই ভাবিনি সিদ্দারামাইয়া এই স্তরে নেমে যাবেন’।

কর্ণাটকে স্কুল পাঠ্যে আরএসএস প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ারের বক্তৃতা অন্তর্ভুক্তি এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী, সমাজ সংস্কারক এবং সাহিত্যিকদের লেখা বাদ দেওয়ার পরেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন কর্ণাটক সরকার বিরুদ্ধে 'শিক্ষায় গৈরিকিকরণের’ অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।

কোনো দলিত বা OBC শ্রেণীর কেউ কখনো RSS প্রধান হয়না কেন? তীব্র কটাক্ষ সিদ্দারামাইয়ার
Survey: 'সাম্প্রদায়িক বিভাজনকারী' বিতর্ক বন্ধ করার সময় এসেছে, একটা বড় অংশের মানুষের মত

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in